ইতিহাস থেকে শিক্ষা: কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানরা?


মুসলমানরা যখন স্পেন শাসন করেছিল, তখন স্পেন ছিল ইউরোপের সর্বোচ্চ শক্তিশালী এবং ধনী দেশ। পৃথিবীর বুকে এমন কারো সাহস ছিল না যে, স্পেন আক্রমণ করে। এর মূল কারণ স্পেনের মুসলমানগণ ছিলেন অত্যন্ত আল্লাহ্ ভিরু, পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণকারী এবং পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর অনেক জাঁকজমকভাবে পালন করতেন। অবসর সময়ে যুবকরা যুদ্ধ চর্চা, হামদ, না’ত-ক্বাছীদা চর্চা, বিজ্ঞানের নানা কৌশল চর্চা করতেন। মহিলাগণ কাপড় জাতীয় শিল্প চর্চা, পর্দা পালন, ধর্মীয় শিক্ষা চর্চা এবং তাদের সন্তানদের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্ঞানে-গুণে ও সামরিক শক্তির কাছে সবাই ছিল পরাজিত। কিন্তু কেন আজকে স্পেন খ্রিস্টানরা শাসন করছে? প্রায় ৭ শত বছর শাসনকৃত মুসলমানদের হটিয়ে দেয়ার মূল কারণ হলো- মুসলমানরা সুন্নত থেকে দূরে সরে গিয়েছে। যেমন ব্রিটিশ বা ইউরোপের এক গুপ্তচর কয়েক মাস সেখানে অভিযান চালালো। সে দেখলো পুরুষরা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি যাই করুক কোনো প্রকার ছলচাতুরী করছে না অর্থাৎ ইনসাফ করছে। মহিলারা ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কারণ পর্দা পালন করতে হবে। ঐ সময় মহিলাগণ ছিল সমাজে সবচেয়ে মর্যাদাবান অবস্থানে। মুসলমান শাসকগণ ছিল মুনাফিকী থেকে মুক্ত। কাজেই যুদ্ধ-জিহাদ করে পারা যাবে না, তাই সে রওনা দিলো তার দেশের দিকে। যখন সে সীমান্তে বা বর্ডারে আসলো তখন সে এক যুবক ছেলেকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞাসা করলো আপনি কাঁদছেন কেন? উত্তরে যুবক বললো আমি কাঁদছি এই কারণে যে আমি সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি আর আমার কোনো কর্তব্যে অবহেলা হচ্ছে কিনা, কারণ ক্বিয়ামতের দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এই ব্যাপারে আমি কি জবাব দিবো- এই ভয়ে কাঁদছি। গুপ্তচর তার কথা শুনে ব্রিটিশদেরকে বললো এখনো সময় হয়নি স্পেন আক্রমণ করার। কারণ স্পেনের মুসলমানরা অত্যন্ত তাক্বওয়াধারী। ঠিক তার দশ থেকে পনের বছর পর যখন গুপ্তচর পাঠানো হলো স্পেনে সে গিয়ে দেখলো স্পেনের মহিলারা ঘরের বাহিরে বেপর্দা, যুবকরা খেল-তামাশায় মগ্ন, শাসকরা মুনাফিকী করছে। গুপ্তচর এই রিপোর্ট নিয়ে যখন ফিরে আসছিল তখন সে সীমান্তে এক যুবকের কান্না দেখে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে কাঁদছেন কেন? সেই যুবক বললো আমি এখানে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি আর কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে সংবাদ এলো আমার স্ত্রী অন্য যুবকের সাথে চলে গিয়েছে। তাহলে আমার এই সীমান্ত পাহারা দেয়ার আর প্রয়োজন আছে কি? গুপ্তচর কিছু না বলে চলে গেল এবং সেই বছরই স্পেন থেকে চিরতরে মুসলমানদের শহীদ করে খ্রিস্টানরা দখল করলো স্পেন।
যুগে যুগে এইভাবেই ইহুদী, খ্রিস্টান, মুষরিকরা মুসলমানদের চরিত্র নষ্ট করে, মুসলমানিত্ব ধ্বংস করে শোষণ করছে সারা বিশ্ব। আর কাফিরদের মূল হাতিয়ার ছিল মুনাফিক শাসক এবং বিভ্রান্ত আলিম সমাজ। বর্তমানে বাংলাদেশেও সেই মুনাফিক গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে যা খুশি তাই করছে। বিভ্রান্ত আলিমরা বেপর্দা থেকে শুরু করে সমস্ত হারাম কাজগুলোকে হালাল ফাতাওয়া দিচ্ছে। যেমন: বিভ্রান্ত আলিমরা বলে- বর্তমানে এতো পর্দা পালন করা লাগে না। নাউযুবিল্লাহ! মীলাদ শরীফ বলতে কিছু নাই। নাউযুবিল্লাহ! শবে বরাত নাই। নাউযুবিল্লাহ! শবে মি’রাজের গুরুত্ব-ফযীলত নাই। নাউযুবিল্লাহ! বর্তমানে এত সুন্নত পালন করা লাগে না। নাউযুবিল্লাহ! মাযহাব বলতে কিছু নাই। নাউযুবিল্লাহ! সময়ের প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয আছে। নাউযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ সমস্ত হারামকে তারা হালাল করছে আর হালাল এবং নাজাতের পথগুলোকে হারাম বলছে। অপরদিকে মুনাফিক গোষ্ঠীর প্ররোচনায় সাধারণ জনগণ নাচ-গান, খেলাধুলা প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা- এ যেন সেই স্পেনের শেষ দিনগুলোর মতোই। বাংলার মুসলমানরা যদি এখনো খালিছ তওবা না করে, তাহলে চোখের সামনেই দেখতে পাবে মায়ের সামনে প্রিয় সন্তান হত্যা, বাবার সামনে মেয়ের সম্ভ্রমহানী। এই দেশ রক্তে রঞ্জিত করে দিবে উগ্র সাম্প্রদায়িক মুশরিকরা। চারপাশে চলতে থাকবে হত্যা আর সম্ভ্রমহরণ। কেমন হবে সেই সময়টা। সেই সময় বলে লাভ নেই এখনিই চলছে সেই সময়। আমি চিৎকার করে বাঙালি মুসলমানদের বলছি- আপনারা আপনাদের শত্রুদের কাছ থেকে দূরে থাকুন, তাদেরকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করুন, তাদের অনুসরণ বাদ দিন। তাদের সাথে সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, বন্ধুত্ব, লেনদেন বন্ধ করুন। সরকারি সমস্ত পথ থেকে তাদেরকে অপসারণ করুন। টেলিভিশন দেখা বন্ধ করুন। পূজা, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি বিধর্মীয় অনুষ্ঠান এদেশ থেকে বন্ধ করুন। নচেৎ এদেশ হবে একদিন বিধর্মীদের। কিভাবে মুসলমানরা সহ্য করবেন শিশু হত্যা, ছেলে হত্যা, পিতা হত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রমহরণ। তাই বীর বাঙালি তওবা করো, শক্ত হাতে কলম ধরো, সাহসের সাথে এগিয়ে চলো সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ বুকে নিয়ে, আসসাফফাহ আলাইহিস সালাম আছেন তোমাদের সাথে।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে