আহলান ওয়া সাহলান : সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ-এ ছানী আলাইহিস সালাম


আরবী পঞ্চম মাস উনার নাম পবিত্র জুমাদাল ঊলা। পবিত্র জুমাদাল ঊলা মাস উনার অনেক ফাযায়িল-ফযীলতের মধ্যে একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, এ মাসে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চতুর্থ খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম  উনার খাছ কায়িম-মাক্বাম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র জুমাদাল ঊলা মাস উনার ৯ই তারিখ মুবারক-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
যিনি খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম, ক্বায়িম-মক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শাহদামাদ। সুবহানাল্লাহ!
যিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা, ছিদ্দীক্বা, সাইয়্যিদাতু আহলিল জান্নাহ, নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম সালাম উনার জাওযুল মুকাররম। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, হযরত আওলাদে রসূল অর্থাৎ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমন, আবির্ভাব, পবিত্র বিলাদত শরীফ যমীনবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় রহমত, বরকত তথা ঈদ বা ঈদে আ’যম উনার শামিল।
আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম, রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত, বুযূর্গী, তাক্বওয়া, তায়াল্লুক, নিসবত বেমেছাল। উনি খাছ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত এবং পাশাপাশি বেমেছালভাবে নিবেদিত। সেই সাথে রাজারবাগ শরীফ উনার মুরীদান তথা উম্মাহ উনার তরফ থেকে বেমেছাল রহমত, বরকত ও ফযীলত প্রাপ্ত হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমাদের এক পীর ভাই তিনি আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শান মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম এবং হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একনিষ্ঠ মুহব্বত, একাগ্রচিত্ত নিবেদন ও হুসনে যন অপরিসীম। মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোনো মুবারক আদেশ-নির্দেশ শোনামাত্রই আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতেন সেই হুকুম মুবারক তামিলে। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হুকুম মুবারক পালনে, শরীয়ত উনার তাঁবেদারিতে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুবারক পালনে তিনি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব কারোরই কোনো অবস্থাতেই একবিন্দু তোয়াক্কা করেন না। সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো বর্ণনা করেছিলেন, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি শত ভাগ দুনিয়া বিমুখতা, স্বল্পে তৃপ্ত ও মিতব্যয়ী। তিনি উনার সমস্ত কিছুই মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার খিদমত-এ ব্যয় করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো বর্ণনা করেছিলেন, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করার সময় এত আবেগ-আপ্লুত ও ইখলাছ মুবারক উনার সাথে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করেন তা শুনে দিল ও ক্বলব এবং জান-প্রাণ ভরে যায়। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” [পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩]
হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেছেন, ‘আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার আহলে বাইত শরীফ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনার কিশতীর মতো। যারা তাতে আরোহণ করবে, তারা নাজাত পাবে। আর যারা তা হতে পশ্চাতে থাকবে তারা ধ্বংস হবে।”
অতএব. সকলের উচিত হযরত আহলে বাইত শরীফ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে অত্যন্ত জওক-শওক ও শান-শওকতের সাথে খুশি প্রকাশ করে রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাজাত মুবারক উনার হিসসা লাভ করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।
পরিশেষে আপনার ক্বদম পাকে অরজি- আমার সমস্ত বেয়াদবি, গোস্তাখি, ভুল-ভ্রান্তি এবং বদআখলাকি ও বদআচরণসহ সমস্তকিছু আপনার অনিন্দ্য অন্তঃকরণের বিশালতা দিয়ে ক্ষমা করে আমাকে কবুল করে নিন। আমীন!
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে