আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা। (৫)


সবাই কি জারাহ করার যোগ্যতা রাখে?
পবিত্র হাদীছ শরীফ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণকারীদের অনেক গুণাবলি থাকতে হবে। যেমন তেমন লোক পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে বা কোন রাবী নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবে না। হযরত আব্দুল হাই লখনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয়ে কিতাবে উল্লেখ করেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশ্লেষন ও পর্যালোচনাকারীদের জন্য এ গুণাবলী অপরিহার্য যে, তারা নেককার ও নির্ভযোগ্য হবেন। জারাহ ও তা’দীলের বিষয়গুলো ভালোভাবে অবগত হবেন। ন্যায় ও ইনছাফের উপর থাকবেন, কল্যাণকামী হবেন, গোঁড়ামী ও পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত হবেন, অহঙ্কার ও আত্মগৌরব থেকে মুক্ত হবেন। কেননা গোঁড়া ও পক্ষপাতদুষ্ট লোকের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। (ফাওয়াতিহুর রহমূত ২/১৫৪)
হাফিযে হাদীছ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন-
وإنِ صدر مِن غيرِ عارفٍ بالأسبابِ لم يُعتبر به
জারাহ যদি এমন ব্যক্তি করেন যিনি জরাহের নিয়ম কানুন, লক্ষন, কারন সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন তার কথার কোনো গুরুত্ব নেই। (নুযহাতুন নাযার ১/১৭৯)
যেমন একটা উদাহরন দেয়া যেতে পারে, হযরত ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জারাহ যাচাই বাছাই ছাড়া গ্রহণ করা হয়না। ইমাম হযরত যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
قالت: ابن حبان ربما قصب الثقة حتي كانه لا يدري ما يخرج من راسه
অর্থ: আমি বলি, ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রায়ই নির্ভরযোগ্যকে দুর্বল বলেন, এমনকি মনে হয় তার মাথা থেকে কি বের হচ্ছে তা তিনি নিজেই বুঝেন না। (মিযানুল ইতেদাল ১/২৭৪, আল খুলাছাতুল উলুমিল জারাহ ওয়াত তা’দীল ১/৫০০)
রিজালের কিতাব খুলে দেখা গেছে অনেক ছিক্বাহ রাবী উনাদেরকে ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি জারাহ করেছেন, অথচ দুনিয়ার আর সব ইমাম সেই রাবীর প্রশংসাই করেছেন।
অতএব কে জারাহ করলো সে বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে। সবার কৃত জারাহ গ্রহণ করা যাবে না। বরং তাহক্বীক্ব করে নিতে হবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে