ইতিহাস কথা বলে: এই বাংলা থেকে ইংল্যান্ডের দস্যুদের লুটপাটের একটি ফিরিস্তি!


ইতিহাস কথা বলে: এই বাংলা থেকে ইংল্যান্ডের দস্যুদের লুটপাটের একটি ফিরিস্তি!

ইংরেজ নৌদস্যুদের লিডার ‘ক্লাইভ’ পলাশীর যুদ্ধ শেষে মীর জাফরের কাছ থেকে ২ লাখ ৩৪ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ করে রাতারাতি ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত হয়।” (সূত্র-পি. রবার্টস, হিস্টরী অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, পৃষ্ঠা ৩৮।)
১) ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫ সাল পর্যন্ত মাত্র কয়েক বছরে শুধুমাত্র ইংরেজ কর্মচারীরাই লুট করেছিরো কমপক্ষে ৬২ লক্ষ ৬১ হাজার ১৬৫ পাউন্ড।’ (সূত্র- বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, আব্বাস আলী খান, পৃষ্ঠা-৯৫)
২) পলাশী যুদ্ধে শেষ হতে না হতেই লুণ্ঠিত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের রাজকোষ। সার্জন ফোর্থের প্রদত্ত হিসেব মতে মণিমুক্তা হিরা জহরতের মূল্য বাদে শুধু কেবল নগদ অর্থই ছিলো ৬৮ কোটি টাকা। (S. C. Hill. Bengal in, P-108)
৩) পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা একটা জাহাজ সাজিয়ে মহাসমারোহে ম্যানিংহামকে দিয়ে বিলাতে তাদের বিজয় বার্তা প্রেরণ করেছিলো এবং সেনাপতি ক্লাইভ লুটকৃত ধনরত্ন ৭ শত সিন্দুকে বোঝাই করে একশত তরুণীসহ নবদ্বীপে পাঠায়। (মীর কাসিম, পৃষ্ঠা ১৮-১৯, লেখক- অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়)
৪) ১৭৬১ সালে চট্টগ্রামে যে ব্রিটিশ নাগরিকটি প্রথম চিফ হিসেবে দায়িত্বভার নেয় তার নাম হ্যারি ভেরেল্স্ট। সে ব্রিটিশ শাসক হিসেবে চট্টগ্রামে আসার আগে লন্ডনের এক হোটেলে পরিচারকের কাজ করতো। চট্টগ্রামে এসে সে ‘বড় সাহেব’ সাজে। টাকা লুটপাটের অন্যতম এ হোতা অবসর নেয়ার সময় বাংলা থেকে নিয়ে যায় ৪০ লাখ টাকা। (সূত্র- ২৯ মে ২০১১, দৈনিক সমকাল)
৫) ১৭৭৬ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলার এক তৃতীয়াংশ লোক মারা গেলেও ইংরেজ দখলবাজরা পূর্বের বৎসরের তুলনায় ৬ লক্ষ টাকা অধিক ট্যাক্স (রাজস্ব) আদায় করে। বাংলা ও বিহার থেকে পরবর্তী বছর আরো অতিরিক্ত ১৪ লক্ষ টাকা আদায় করে। (British policy & the Muslims in Bengal, A.R Mallick)
পাঠক! ইংরেজ নৌদস্যুদের ডাকাতির আরো বড় ও ভয়াবহ তথ্য ইতিহাস ঘাটলে আপনারাও পাবেন। তৎক্ষণাৎ হাতের কাছে যা পেলাম এর একটা অংশ এখানে তুলে ধরলাম। আগে আমরা পাঠ্যবইয়ে ইংরেজদের এসব ডাকাতি, দখলদারিত্ব, লুটতরাজ, যুলুম-নির্যাতনের কাহিনীর টুকিটাকি পড়তাম। কিন্তু ইদানীং বইগুলো থেকে সেসব বাদ দিয়ে তাদের ব্যাপারে পজিটিভ আলোচনা দেয়া হচ্ছে। যা প্রকাশ্য ইতিহাস বিকৃতি বা ইতিহাস ধামাচাপা দেয়ার পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের ইতিহাস লুকোচুরি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যে কারণে এখন এ দেশের যুব সমাজ ওইসব ডাকাত, দস্যুদেরকেই সভ্য ও আধুনিক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করেছে।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে