আসাদুল্লাহিল গালিব, বাবুল ইলিম ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু নছীহতপূর্ণ ও শিক্ষণীয় ঘটনা


(১)
হঠাৎ করে একদিন এক অশ্বারোহীর অশ্বের পদাঘাতে মরুর বালু উড়ছিল। সে বাতাসের বেগে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিকে ছুটে আসছিল, আর চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো, হে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল, কুরাইশরা চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
কুরাইশদের পক্ষ থেকে চুক্তি ভঙ্গ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ অভিযানের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। তখন হযরত হাতিব বিন আবু বালতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কুরাইশদেরকে পবিত্র মক্কা শরীফ আক্রমণের সংবাদ দিয়ে একটি চিঠি লিখলেন। তার সে চিঠি এক মহিলার দ্বারা মক্কাবাসীদের নিকট পাঠালেন। তিনি সে মহিলাকে কুরাইশদের কাছে সেই চিঠিটি পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্যে কিছু সম্পদের বিনিময়ে রাজি করালেন। মহিলাটি চিঠিটি তার মাথার চুলের ভেতর লুকিয়ে নিলো। এরপর সে দ্রুত পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার দিকে রওয়ানা দিলো।
মহিলাটি পবিত্র মক্কা শরীফ পৌঁছার আগেই মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র ওহী মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাটির কাছ থেকে চিঠি উদ্ধার করে নিয়ে আসতে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত মিক্বদাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে প্রেরণ করলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় হযরত মিক্বদাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরিবর্তে হযরত যুবাইর বিন আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক এসেছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে বললেন, আপনারা দুইজন অমুক জায়গায় এক মহিলাকে পাবেন, যে মহিলা হযরত হাতিব বিন আবু বালতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার লেখা চিঠি নিয়ে মক্কাবাসীর কাছে যাচ্ছে। যে চিঠিতে আমরা কুরাইশদের বিরুদ্ধে যা করছি সে সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
তখন ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সঙ্গীকে নিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলতে লাগলেন। যেতে যেতে উনারা মহিলাটিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বলে দেয়া জায়গায় পেলেন। উনারা মহিলাটিকে বললেন, তোমার কাছে একটি চিঠি আছে। মহিলাটি ভীত হয়ে বললো, না, আমার কাছে কোনো চিঠি নেই।
তখন উনারা দুইজন মহিলাটির সাথে থাকা আসবাবপত্র সবকিছু তল্লাশি করেও কোনো কিছু পেলেন না। কিন্তু পরক্ষণেই ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পূর্ণ ইয়াক্বীনের সাথে বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর কখনো ভুল ওহী মুবারক নাযিল হয় না, তিনি আমাদেরকে কখনো সত্য ব্যতীত বলেন না। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হয় তুমি চিঠি বের করো, না হয় আমরা তোমাকে পরিপূর্ণভাবে তল্লাশি করবো। যখন মহিলা উনাদের দৃঢ়তা দেখলো, তখন সে বললো, আপনারা আমার থেকে অন্যদিকে ফিরে দাঁড়ান। তখন উনারা অন্য দিকে ফিরে দাড়ালেন। এরপর সে তার চুলের গোছা থেকে চিঠিটি বের করে দিলো।
চিঠি বের করার সাথে সাথে খুশিতে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক উজ্জ্বল হয়ে গেলো। তিনি চিঠিটা নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ছুটে এলেন। সুবহানাল্লাহ! (তারিখুত ত্ববারী ৩য় খ-, ৪৮-৪৯ পৃষ্ঠা)
(২)
এক লোক খুব ভয়ের সাথে দৌড়ে এসে আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বলতে লাগলেন, আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান। তিনি আশ্চর্য্য হয়ে বললেন, কার থেকে বাঁচাবো?
ঐ ব্যক্তি ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইশারা করে বললো, উনার থেকে, যিনি আপনার সাথে বসে আছেন।
একথা শুনার পর হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা আপনি আপনার বাঁদীর সাথে গিয়ে বসুন।
তখন হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বাঁদীর সাথে গিয়ে বসলেন। তারপর উনাদের মাঝে ফায়ছালা হলো। ফায়ছালার পর হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আবার হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার কাছে গিয়ে বসলেন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার চেহারা মুবারকের দিকে লক্ষ্য করে উনার মাঝে অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলেন।
তখন তিনি উনাকে বললেন, হে হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা! আপনার চেহারা মুবারকের রং বদলে যেতে দেখছি, যা হয়েছে তা কি আপনি অপছন্দ করেছেন?
তিনি বললেন, জি হ্যাঁ।
খলীফাতুছ ছানী হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি কোনটি অপছন্দ করেছেন?
তখন ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনি কেন আমাকে সম্মানের সাথে উপনামে ডেকেছেন, আপনি আমাকে এভাবে বলতে পারেননি যে, আপনার বাঁদীর সাথে বসুন।
উনার কথা মুবারক শুনে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে গেলো। তিনি উনার কাঁধ মুবারকে কাঁধ মুবারক মিলালেন এবং চুমু খেলেন। তারপর বললেন, আপনাদের জন্য আমার পিতা কুরবান হোক। আপনাদের দ্বারাই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে হিদায়েত দান করেছেন আর আপনাদের দ্বারাই আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! (তারায়িফু ওয়া নাওয়াদিরু মিন উয়ূনিত তুরাছ-১ম খ-, ১৫ পৃষ্ঠা)
(৩)
হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গচ্ছিত থাকা আমানত অর্থাৎ সম্পদ মালিকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ তিন দিন অবস্থান মুবারক করলেন। তিনদিন পর তিনি রাতে পবিত্র হিজরত করার জন্যে উনার লাঠি মুবারক ও পুরাতন ধনুক নিয়ে রওয়ানা দিলেন।
এরপর হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিকে যাত্রা শুরু করলেন। তিনি রাতে ভ্রমণ করতেন আর দিনে বিশ্রামে থাকতেন। দীর্ঘ সফরের কারণে উনার পা মুবারক ফুলে উঠলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একথা জানতে পেরে বললেন, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমার কাছে ডেকে আনুন।
কেউ একজন উনাকে ডেকে আনতে গেলেন। কিন্তু দীর্ঘ সফরের কারণে উনার পা মুবারক ফুলে গিয়েছিল তাই আসতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনাকে দেখার জন্য তাশরীফ মুবারক নিলেন। তিনি এসে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শুয়ে থাকতে দেখলেন। উনার এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চক্ষু মুবারক দিয়ে নূরুল মুহব্বত মুবারক ঝরতে থাকলো। তখন তিনি খুব মুহব্বতের সাথে উনার দিকে ঝুঁকে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক এ স্বীয় পবিত্র হাত মুবারক বুলিয়ে দিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাত মুবারক উনার বরকতে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক পরিপুর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। এমনকি এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত উনার পায়ে কোনো ধরনের অসুখ হয়নি। সুবহানাল্লাহ! (আল কামিলু লি ইবনিল আছীর ২য় খ-, ৩-৭ পৃষ্ঠা)
(৪)
তরবারির ঝনঝন আওয়াজে, তীর বর্শার সাজে সজ্জিত হয়ে অশ্বের উপর আরোহন করে সৈন্যদের সম্মুখে গিয়ে মুসলমানদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আমর বিন আব্দ বললো, তোমাদের মধ্যে কোনো মল্লযোদ্ধা আছে কি?
তার আওয়াজে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কেউ সাড়া দিলেন না। উনাদের মাঝে নীরবতা বিরাজ করছিল। আমরের ধারণা, তার সাথে কে এমন আছে যে মল্লযুদ্ধ করতে যাবে। তার সামনে যে মল্লযুদ্ধ করতে যাবে সে নির্ঘাত মৃত্যুমুখে পতিত হবে।
হঠাৎ নীরবতা ভেঙ্গে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এর মোকাবিলা করবো। উনার মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত আরো বৃদ্ধি পেলো। তিনি আমরের ডাকে ছুটে যেতে লাগলেন।
কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দিকে মুহব্বতের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, আপনি বসুন, সে কিন্তু আমর। (অর্থাৎ সে সাধারণ যোদ্ধা নয়)
এরপর আমর আবার চিৎকার দিয়ে বললো, আমার মোকাবিলা করার মতো কী কোনো লোক নেই। আপনাদের সেই জান্নাত কোথায়? যা আপনারা ধারণা করেন যে, আপনাদের কেউ শহীদ হলে তিনি জান্নাতে যাবেন। আপনাদের কেউ কি আমার মোকাবিলায় আসবেন না? আপনারা কি জান্নাত চান না?
তখন আবার হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উঠে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর মোকাবিলা আমি করবো।
তখন আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনি বসুন, সে তো আমর (অর্থাৎ সে সাধারণ যোদ্ধা নয়)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশনা মুতাবিক হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসে গেলেন। ওই দিকে আমর কিন্তু বসে নেই।
সে আরো বেশি অহঙ্কারের সাথে হাঁক ডাক দিতে লাগলো। আর কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলো-
ولَقَدْ بُحِحْتُ من النداء …لجمعكم هَلْ مِنْ مُبارزْ
وَقفْتُ إذ جَبنَ المُشجَّعُ … مَوقفَ القرن المناجِزْ
ولذالك انى لم ازل … متسرعا قبل الهزاهز
ان الشجاعة فى الفتى … والجود من الغرائز
আমি তাদের সাড়া পাইনি।
যখন বলেছি কোনো যোদ্ধা আছে কী?
আমি সেখানে অবস্থান করেছি
যেখানে বীর দুর্বল হয়ে যায়।
আমি তো মৃত্যুর পূর্বে গলার
গড় গড় শব্দ হওয়ার আগে যাব না।
বীরত্ব তো যুবকদের মাঝে
দানশীলতা তো স্বভাবগতই।

তার এমন কবিতা কান ছেদ করে অন্তরে আঘাত করছিল। হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মনে হচ্ছিল এ ছন্দগুলো উনার অন্তর মুবারকে তীরের মতো আঘাত করছিলো। তিনি বসে থাকতে পারছিলেন না। উনার ধৈর্যের বাঁধ মানছিলো না। তিনি আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নাদান ব্যক্তির মোকাবিলা আমি করবো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি বসুন, সে তো আমর (অর্থাৎ সে সাধারণ যোদ্ধা নয়)
ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উপর পরিপূর্ণ অটল, অবিচল থেকে বললেন, হোক না সে আমর।
একথা বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন আর আবৃত্তি করতে লাগলেন-
لا تعجلن فقد اتاك … مجيب صوتك غير عاجز
فى نية و بصيرة … والصدق منجى كل فائز
من ضربة نجلا … يبقى ذكرها عند الهزاهز

তুমি তাড়াহুড়া করো না
তোমার ডাকে সাড়াদানকারী আসছে
নিয়ত ও স্ক্ষ্মূদৃষ্টির সাথে
সত্যই সব মুক্তিকামীকে রক্ষা করে
এক আঘাতে যার স্মরণ মৃত্যুর পূর্বে
গলার গড়গড় শব্দ চলার সময়েও থাকবে।
হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বীরের মতো আমরের দিকে ছুটে গেলেন। তিনি যখন তার কাছে পৌঁছলেন তখন সে অবাক চোখে তাকিয়ে বললো, হে যুবক আপনি কে?
তিনি বললেন, আবু তালিবের ছেলে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সে বললো, ভাতিজা আপনার থেকে বড় কেউ নেই। কেননা আমি আপনার রক্ত প্রবাহিত করতে অছন্দ করছি।
তিনি বললেন, তুমি না মহান আল্লাহ পাক উনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ যে, যদি কুরাইশদের কোনো লোক তোমাকে বন্ধুত্বের দিকে আহ্বান করে তবে তুমি তা গ্রহণ করবে। সে বললো, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, তাহলে শুনো, আমি তোমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাদের দিকে আহ্বান করছি।
তখন সে হেসে বললো, এসব আমার কোনো প্রয়োজন নেই। নাউযুবিল্লাহ!
তিনি বললেন, তাহলে আমি তোমাকে লড়াই করতে আহ্বান করছি।
সে বললো, কেন ভাতিজা? লাতের ক্বসম! আমি আপনার রক্ত মুবারক প্রবাহিত করতে পছন্দ করি না।
তিনি বললেন, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমি তোমার রক্ত প্রবাহিত করতে পছন্দ করি।
উনার এমন কথাতে আমরের খুব রাগ হলো। সে তার তরবারি ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে হাঁকাতে লাগলো। উভয়ের মাঝে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ঢাল মুবারক নিয়ে আমরের সামনের দিকে এগিয়ে আসেন। আমর এমন আঘাত করলো যে, উনার ঢাল মুবারক চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেলো।
অন্যদিকে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমরের ঘাড়ের শাহ রগে আঘাত করলেন। এতে আমর মাটিতে পড়ে গেল। তার রক্তে মাটি লাল হয়ে গেল।
এ কাফির নিহত হওয়ার পর মুসলমানদের মাঝে তাকবীর ধ্বনি শুরু হয়ে গেলো।
উনারা বলতে লাগলেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত কোনো যুবক নেই। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ফিরে আসলে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি কী তার ঢাল নিয়ে আসতে পারেননি। কেননা আরবে তার থেকে উত্তম ঢাল কেউ ব্যবহার করতো না।
হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিু ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমার চাচাতো ভাইয়েরা লজ্জা পাবে তাই আমি তার ঢাল নিয়ে আসতে পারিনি। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতু ইবনে হিশাম ৩য় খণ্ড- ২৩৭ পৃষ্ঠা)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে