‘আয় আল্লাহ পাক! আপনি খাছ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে শক্তিশালী করুন ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে!’


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

عَنْ اُمّ ِ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ اَللّٰهُمَّ اَعِزَّ الْاِسْلاَمَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَاصَّةً.
“উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আয় আল্লাহ পাক! আপনি খাছ করে ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে শক্তিশালী করুন!” অর্থাৎ উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খেদমত গ্রহণ করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ, সুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্বী শরীফ, মুসতাদরকে হাকিম শরীফ, তারীখুল খুলাফা শরীফ, তারীখুল ইসলাম ইত্যাদি)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার বাস্তবতা অত্যান্ত স্বচ্ছভাবে ফুেেট উঠেছে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, মুহাদ্দিছু হাযিহিল উম্মাহ, মুহাদ্দিছু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্পূর্ণ জিন্দেগী মুবারক-এ। সত্যিই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে শক্তিশালী করেছিলেন। অর্থাৎ উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খেদমত নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
যেই দিন সকালে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পকা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জন্য এই সম্মানিত দোয়া মুবারক করেলন, সেই দিনই আমীরুল মু’মিনীন, মুহাদ্দিছু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি দারে আরকামে এসে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ হাত রেখে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন স্বয়ং নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণে খুশি হয়ে তাকবীর দেন। আর এই সম্মানিত তাকবীর ধ্বনি মুবারক সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর পরই সর্বপ্রথম সম্মানিত মুসলমান উনারা সম্মানিত ক্বাবা শরীফ-এ যেয়ে প্রকাশ্যে ছলাত আদায় করেন। সুবহানাল্লহ!
তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর উন্মুক্ত তরবারী মুবারক নিয়ে অত্যন্ত তেজদীপ্ত কণ্ঠে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার প্রতিটি ঘরের দ্বারে দ্বারে যেয়ে ঘোষণা দিয়ে আসেন যে, আমি ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। যে তার মাকে সন্তানহারা করতে চায়, যে তার স্ত্রীকে বিধবা করতে চায় সে যেন আমার সম্মুখে আসে। খোদ আবূ জাহলের ঘরের দরজার সামনে যেয়েও তিনি এই একই ঘোষণা মুবারক দিয়েছিলেন। কিন্তু আবূ জেহেলসহ কেউ কোনো টু শব্দ করার সাহস পায়নি। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জীবন মুবারক উনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সম্মানিত দোয়া মুবারক উনার প্রতিফলন ঘটেছে। হিজরত, বদর, উহুদ, খায়বর, খন্দক, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মক্কা শরীফ বিজয়, হুনাইন, তাবুক, বিদায় হজ্জ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই উজ্জ্বল সাক্ষর বহন করেছে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পরও এই সম্মানিত দোয়া মুবারক উনার বেমেছাল বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি একের পর এক দেশ জয় করিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যে, ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটিয়েছিলেন এবং সারা পৃথিবীতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সেটা সত্যিই বেমেছাল।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিজয় সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “অচিরেই আপনারা এরূপ লোকদের প্রতি আহূত হবেন যারা দুর্ধর্ষ যোদ্ধা। আপনারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন এবং তারা আপনাদের নিকট আত্মসমর্পণ করবে।” (সম্মানিত সূরা ফাতহ শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৬)
আর নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ثُمَّ أَخَذَهَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْه السَّلَامُ فَاسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنْ النَّاسِ يَفْرِي فَرِيَّه حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ حَوْلَه بِعَطَنٍ
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালম তিনি বালতি মুবারক ধারণ করলেন। বালতি উত্তোলন সহজতর হয়ে গেল। আমি উনার মত শক্তিশালী লোক আর কাউকে দেখিনি। এমনকি লোকেরা তাদের উটগুলোকেও পানি পান করিয়ে পানির কূপের পাশে বসিয়ে দিলো।” (বুখারী শরীফ)
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতকালে যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটবে এবং বিস্তীর্ণ ভূখ- অধিকৃত হবে সেই বিষয়টির সুস্পষ্ট ইঙ্গত মুবারক দেয়া হয়েছে এখানে। সুবহানাল্লাহ!
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত খিলাফতকালে বিশাল ভূখ- জয় করেছিলেন। বলা হয় যে, উনার বিজীত বিস্তীর্ণ ভূখ-ের পরিমাণ হলো, ২২৫১০৩০ বর্গমাইল। অর্থাৎ কেন্দ্রস্থল পবিত্র মক্কা শরীফ হতে উত্তরে ১৩৬০ মাইল, পূর্বদিকে ১০৮৭ মাইল, দক্ষিণে ৪৮৩ মাইল এবং পশ্চিমে জেদ্দা পর্যন্ত। এই বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্যে সিরিয়া, মিসর, ইরাক, জযিরা, খোযিস্তান, ইরাক্বে আ’যম, আযারবাইজান, পারস্য, মাকরান, খোরাসান এবং বর্তমানে বেলুচিস্তানের কিছু অংশসহ মাকরান প্রদেশ প্রভৃতি তদানীন্তন সভ্য জগতের বিশিষ্ট এলাকাগুলি এর অন্তর্ভুক্ত ছিলো। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শাহ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘রওযাতুল আহবাব’ কিতাব উনার বরাত দিয়ে বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে শহর, উপশহর, শহরতলি ও গঞ্জ-বন্দর মিলে ১০৩৬টি এলাকা বিজিত হয়েছে। সে সব এলাকায় চার হাজার মসজিদ তৈরি হয়েছে ও চার হাজার গির্জা বিরান হয়েছে। উক্ত চার হাজার মসজিদ উনাদের ভিতর নয়শ’ জামে মসজিদ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (ইযালাতুল খফা)
মূলতঃ আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিজিত এলাকা এর চাইতেও আরো অনেক বেশি ছিলো। সবকিছুর বর্ণনা কিতাবে সরাসরি স্পষ্টভাবে আসেনি।
যা হোক, এর মাধ্যমেই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কত বেমেছাল শক্তিশালী হয়েছিলো। সুবাহানাল্লাহ!
কিন্তু অতি দুঃখ ও আফসোসের বিষয় এই যে, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে বিশাল ভূখ- জয় করেছিলেন, যদিও সেই বিশাল ভূখ-ে আজও মুসলমানগণ বসবাস করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই বিস্তীর্ণ এলাকা মুসলমান উনাদের অধীনে নেই। সেগুলো রয়েছে কাফির-মুশরিকদের অধীনে। যার কারণে আজ সারা পৃথিবীতে চলছে কাফির-মুশরিকদের একছত্র আধিপত্য। মুসলমান দেশের শাসকরা কাফির-মুশরিকদের গোলামী করে, তাদের কাছে নিজেদের দেশগুলো বিক্রি করে দিয়ে গর্ববোধ করছে। নাঊযুবিল্লাহ! আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আদর্শ মুবারক থেকে পরিপূর্ণরূপে দূরে সরে গেছে তারা। আমরা যদি বাংলাদেশের কথাই ধরি। আজ এদেশে যে এই কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার মূল কারণ হচ্ছে, এই দেশের শাসক মহল আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আদর্শ মুবারক উনার থেকে তো পরিপূর্ণরূপে দূরে সরে গেছেই; শুধু তাই নয়, তারা অন্যদিকে বিধর্মীদের আদর্শকে পরিপূর্ণরূপে আঁকড়িয়ে ধরেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটাই মাত্র পথ উন্মুক্ত রয়েছে, তাহচ্ছে ‘সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক।, সুবহানাল্লাহ! অতিশীঘ্রই মুজাদ্দিদে আ’যম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক উসীলায় এইদেশ ও সারা পৃথিবীতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে। ইনশাআল্লাহ!
তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিজয়কৃত হারানো বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও পদানত করবেন। আবারো তিনি রোম-পারস্য যেভাবে শোচনীয়ভাবে পদদলিত হয়েছিলো, নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলো, তার চেয়েও আরো সীমাহীন শোচনীয়ভাবে সমস্ত কাফির-মুশরিকদেরকে পদদলিত করবেন, নিশ্চিহ্ন করবেন। তিনি ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, জাপান, ইতালী, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াতো অবশ্যই; এমনকি সারা পৃথিবী জয় করবেন। ইনশাআল্লাহ!
সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে চলবে উনার আযীমুশ শান সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বিজয় ধ্বনি; আবারও সুউচ্চ স্বরে প্রতিধ্বনিত হবে এই দেশে, সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে