ইতিহাসের ধুম্রজালে যুগে যুগে শাসকদের বিধর্মীপ্রীতি এবং এর পরিণতি! সময়কাল: মুঘল আমল। রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে চক্রান্তের দোসর মালউন এবং মুরতাদদের পূর্বসূরিদের অপকর্ম প্রসঙ্গে


বাংলাদেশবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিন্দুরা প্রায় সময় প্রোপাগান্ডা করে থাকে যে- ‘মুসলমানরা এই উপমহাদেশ দখল করেছে, অনেক মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করেছে। আর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনও তাদের সৃষ্টি’। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু ইতিহাসের ধুম্রজালে হারিয়ে গিয়েছে অনেক সত্য, ক’জন জানে প্রকৃত ঘটনাগুলো। এই উপমহাদেশে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেন প্রথমে মুসলমানগণ উনারাই, কিন্তু তৎকালীন বিশ্বাসঘাতক হিন্দুদের চক্রান্তে এই উপমহাদেশে জন্ম নেয় ইংরেজদের মুসলিমবিরোধী কর্মতৎপরতা এবং তারই ফলশ্রুতিতে ইংরেজরা হিন্দুদের বিশ্বাসঘাতকতাকে পুঁজি করে ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ এই কূটনীতির ভিত্তিতে মুসলমানদের হাত থেকে কেড়ে নেয় ভারতবর্ষ।
সেই ইতিহাসের ধুম্রজাল থেকে পাঠকদের বের করে আনার জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
লিখার শুরুতে আসুন দেখি কলকাতার প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরীর একটা কথা-
“বাঙালি (হিন্দু) পুরুষ ইংরেজ রাজত্বের আগে একমাত্র মুসলমান নবাবের কর্মচারী হইলে মুসলমানী পোশাক পরিতো, উহা অন্দরে লইয়া যাওয়া হইতো না। বাহিরে বৈঠকখানার পাশে একটা ঘর থাকিতো, সেখানে চোগা-চাপকান-ইজার ছাড়িয়া পুরুষেরা ধুতি পরিয়া ভিতরের বাড়িতে প্রবেশ করিতো। তাহার প্রবেশদ্বারে গঙ্গাজল ও তুলসীপাতা থাকিতো, মেøচ্ছ পোশাক পরিবার অশুচিতা হইতে শুদ্ধ হইবার জন্য পুরুষরা গায়ে গঙ্গাজল ছিটাইয়া মাথায় একটা দুইটা তুলসীপাতা দিতো।” নাউযুবিল্লাহ!!!
(তথ্যসূত্র:- আত্মঘাতী বাঙালী: নীরদ সি চৌধুরী, পৃষ্ঠা ৫০)
অর্থাৎ মুসলিম জমিদার, রাজাদের বা মোঘলদের অনেক কর্মচারীই ছিল হিন্দু। তারা রাজদরবারে গেলে মুসলমান পোশাক পরতো, কিন্তু বাসায় আসার পর তারা দরজার বাহিরেই সেই পোশাক ছেড়ে নদীর পানি ছিটিয়ে নিজেদের তথাকথিত শুদ্ধ করে নিতো। দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি থাকার পরও মুসলিমদের প্রতি তাদের বিদ্বেষ ছিল স্বভাবজাত।
মুসলিম শাসকদের মাঝে বিধর্মীপ্রীতি ছিল কেবল মুঘল সম্রাট আকবরের। ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিন্দুদের ক্ষমতায়ন ও ভারতের পরাধীনতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সম্রাট আকবরের মাত্রাতিরিক্ত হিন্দুতোষণ। তার উত্তরপুরুষ বাদশাহ শাহজাহানের পুত্র দারাও ছিল তার অনুসারী। ইতিহাস বলছে, এই হিন্দুতোষক মুঘলদ্বয় শেষপর্যন্ত কিন্তু সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিন্দুদের হাতেই লাঞ্ছনা, অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছিল।
আজকে যারা মালউনদের অপতৎপরতায় মালউনদের ক্রীড়নক হয়ে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম সংবিধান হতে বিমোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে কি?
বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাসিক গোলাম আহমদ মোর্তজা রচিত ‘বাজেয়াপ্ত ইতিহাস’ বইখানি পড়লেই আকবরের সম্পর্কে অনেক বিষয়ই জানতে পারবে। যেমন সে একটা বিয়ে চালু করেছিল- যাকে আধুনিক ভাষায় বলা হয়ে থাকে কন্ট্রাক্ট মেরেজ অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর সেই বিয়ে আর বহাল থাকতো না। যা দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপেই হারাম। আরো অনেক হিন্দুয়ানী রীতি চালু করেছিল সে তার রাজপুত, মারাঠা স্ত্রীদের প্রভাবে। যেমন- ফরয গোসল না করা, যা অপবিত্র হিন্দুদের রীতি ছিল। পাঠকবৃন্দ!! আপনারা আল বিরুনীর “ভারততত্ত্ব” বইটি পড়লে জানতে পারবেন এই ধরনের অনেক কুসংস্কারের কথা।
আকবরের সবচেয়ে জঘন্য ঘৃণ্য অপতৎপরতা ছিল হিন্দুদের প্রতি খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে (মূলত এটি ছিল একটি ডাইভারশন, মুসলিমদেরকে তাদের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার হিজরী সন থেকে বের করে আনার জন্য) একটি পঞ্জিকা তৈরি করে।
সেই অনুযায়ী তৎকালীন হিন্দু ব্রাহ্মণরা অনেক মনগড়া পূজার জন্ম দেয়, যা আজও পালিত হয়ে আসছে। সবচেয়ে আফসুসের বিষয় হলো- এই সনকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুল হক নামে এক মুরতাদ (খালেদ খানের স্ত্রী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হকের চাচা) ১৯৬৭ সালে চালু করে ‘পহেলা বৈশাখ’ নামে এক অনুষ্ঠান এবং রমনার বটমূলে শুরু করে অশথ পূজা, যা লম্পট নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীদের কদর্য কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থকরণের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
আরেকটা ঘটনা না বললেই নয়।
এসপিওনাজ যুগে যুগে ছিল, আছে এবং থাকবে। রাজপুত, মারাঠা রাজারা সিস্টেমে আকবরের হেরেমে ঢুকিয়ে দেয় নিজেদের কন্যাদের। (ঠিক যেমনটা আজ সরকারি চাকরিতে গণহারে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী মালউন ঢুকানো হচ্ছে।) বিয়ের নামে এরা আকবরের রাজপ্রাসাদের শোভা বর্ধিত করে। এরপর শুরু হয় টিপিক্যালি চক্রান্ত। আকবরকে ইসলামবিমুখী করতে করতে এক পর্যায়ে তারা একটি “টেস্ট কেস” হিসেবে কিছু মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির তৈরি করে প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। নাউযুবিল্লাহ!!!
তৎকালীন মুসলিম সম্প্রদায় এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলে আকবরের নিকট প্রতিবাদ করা হলে সে পাল্টা যুক্তি দেখালো, ‘মুসলমানদের নিশ্চয়ই এই মসজিদসমূহ প্রয়োজন ছিল না, থাকলে নিশ্চয়ই হিন্দুরা তা ভাঙতে পারতো না।’ মন্দিরের প্রয়োজন ছিল তাই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!!! আকবরের মতে, মসজিদও ধর্মস্থান আর মন্দিরও ধর্মস্থান। এক ধর্মস্থান ভেঙে আরেকটি নির্মাণ করা দোষের কিছু নয়। নাউযুবিল্লাহ!!! তারপরই মসজিদ সংক্রান্ত আইন করে নতুন মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাউযুবিল্লাহ!!!
(তথ্যসূত্র: গোলাম আহমদ মোর্তজা রচিত ‘ইতিহাসের ইতিহাস’, পৃষ্ঠা ১০২-১০৭)
এর ধারাবাহিকতা আপনারা বাবরী মসজিদের ক্ষেত্রে দেখেছেন।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো- আকবর নিজেকে হিন্দুদের জন্য বিলিয়ে দিলেও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিন্দুরা কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার মৃতদেহের সামান্য মর্যাদাও দিতে চায়নি, বরং করেছিল চরম অবমাননা।
বাদশাহ আলমগীর শাসনামলে উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জাঠ হিন্দুরা তাদের নেতা রামের নেতৃত্বে দিল্লি আক্রমণ করেছিল তৎকালীন সুবাদার শায়েস্তা খাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে। তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল খোদ হিন্দুতোষক আকবরের সমাধি! তারা আকবরের কবর খুঁড়ে তার অস্থিগুলো তুলে যতদূর সম্ভব অপবিত্র করে আগুনে ছুঁড়ে ফেলেছিল। জাঠ হিন্দুরা সমাধিতে লুটপাট চালিয়ে সেখানকার অন্যান্য কবরগুলোও ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। (মালউনদের ক্রীড়নকরা নছিহত হাছিল করবে কি?)
(তথ্যসূত্র: চেপে রাখা ইতিহাস- গোলাম আহমদ মোর্তজা, পৃষ্ঠা ১৭৫)
ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি হিন্দুতোষক রাজা আকবরের এহেন যদি পরিণতি হয়, তাহলে বলার অপেক্ষা রাখে না- যুগে যুগে এরই ধারাবাহিকতায় কি হয়েছিল।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাজবল্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠদের ষড়যন্ত্রে হারায় তার সাম্রাজ্য। বাংলায় শুরু হয় ইংরেজ শাসন। অথচ এরা উপরে উপরে ছিল সিরাজউদ্দৌলার তোষামোদকারী।
প্রকৃত অর্থে গয়েশ্বর মার্কা উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী হিন্দুদের একটা কথাই বলবো- মুসলিমরা যদি আসলেই অত্যাচারী হতো, তাহলে মুঘল আমলেই বাংলার বুক থেকে হিন্দুদের নাম-নিশানা তারা মুছে দিতো।
যুগে যুগে এই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় রানা বাঁশযুক্তের মতো সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী পান্ডারা এখন নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের বিপক্ষে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আবহমানকাল ধরে প্রচলিত বাংলার ঐতিহ্য রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে আজকে তারা চক্রান্ত করছে। নাউযুবিল্লাহ!!! রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম-এর বিরুদ্ধে তারা সরাসরি রিট-এর শুনানি করছে! নাউযুবিল্লাহ!
আপনারা সাক্ষী থাকুন ইতিহাস একদিন কথা বলবে। যারা আজকে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার পক্ষে আইনী লড়াই করবে, তারাই প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গৃহীত হবে। হারাম খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকা বোবা শয়তানেরা গো’আযম এবং জগৎশেঠদের উত্তরসূরি হিসেবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে