ইতিহাস থেকে প্রমাণ- যে আমল মুবারক কখনো কোনভাবেই নষ্ট হয়নি এবং হয়না 


মুঘল শাসক আকবরের নাম শুনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তার সময়কার এক ক্ষমতাধর দুনিয়াদার গুমরাহ বাদশাহ। মূলত, মুঘল বাদশাহদের দাপট তৎকালীন দুনিয়ায় এতই প্রবল ছিল যে অন্যান্য রাজা-বাদশাহরা সবসময় ভয়ে তটস্থ থাকতো- কখন না জানি মুঘলদের রোষানলে পড়ে ক্ষমতাহীন হতে হয়। তার এই দুনিয়াবী ক্ষমতা অপব্যবহার করে সে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সমূহ ক্ষতিসাধনের কোশেশ করতো। আর এর জন্য দায়ী ছিল তৎকালীন ধর্মব্যবসায়ী দুনিয়াদার আলেম-উলামারা। তৎকালীন কুখ্যাত উলামায়ে ‘সূ’ আবুল ফজল, ফৈজী, মোল্লা মুবারক নাগরী প্রমুখ আলিম নামধারীদের প্ররোচনায় সে ‘দ্বীন-ই-ইলাহী’ নামক বাতিল ধর্মের প্রবর্তন করেছিল।
চিন্তা করুন কতটা বিভ্রান্ত হলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে বাদ দিয়ে ‘দ্বীন-ই-ইলাহী’ নামক বাতিল ধর্মের প্রবর্তন করা যায়। অর্থাৎ সে দ্বীনের প্রবর্তক দাবি করেছিল। মূলত, দ্বীন-ই-ইলাহী ছিল সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে দুনিয়ার যমীন থেকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে একটি সর্বাত্মক ঘৃণ্য অপপ্রয়াস। দুই একটা বিষয় উল্লেখ করলেই সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে। আকবরের ইসলামবিদ্বেষের কিছু নমুনা নিম্নরূপ-পবিত্র কালেমা শরীফ পরিবর্তন, বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ, মসজিদকে মন্দিরে রূপান্তর, আযান দেয়া নিযিদ্ধ করা, রাজদরবারে সেজদা প্রথা চালু, গরু কুরবানী নিষিদ্ধ প্রভৃতি। অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বর্ণিত প্রত্যেকটি হালালকে হারাম ঘোষণা করেছিল এবং হারামগুলোকে হালাল ঘোষণা করেছিল। এতটা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী হওয়ার পরও বিশিষ্ট ঐতিহাসিক হযরত জাকাউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে সে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এটাও কি সম্ভর! মূলত, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে বাদ দিয়ে নতুন ধর্মের প্রবর্তন করার পর কেউ যদি লক্ষ-কোটি বছরও নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত আদায় করে তারপরও এই কুফরীর কাফফারা আদায় সম্ভব নয়। তাহলে সে কিভাবে সম্মানিত ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করলো। মূলত, সে একটি সম্মানিত নেক আমল করেছিল, যার সম্মানার্থে সে নাজাত লাভ করেছিল। ঘটনাটি হলো- আকবর ১১ বছর বয়সে গুজরাট বিজয়ের শুকরিয়াস্বরপ সে সুলত্বানুল হিন্দ খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত দরবার শরীফে খালি পায়ে হেঁটে গিয়েছিল জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। এছাড়া সে ১২০ মণ চাল রান্না করা যায় এমন একটি ডেগ হাদিয়া করেছিল এবং কিছু সম্পত্তি ওয়াক্ফ করেছিল। আপাতদৃষ্টিতে একজন ক্ষমতাধর বাদশাহ হিসেবে সে অনেক বড় খিদমতের আনজাম দেয়নি; কিন্তু মর্যাদার বিচারে সে সর্বশ্রেষ্ঠ একটি আমল করেছিল। আর তা হলো- সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম উনার একজন সম্মানিত আওলাদ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লহি আলাইহি উনার সম্মানিত খিদমতের আনজাম দিয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, আকবর প্রথম জীবনে হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি উনার খাছ ভক্ত ছিল। পরবর্তীতে উলামায়ে সূ’দের খপ্পড়ে পড়ে বিভ্রান্ত হয়। এই সম্মানিত আমল উনার সম্মানার্থে সারাজীবন চরম কুফরী করার পরও যখন সে মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রোবে পড়ে লাঞ্ছিত হয়ে মৃত্যুবরণ করছিল, তখন খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বাতিনীভাবে নির্দেশ দেন যে- আকবরকে যেন তওবা করার সুযোগ দেয়া হয়। যার ফলশ্রুতিতে আকবর অন্তিম মুহূর্তে তওবা করে ঈমান নিয়ে মুত্যুবরণ করার সুযোগ লাভ করে। হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এখন সরাসরি পাওয়া যাবে না। কারণ তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। তাহলে কি এই সম্মানিত খিদমত মুবারক করার সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যখন আমার সম্মানিত আওলাদ অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে থাকবেন না, তখন যমীন ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আমরা সকলেই নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ফযীলতপূর্ণ আমলের অনেক ফাযায়িল-ফযীলত জানি। এগুলো আসলেই ফযীলতপূর্ণ আমল। কিন্তু যে সম্মানিত নেক আমলটি অনেকের কাছেই অজানা এবং মানুষ এই সম্মানিত আমলটি সম্পর্কে কখনো চিন্তা-ফিকির করে কিনা তাও চিন্তা-ফিকিরের বিষয়। সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছলাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়। তবে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার সর্বাধিক নিকট সম্পর্কের অধিকারী, নিকটাত্মীয় তথা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া! (সম্মানিত সুরা শুরা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ-২৩)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি চার শ্রেণীর লোকের জন্য ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই সুপারিশ করবো- যে ব্যক্তি আমার পবিত্রতম বংশধর তথা আমার পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মান করবে, উনাদের মালী তথা আর্থিক খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে, উনাদের জান দিয়ে তথা দৈহিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিবে এবং উনাদেরকে অন্তরে মুহব্বত করবে এবং জবানে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবে।” (দায়লামী শরীফ)

সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারাবাহিকতায় যমীনে অবস্থান করছেন ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম- যিনি সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিলে, উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করলে, উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত মুবারক তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে