সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

আল হাজরে আসওয়াদ (ছয়)


যুগে যুগে হাজরে আসওয়াদ কারো চোখে ইর্ষার কারণঃ

হাজরে আসওয়াদ ক্কাবা ঘর থেকে দুই বার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথম বার নেয় কারামতীরা। ২৯০ হিজরী সনে কামামাতীরা সিরিয়ার ব্যপক জনসংখ্যাকে বিভ্রান্ত করে সেখানে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ঘটাতে সক্ষম হয়।এক পর্যায়ে সেখানে তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেয়।কারামতী শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ফেরকা বা ভাগ। কারামাতী সম্প্রদায় এরা মুসলমান দাবীকরে বটে কিন্তু তাদের আকীদা বিশ্বাস সম্পূর্ন ইসলাম পরিপন্থী। যেমন এরা আখিরাত বিশ্বাস করেনা। এরা বিশ্বাস করে, বেহেস্ত দোযখ দুনিয়াতেই। আখেরাতে শাস্তি-পুরস্কার বলতে কিছু নেই। এরা ইসলামের হারাম হালালকে অস্বীকার করে। ব্যভিচার ও মদপানে উতসাহিত করে। তারা মনে করে, মানুষকে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিই করেছেন ভোগ-বিলাসের জন্য এবং ইসলামের হারাম হালালের বিষয়টি অবান্তর(নউযুবিল্লাহ)্। এরপর ও মুসলমানদের ধোকা দিতে এরা নিজেদেরকে মুসলমান দাবী করে। প্রকৃতপক্ষে এরা হিন্দু, খৃস্টান ও ইহুদীদের চেয়ে ও জঘন্য, ছদ্মবেশী ভয়ংকর। আব্দুল্লাহ এবং মাইমুন নামে দু’জন আরব এ মতবাদের উদ্ভাবক। কোন আরব দেশ থেকে তৃতীয় হিজরী শতকে এদের উত্থান শুরু। তবে এই মতবাদের মূল জনক একজন খৃষ্টান যাজক। ইহুদীদের সমর্থন ও সহযোগিতাও রয়েছে এদের পিছনে। কারো মতে ইরানের এক বড় অংশ এই কারামতী মতবাদের অনুসারী। ৩১১ হিজরী সনে এরা বসরা ও কুফা শহর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ চালিয়ে শহর দু’টিকে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করে। আবু তাহের নামের এক কুখ্যাত দস্যুকে তারা সে সময় ক্ষমতায় বসিয়ে মক্কা মুয়াজ্জিমাকেও দখলে নিতে সক্ষম হয়েছিল এই কারামাতিরা। আবুতাহেরের বাহিনী হাজ্বিদের মালামাল লুটের পাশাপাশি ক্কাবাঘরের দেয়ালে স্থাপিত পবিত্র হাজরে আসওয়াদ পাথরটি ৩১৭ হিজরী সনেলুট করে বাহরাইনে নিয়ে তাদের নিজের উপাসনালয় “আত ডাইরায়” লাগায় যাতে হাজীরা হজ্জ করতে মক্কা শরীফ না যায়। হাজরে আসওয়াদ লুটের ঘটনায় বিশ্বের মুসলমানরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বাহরাইনের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠি ২২বছর ঐ পাথর নিজেদের কাছে রেখে দেয়। অবশেষে ৩৩৯ হিজরীতে খলীফা ফাতেমীর মধ্যস্থতায় হাজরে আসওয়াদ পাথর পুনরায় মক্কায় নিয়ে আসা হয়। কারামতিরা হাজরে আসওয়াদ খুলে নেয়ার সময় এরক দফা ক্ষতি সাধন করে আবার ফেরত দেয়ার সময় একটি বস্তায় করে কুফা নগরীর একটি জুমার মসজিদে ডিলিদিয়ে হাজরে আসওয়াদ ফেলে যায়, যার কারণে এই হাজরে আসওয়াদ টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আল্লাহ্ ওদের উপর নাজিল করেন কঠিন শাস্তি। ইতিহাস বিদের মতে এই তাহেরর হয়েছিল করুন মৃত্যু। জীবিত আবস্হয় তার গোস্তে পোকাধরে গিয়েছিল। আর কারামাতী সম্প্রদায়ের উপর হালাকু খান মৃত্যুদূত হিসেবে আভির্ভুত হয়। হালাকু খানের আক্রমনে কারামতিদের অধীকাংশ অনুসারী নিহত হয়। যারা থাকে তারা ইরানে পালিয়ে যায়। আজ ইরানের বেশীর ভাগ জনগন এই কারামর্তী আকীদার অনুসারী।

পরবর্তীতে মুহম্মদ আলী নামে মিশরের ক্ষমতা দখল কারী এক জালীম ১৮১৭ ঈসায়ী সনে হাজরে আসওয়াদ আবার ক্কাবা ঘর থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সে বেশীদিন রাখতে পরেনি কারণ তখন ছিল আটোমেন সাম্রাজ্যের আধিপত্য। আটোমেন সাম্রাজ্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ও তাকে ধরে মৃত্যু দন্ডদেয়া হয়।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে