আসামে বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালীরা


1947 সালে জনগনের দাবির ভিত্তিতে দ্বীজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসিত উপনিবেশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্থান ও ভারত নামক দুটি রাষ্টের সৃষ্টি হলো ৷ তখন আসামের পার্শবর্তী পর্ব বাংলার জেলা গুলো থেকে যে সকল লোকজন আসামের স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে চাইল ও যারা আসামের স্থায়ী বাঙ্গালী ছিল তাদের জন জীবনে নেমে এল মহাবিপর্যয় ও তাদের নাগরিক অধিকার খর্ব করলো শাসক গোষ্ঠী ৷ এর কারন ছিল আসামের উগ্র আসামীয় জাতিয়তাবাদের চর্চা ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের ও আসামীরদের বাঙ্গালী বিদ্বেষী নীতি ৷
1874 সালে বাংলার শ্রীহাটিকে ইংরেজ সরকার বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আসামের যুক্ত করে ৷ আসামের বরাক উপত্যকা , কচরা ,গোয়ালপাড়া , শ্রীহাটি ও আসামের ভিতরের কিছু অংশের লোকজন ছিল বাংলাভাষী ৷ 1947 সালে যখন ভারত ভাগ হলো তখন কিছু পূর্ব বাংলা নিবাসী সরকারী কর্মচারী ভারতের আসামে স্থায়ীভাবে বসবাস ও আসাম প্রাদেশিক সরকারের অধিনে চাকুরির করার জন্য আসামের তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদৈলের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন সে জানিয়ে দেয় যে , আসাম ফর আসামিজ, ৷ সে থেকে বুঝা যাই আসামীয় জাতীয়তা বাদের উগ্র চর্চা
৷ 1948 সালে নেমে আসে বাংলাভাষীদের জীবনে একমহা দুর্যোগ ৷1950 সালে আসামের গোয়ালপাড়া থেকে শুরু হয় বঙ্গাল খেদা আন্দোলন ৷ সে সময় লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালীকে হত্যা ও ধর্ষন করা হয় 2 লক্ষ বাংলাভাষী নির্যাতন হয়ে উত্তরবঙ্গে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় ৷ 1960সালে আসামীয় ভাষাকে আসামের এক মাত্র প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে ঘোষনা করে প্রদেশিক সরকার সে সময় আবার বঙ্গাল খেদ অভিযান শুরু হয় ৷
এর মধ্যে জুলাই মাসের 2 ও 3 তারিখে শিলচরে বিপুল উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয় নিখিল আসাম বাঙ্গালা ভাষা সম্মেলন ৷ এরপরের দিন সমগ্র বরাক উপত্যকা জুড়ে শুরু হয় ভয়াবহ দাঙ্গা ৷ এই দাঙ্গায় আসাম সরকারের সরকারি হিসেবে চল্লিশ হাজার লোক নিহত হয় 80 হাজার ঘর বাড়িতে আগুন লাগানো হয় আর গৃহহীন হয় 50 হাজার লোক ৷ ( অসম্পুর্ন )

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে