আয়-বৈষম্য দূরীকরণের জন্য প্রধান ২টি কার্যক্রমই যথেষ্ট


আয়-বৈষম্য দূরীকরণের জন্য প্রধান ২টি কার্যক্রমই যথেষ্ট। ১) যাকাত ব্যবস্থা ও ২) সুদবিহীন অর্থনীতি।
বাংলাদেশে বর্তমানে হাজার কোটি টাকা ব্যালেন্স আছে, এমন লোকের সংখ্যাও হয়ত কয়েক দশকের ঘরে রয়েছে। আর শত কোটি টাকাওয়ালার সংখ্যা শতকের ঘরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এবার দেখুন, যার কাছে ১০০০ কোটি টাকা আছে, তার ১ বছরে যাকাত আসবে ২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির যাকাতের টাকা দিয়েই ২৫ হাজার দুঃস্থ-গরীব মানুষকে ১ বছরে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া সম্ভব। এভাবে ১০ জনও যদি হাজার কোটি টাকার মালিক থাকেন, তাদের যাকাতের টাকা দিয়েই বাংলাদেশের হতদরিদ্র ২ লক্ষ ৪১ হাজার মানুষকে বছরে ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া সম্ভব। বাকি ১৬ কোটি মানুষের মধ্য থেকে যাকাতযোগ্য ৪ কোটি মানুষও যদি গড়ে ৫ হাজার টাকা করেও যাকাত প্রদান করেন, তবে ১ বছরেই যাকাত উঠবে ২০ হাজার কোটি টাকা যা দিয়ে বাংলাদেশের সকল দুঃস্থ, গরীব, নিঃস্ব ব্যক্তিদেরকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করে ১ বছরেই তাদেরকে কর্মক্ষম করা যাবে। যাকাত ব্যবস্থা চালু করতে পারলে আয়-বৈষম্যের বিশাল এ ফারাককে শূন্যের কোটায় আনা সম্ভব।
ভাল মানুষ নিতান্ত বিপদে না পড়লে সাধারণত অপর ভাইয়ের নিকট গিয়ে ধারের জন্য অনুরোধ করেন না। হয় বিপদাপদ বা অসুখে, না হয় ব্যবসার লোকসান পুষিয়ে নিতে ধার করে থাকেন। বিপদাপন্ন অসহায় মানুষকে বিনা সুদে ধার দিয়ে সাহায্য করার ব্যবস্থা চালু করলে কোন মানুষ দুষ্টচক্রে পড়বে না। সুদবিহীন অর্থনীতি যে কোন মানুষের নুইয়ে পড়া রোজগার চাঙা করে দিতে পারে।

ব্যাংক কি আসলেই প্রয়োজন?
ব্যাংক বললেই প্রথমের সুদের কথা মাথায় চলে আসে। সুদই যদি না থাকে, তবে ব্যাংক দিয়ে কি হবে?
সুদ উঠিয়ে দিলেও ব্যাংক নামক একটি প্রতিষ্ঠান অতীব প্রয়োজন। ব্যাংক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতই একটি সংযোগ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে। ব্যাংক টাকাওয়ালা ও আর্থিক সাহায্য প্রার্থীদের মাঝে একটা সমন্বয়কারী ও সংযোগস্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে।
ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই সুদ না খেলেও বর্তমান সুদভিত্তিক ব্যাংকে টাকা রেখে থাকে। তবে সেটা সুদ খাওয়ার জন্য নয়। অনেকেই টাকা রাখছেন। কিন্তু কেন?
কারণগুলো হচ্ছে:
-নিজের কাছে অধিক পরিমাণ টাকা রাখা অনিরাপদ। ডাকাতি বা চুরি হওয়ার ভয় থেকে যায়।
-আবার টাকা পানিতে ভিজে, আগুনে পুড়ে বা ইদুরে কেটে নেয়ার ভয় তো থাকেই।
-ব্যাংকে টাকা রাখলে তা যে কোন স্থানে ভ্রমণরত অবস্থায় ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে উত্তোলন করা যায়। এক্ষেত্রে টাকা রাস্তায় নিয়ে বহন করতে হয় না।
মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই ব্যাংক থাকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ব্যাংকিং এর রূপ কিরূপ হবে তা শরীয়ার ভিত্তিতে অর্থনীতিবিদরা নির্ধারণ করবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হলে হয়ত একটা নির্দিষ্ট ফি থাকবে। এক্ষেত্রে যিনি ব্যাংকে জমা রাখবেন, তিনিও একটা ফি দিয়েই টাকা জমা রাখবেন। সুদবিহীন ব্যাংকিং এবং যাকাত সমাজে প্রতিষ্ঠা করলে আয়-বৈষম্যের এ চিত্র বদলে যাবে এবং আয়-বৈষম্যের ছোবল থেকে দেশ তথা বিশ্ব রক্ষা পাবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে