আহলান-সাহলান ঈদে বিলাদতে শাহযাদীয়ে ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, নূরে হাবীবা, ত্বাহিরাহ, সাইয়্যিদাতুনা, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম ॥ হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার মহিমান্বিত মুবারক বিলাদত শরীফ দিবস আজ। কুল-কায়িনাতে আজ ঈদের মহাসমারোহ


ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!! ঈদ মুবারক!!! আজ মহিমান্বিত ১৯শে রবীউছ ছানী শরীফ। মুবারক হো সাইয়্যিদে ঈদে আ’যমে বিলাদতে শাহযাদীয়ে ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম।
লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুকাহ, গফীরাহ, নাছিবাহ, রহীমাহ, রফীক্বাহ, হাবীবাহ, নূরিয়্যাহ, ফখরিয়্যাহ, ফারীদাহ, ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ, ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা শাহযাদীয়ে ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বিলাদত শরীফ উপলক্ষে কুল-কায়িনাতে আজ ঈদের মহাসমারোহ।
প্রতি শতাব্দীতে, প্রতি যুগে, প্রতি বছরে, প্রতি মাসে, প্রতি পাক্ষিকে, প্রতি সপ্তাহে, প্রতি দিনে, প্রতি ঘণ্টায়, প্রতি মিনিটে, প্রতি সেকেন্ডে, প্রতি পরতে, প্রতি স্পন্দনে যে সমস্ত মনোনীত কবুলকৃত মুরাদ শ্রেণীর খাছ ওলীআল্লাহ উনাদের ছানা-ছিফত আরশে আযীমে, রওযাতুল মুয়াজ্জামায়, জান্নাতে, আসমানে, যমীনে, সাগরে, পাহাড়ে, পর্বতে, সজনে, নির্জনে, আলোতে, আঁধারে কুল-কায়িনাতের আঠারো হাজার মাখলুক্বাত এমনকি মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা পাঠ করে থাকেন উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাহ, আবিদাহ, আরিফাহ, আফিফাহ, আমিমাহ, আযিমাহ, হাবীবাতুল্লাহ হযরত ছানী শাহযাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি অন্যতমা। তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়।
কাজেই উনাকে যে বা যারা মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে তারা ইহকাল ও পরকালে নাজাত পাবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবযুগেই স্বীয় বান্দাদেরকে খাছ (বিশেষ) কিছু নিয়ামত দান করেন। যেটা উনার একান্ত অনুগ্রহ, দয়া। যে দিনে, যে মাসে বা যে সময়ে সেই বিশেষ নিয়ামত প্রাপ্তি ঘটে সঙ্গতকারণে সে মাস, দিন বা সময় মর্যাদাবান হয়, সম্মানিত হয়। পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাসও সেরূপ সম্মানিত, ফযীলতপূর্ণ, মর্যাদাবান একটি মাস।
পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাস উনার ১৯ তারিখ মুবারক-এ দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুকাহ, সাইয়্যিদাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম। এই দিনে উনার বিলাদত শরীফ দান করতঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাসকে এবং তার ১৯ তারিখকে আরো সম্মানিত করেছেন।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমি নুবুওওয়াত ও রিসালতের বিনিময়ে তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তবে তোমরা আমার নিকট আত্মীয়-স্বজন তথা আহলে বাইত ও আওলাদ উনাদের সাথে সদাচরণ করবে তথা উনাদেরকে মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে।”
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান, “আয় আল্লাহ পাক! আমি উনাদেরকে (তথা আমার আওলাদ উনাদেরকে) মুহব্বত করি আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন। আর তাদেরকেও মুহব্বত করুন যারা উনাদেরকে মুহব্বত করে।” তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার মুহব্বত পেতে হলে আমার আহলে বাইত তথা আওলাদ উনাদেরকে মুহব্বত করো।”
সাইয়্যিদাতুন নিসা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মিছদাক্ব। কেননা তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাচ্ছুল খাছ আওলাদ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি, মুহব্বত, মা’রিফাত হাছিল করতে চায়, তাহলে তার জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আওলাদে রসূল হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা।
উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করে শেষ করার চিন্তা ভাবনাও বেয়াদবী। কায়িনাতের সমস্ত পানিকে কালি বানিয়ে আর বৃক্ষগুলোকে কলম বানিয়ে আঠারো হাজার মাখলুক্বাত, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক হয়ে অনন্তকাল ধরে উনার ছানা ছিফত বর্ণনা করলে সমস্ত কালির বিলুপ্তি ঘটবে, সমস্ত কলমের ফানা হবে; লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষকগণ অক্ষমতার সুপ্ত অব্যক্ত কথাকে ব্যক্ত করবে তবুও সাগরের মাঝে সুচ ডুবালে, সুচের মাথার বিন্দু বারি পরিমাণ উনার ছানা ছিফত বর্ণনা করা হবে না। সুবহানাল্লাহ!
ক্বারীনাহ, ক্বারীবাহ, কাবীরাহ, কাছিত্বাহ, ছামীনাহ, ছা’ইমাহ, ছালিহাহ, ছুফিয়্যাহ হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহামতি, মহতী, নূরের জ্যোতি, ধনবতী, বুদ্ধিমতি, ভাগ্যবতী, দয়াবতী, লজ্জাবতী, মহান আল্লাহ পাক উনার বিরল আশিকা ও মা’শুকা এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাবীবা ও মাহবুবাহ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মা’রিফাত ও মুহব্বত হাছিলে উনি কামিলাহ ও মুকাম্মিলাহ। মুহূর্তের মাঝে উনি একজন অধম সালিক সালিকাকে মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী আল্লাহগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিতে পারেন। সুবহানাল্লাহ! ঘটিয়ে দিতে পারেন দীদারে খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
গফীরাহ, নাছিবাহ, রহীমাহ, রফীক্বাহ, হাবীবাহ, নূরিয়্যাহ, ফখরিয়্যাহ, ফারীদাহ হযরত ছানী শাহযাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি গুনাহগারদের তরে হলেন ক্ষমাকারিণী, ক্রন্দকারীদের সান্ত¡না দানকারিণী, ইহসান প্রত্যাশীদের ইহসান দানকারিণী, দুঃখীদের দুঃখ মোচনকারিণী, বিপদগ্রস্তদের তরে সাহায্যকারিণী, অন্ধকার অন্তরে আলো দানকারিণী, ফায়িজ প্রত্যাশীদের ফায়িজ দানকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
তিনি হচ্ছেন- মনোরমা, অনুপমা, অনন্যা, উপমাহীনা, অঞ্জনবর্ণা, ধর্মপরায়ণা, ন্যায়পরায়ণা, ই’তিকাফকারিণী, প্রতিফলনকারিণী, পারদর্শিনী, বিশ্বাসিনী, প্রশংসাকারিণী, ওয়াদা পূরণকারিণী, বিজয়িনী। উনার মুবারক ছিফত হচ্ছে- তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকিয়্যাহ। ত্বয়্যিবাহ, ত্বহিরাহ, নাজিয়াহ ও নাছীবাহ। সুবহানাল্লাহ!
ক্বিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মু’মিন-মুসলমান, ফক্বীহ, ছূফী অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাসকে স্মরণ করবে। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত-মুহব্বতের ফল্গুধারা আহরণের জন্য ১৯ তারিখ আগমনের প্রত্যাশায় ইনতিজার (প্রস্তুত) থাকবে। তাকে খাছ নিয়ামত লাভের উসীলা বানাবে। ত্বাহিরাহ, তাইয়্যিবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, সাইয়্যিদাহ, মাশুকাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম তিনি এমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব যে, কায়িনাতের যে কেউ উনার সাথে নিছবত রাখবে, তিনি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ নিয়ামত, ফযল-করম লাভে ধন্য হবে। সুবহানাল্লাহ! কারণ, তিনি হচ্ছেন ছিদ্দীক্ব শ্রেণীর ওলীআল্লাহ। অর্থাৎ নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পরেই যাঁদের মাকাম তিনি উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যা বলেন, তাই হয়। তিনি যা চান, তাই পান। যার জন্য চান, সে তা পায়।
এ আযীমুশ শান, মহান সাইয়্যিদে ঈদে আ’যমে বিলাদতে শাহযাদীয়ে ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তথা এ মহান দিবন পালনের লক্ষ্যে সারা পৃথিবীব্যাপী মীলাদ মাহফিল, সামার মাহফিলসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজারবাগ শরীফ উনার মধ্যে এক আযীমুশ শান সামা শরীফ মাহফিল, মীলাদ শরীফ মাহফিল, বিশেষ খাবার ও বিশেষ সাজ-সজ্জার ব্যবস্থা করা করা হয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. শাহীন মুহম্মদ আব্দুল্লাহ says:

    অপূর্ব চমত্‍কার, অতিব সুন্দর পোষ্ট।Announce Announce Announce সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরিফ পবিত্র ঈদে বিলাদতে নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম জিন্দাবাদ Announce Announce Announce Announce Announce Announce সাইয়্যিদুল আইয়াদশরিফ জিন্দাবাদ Announce Announce Announce Announce Announce Announce সাইয়্যিদুল আইয়াদশরিফ জিন্দাবাদ Announce Announce Announce Announce Announce Announce সাইয়্যিদুল আইয়াদশরিফ জিন্দাবাদ Announce Announce Announceবসুন্ধরায় রয়েছে যত নাজ নিয়ামত
    সবার সেরা তাওশিয়া ইলাহী বরকত
    তাজিয়া তাযকিয়া তাকরীমা তাহমীদা
    মাহবূবা মুনীরা মুফীদা মাহমুদা
    নিবরাসাহ জগৎময় বিনতে শাহ সাইয়্যিদী।
    মিছালে মিছালহীন নিবরাসাতুল উমাম
    তুলনায় মলিন হয় দুনিয়ার তামাম
    মূলেই আলোময় নূরানী জালওয়ায়
    শ্রেষ্ঠা হন মর্যাদায় সেরাও মর্তবায়
    মিছবাহুজ জুলমি বিনতে শাহ সাইয়্যিদি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে