ইতিহাসের পাতায় ওলীআল্লাহগণ উনাদের অঢেল অর্থ খরচের উদাহরণ এবং সেই অর্থের প্রতি বিধর্মীদের লোলুপ দৃষ্টি


চিশতীয়া তরীক্বা উনার একজন প্রধান ওলীআল্লাহ হযরত নিযামউদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি। দিল্লীতে ছিল উনার খানকা শরীফ। ইতিহাসে লেখা রয়েছে, খানকা শরীফ ও লঙ্গরখানার খরচ বহনের জন্য তিনি উনার খাদিমকে নির্দেশ মুবারক দিয়ে রেখেছিলেন, যদি কখনো অর্থের দরকার হয় অমুক তাকের মধ্যে হাত দিতে। প্রয়োজনীয় অর্থ সেখানেই কুদরতীভাবে পাওয়া যেতো।
শুধু হযরত নিযামউদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নন, বরং গোটা ইতিহাসেই ওলীআল্লাহগণ উনাদের অঢেল অর্থ খরচের ইতিহাস পাওয়া যায়। চিশতীয়া তরীক্বা উনার অন্যতম আরো একজন ওলীআল্লাহ হলেন হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার খানকা শরীফ ছিল তৎকালীন বাংলার রাজধানী পান্ডুয়ায়। তিনি উনার খানকা শরীফে এতো অর্থ খরচ করতেন যে, তৎকালীন বাংলার বাদশাহ সিকান্দার শাহও তার রাজকোষ থেকে এতো অর্থ খরচ করতে পারতেন না।
সিকান্দার শাহ যদিও কোনো বদকার রাজা ছিলেন না, কিন্তু হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সিকান্দার শাহ পান্ডুয়া থেকে সোনারগাঁয়ে পাঠিয়ে দেন। সোনারগাঁয়ে গিয়ে হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পূর্বের তুলনায় আরো দ্বিগুণ খরচ করা শুরু করেন। কিন্তু কেউ বলতে পারতো না, তিনি এতো অর্থসম্পদ কোথা থেকে পান।
সিকান্দার শাহের পর বাংলার রাজা হন তাঁর পুত্র হযরত গিয়াসউদ্দীন আযমশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। সাথে সাথে হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্থানে গদীনশীন হন উনার আওলাদ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত গিয়াসউদ্দীন আযমশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সময়ে গণেশ নামক এক বিশ্বাসঘাতক হিন্দুর উত্থান ঘটে, যার ষড়যন্ত্রে তিনি শহীদ হন।
এই বিশ্বাসঘাতক গণেশ বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করে ওলীআল্লাহগণ উনাদের শহীদ করা শুরু করে। তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উত্তরপ্রদেশের শাসক ইবরাহীম শর্কীকে নির্দেশ দেন গণেশকে আক্রমণ করে উৎখাত করতে।
গণেশ তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে ক্ষমা চায় এবং নিজের ছেলে যদু’কে ধর্মান্তরিত করে জালালউদ্দীন নাম দিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসায়। তখন হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইবরাহীম শর্কীকে নির্দেশ দেন সৈন্য নিয়ে ফিরে যেতে।
ইবরাহীম শর্কী ফিরে যাওয়ার সাথে সাথেই গণেশ ফের তার পূর্বের রূপে আবির্ভূত হয়। গণেশ জালালউদ্দীনকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে ফের নিজে ক্ষমতা দখল করে এবং জালালউদ্দীনকে ফের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয়, যেই হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দয়ার কারণে গণেশ প্রাণভিক্ষা পেয়েছিল, সেই হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আওলাদ হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি ও নাতি হযরত জাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে গণেশ আটক করে সোনারগাঁয়ে নিয়ে আসে। গণেশের উদ্দেশ্য ছিল, উনাদেরকে সে নির্যাতন করে সে উনাদের পূর্বপুরুষ হযরত আলাউল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ধনসম্পদের খোঁজ বের করবে। গণেশের নির্যাতনে হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শহীদ হন। নাউযুবিল্লাহ!
ইতিহাসের এই দিকটি সম্পর্কে অনেকেই জানে না। মুসলমান ওলীআল্লাহ ও ছূফী-দরবেশগণ সব সময়েই অঢেল অর্থসম্পদের অধিকারী ছিলেন, বিপরীতে মুশরিক হিন্দুরা সবসময় উনাদের ধনসম্পদ কেড়ে নিতে তৎপর থাকতো। গণেশ তার উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি, কারণ হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের পরই গণেশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং জালালউদ্দীন বাংলার সিংহাসনে আরোহন করে বাংলায় ফের মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত করেন।
গণেশ মারা গিয়েছিল, কিন্তু গণেশের উত্তরসূরিদের উপর থেকে মুসলমান শাসক, ব্যবসায়ী ও জমিদারেরা তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ত্যাগ করেনি। নাউযুবিল্লাহ! যার অবশ্যম্ভাবী ফল পাওয়া গিয়েছিল ব্রিটিশ আমলে, যখন গণেশের মতোই মুসলমানদের অধীনস্থ হিন্দুরা বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলমানদের জমিদারী ও অর্থসম্পদ দখল করেছিল। ব্রিটিশ আমলে গণেশের উত্তরসূরিরা আর ছোবল দিতে ব্যর্থ হয়নি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করে ব্রিটিশ আমলে হিন্দু আর ব্রিটিশরা মিলে ছূফী দরবেশ ও ওলীআল্লাহগণ উনাদের থেকে সমস্ত লাখেরাজ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে বাংলায় ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার ধারা অস্তমিত হয়ে বাংলায় মুসলমানদের প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গিয়েছিল, যার জের বাঙালি মুসলমান আজও বহন করে চলেছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে