আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুশ শুহুরিল আযম শরীফ মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে- বাংলাদেশের সরকারের জন্য যা করণীয়


ঈমানদার ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভিত্তিতে যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যেসব আক্বীদা বা সুধারণা পোষণ করতে হবে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে যে, উনাকে সবার থেকে ও সবকিছু থেকে বেশি মুহব্বত করতে হবে, এমনকি নিজের জীবন অপেক্ষা বেশি মুহব্বত করতে হবে। যেমন এ প্রসঙ্গে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
النبى اولى بالمؤمنين من انفسهم.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিন মুসলমানদের নিকট তাদের জান বা জীবন অপেক্ষা সর্বাধিক প্রিয়।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬)
অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لايؤمن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده والناس احمعين وفى رواية من نفسه وماله.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউই ততক্ষন পর্যন্ত মু’মিন তথা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত সে তার পিতা-মতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ অর্থাৎ আহলিয়া (স্ত্রী)- পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশি, জ্ঞ্যাতী-গোষ্ঠী সকলের থেকে বেশি মুহব্বত না করবে। আরেক রেওয়ায়েতে বর্ণিত রয়েছে, তার ধন-সম্পদ এবং তার জীবন অপেক্ষা বেশি মুহব্বত না করবে।”
আরো বর্ণিত রয়েছে-
ولد من لولاه ماخلق الوجود ولا يصور والد ولا مولود
অর্থাৎ “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না হলে কায়িনাতের কিছুই সৃষ্টি হতো না। সৃষ্টি হতো না কোন পিতার এবং না কোনো সন্তানের।” (ইবনু নুবাতা)
অতএব, একজন ঈমানদার পুরুষ কিংবা মহিলা তার পিতা-মাতা অথবা অন্য কাউকে যতখানি মুহব্বত করবে তার চেয়ে অবশ্যই বেশি মুহব্বত করতে হবে যিনি কুল-কায়িনাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। উনাকে বেশি মুহব্বত না করা পর্যন্ত সে প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার বলে সাব্যস্ত হবে না।
প্রসঙ্গত, কারণে বলতে হয় যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের উচিত অনেক বেশি জওক-শওকতের সাথে সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে সারা দেশব্যাপী মাহফিলের ইন্তিজাম করা এবং উন্নত মানের তবারুকের ব্যবস্থা করা কর্তব্য।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে