আশেক মাশুকের প্রেমের গোপন পদ্যপত্র!!!


অপ্রত্যাশিত হঠাৎ এক কুহেলিকায় প্রচ্ছন্ন ছিল আমার কবিতা
তিমির সে ঘোর অমানিশা
ঢেকেই ছিল, ছিল না কোন দিশা।

ভাবিনি এভাবে ঘোর কাটবে
তব মুবারক নির্দেশে একটা কিছু আসবে।
এ কী শুধুই একটা ‘বই’
না খোদায়ী সুধা সবই!
আমি তো এখন জীবন্মৃত
অনুভূতিরা আজ সব ধুলায় ধূসরিত
অনুভবেরা আজ হাহাকার করে
‘কবিতা’ কিভাবে সেথায় বিরাজ করে?

কিন্তু কবিতা!
সে তো মামদূহর দয়ায়; মামদূহ’র দেয়া সহজাত প্রবণতা,
এখনো অন্তরে গুমরে মরে
লুকিয়ে লুকিয়ে তাও কথামালা রচনা করে!
তবে প্রকাশের ওই ঘনঘটা
কোথায় সেই অন্তরের যোগ্যতা?

কিন্তু অন্তর যে এবার অন্তরুদ্ধতাকে
আঘাত করল-
খাদিম ‘হাসান ইমাম’ একটি ‘বই’ দিল।
এ যে শুধু একখানা বই না-
এ যে অভূতপূর্ব শাহযাদা আক্বার স্নেহের পরশ!

অনুপম মুগ্ধতার আবেশ
অন্তরের দগ্ধ অনলে প্রশান্তির বারি অহর্নিশ!
অপূর্ব এক গোলাপ, অন্তর মরুভূমি সাহারায়
বারবার ভেজায়
ঝরে যাওয়া এক একটা পাতা।
এ কী সেই মহান দয়ার আলোকবর্তিকা?
যা ফিরিয়ে দিল আমার কবিতা!
হে শাহযাদা আক্বা!
আমার অনেক দিনের ইচ্ছা
আপনার দিকে শুধুমাত্র একটিবার তাকাই
অক্ষিগোলকের সব বিচরণ কেন্দ্র খুলে দেই
কিন্তু ভীষণ লজ্জা!
আমাকে পরাস্ত করে
এই অযোগ্য চোখ
কী করে আপনাকে দর্শন করে?

হে শাহযাদা আক্বা!
কবিতার ভুবনে কত কবিতা
রচেছি আপন মনে
আপনার আবির্ভাবেরও আগে।
খিলগাঁও চৌরাস্তায়
বসে থেকে রিকশায়
তাকিয়ে বিশাল নীল আকাশে,
খুঁজেছি আপনি আর কত দূরে?

আকাশের ওই নীল বেলাভূমি
সাথে বেহেশতী চন্দ্রচ্ছবি
পৃথিবী নীরব নিথর!
রহমতের বারিধারা অতিসত্বর
যেন না হয় নির্ঝর।
আপনারই কারামতে
দয়া, ইহসানে, তোফায়েলে
অন্তরে জেগেছে বারবার আরজি।
অতি শীঘ্র যেন শুনি
শাহযাদা আক্বার আগমন ধ্বনি!

হে শাহযাদা আক্বা!
তব আবির্ভাবের পূর্বেই
করেছেন অপূর্ব দয়া,
দিয়েছেন ঈমান, আশা আরজি
বিকশিত করেছেন শুভক্ষণের মু’জিযা!
আজ দীর্ঘদিন পরে
মগজ মনো-বিকৃতির এই ঘোরে
আবির্ভাবের পূর্বেই ঈমান আনার সেই কাহিনী
উচ্ছ্বসিতভাবে জ্বল জ্বল করে ওঠে!

হে শাহযাদা আক্বা!
আপনার অবস্থানের সামনে
খুঁজে ফিরি কী করে-
লুকাই নিজেকে
বিশাল এক বপু
রূহানিয়তের নেই এক বিন্দু
পূর্ণ আলোকচ্ছাটার
বিপরীতে ঘোর এক অমানিশা
শুধুই লজ্জা! লজ্জা! আর লজ্জা!

হে শাহযাদা আক্বা!
‘হাসান ইমাম’ দিয়েছিল ‘বই’
পড়েছি তার সবই
অনেক দিন আগেই
তবে মনে হয়নি ওটা একটা বই শুধু;
অনুভবে জেগেছে ও আপনার করুণা মধু!
ভেবেছি ও আমি অনুক্ষণ চুষব
সেতো মহান এক আলোকবর্তিকা!
যা ফিরিয়ে দিল আমার কবিতা।

হে শাহযাদা আক্বা!
কবিতার ভাষায়
কতটুকু বলা যায়?
যখন অন্তরের প্রতিটি অনুভবে
তাকাই আপনার দিকে চুপে চুপে,
তব দর্শনে অব্যক্ত শিহরণ জাগে,
নফছের সাগরে
হাবুডুবু খাচ্ছি; সে উপলব্ধি জাগে
তাৎক্ষণিক মনে হয় ফিরে আসি
যাতে অন্তত একটি বার আপনায় দেখতে পারি।
নফসানিয়াতের কলুষতায় নয়
পরিশুদ্ধির পবিত্রতায়!

হে শাহযাদা আক্বা!
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার
দরদী স্নেহের কোলে জন্ম আমার
কিন্তু কুচক্রী ছেলেধরা
কিংবা সমঝের দীনতা, পারিপার্শ্বিকতা
অথবা অমোঘ নিয়তির নির্মম ধারা
ঠেলে দিয়েছে আমায়

যোজন যোজন দূরে!
সেখান থেকে আজি এ পরাজিত মুহূর্তে
আপনার কথা বার বার মনে পড়ে!
দু’ঠোটের বারি দিয়ে
একটিবার মাত্র কথা বলার সুযোগ মিলেছে
কিন্তু মানসপটে
আর অন্তরের অনুভবে
একটি মিনতি জানাই তব করজোরে,
যদি বা হয় দয়া
কোন কারণ ছাড়া
মামদূহ আক্বার সকাশে
সুপারিশ যদি করেন মায়া ভরে
হতভাগা, হতদরিদ্র, হতচ্ছাড়া অধম আরিফের তরে!

কবি: আশেকে মামদূহ ও আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম (আরিফ)

সম্মানিত পাঠক! ভেবে দেখুন মাশুকের প্রতি কতটুকু ইশক ও মুহব্বতে গরক হলে এমন কবিতা লিখতে পারেন। কি মন্তব্য করবেন এ প্রেমের কবিতা পাঠ করে!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+