ইতিহাস পর্যালোচনা:‘আমার সোনার বাংলা’ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিধর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য লিখিত


আমার সোনার বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হলেও এর রচনার মূলে ছিল রবীন্দ্রের মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরুদ্ধাচরণ। ১৯০৫ ঈসায়ী সালে বঙ্গভঙ্গ আইনের দ্বারা বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে পূর্ব-বাংলা এবং পশ্চিম-বাংলা নামে দুটি প্রদেশে রুপান্তর করা হয়। পূর্ব-বাংলার অংশে যোগ হয় মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ এবং আসাম। আর পশ্চিম বাংলার অংশে বিধর্মী অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যাকে রাখা হয়। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে তথা পুর্ব-বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে তৎকালীন কথিত ভাইসরয় লর্ড কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ ঈসায়ী সালের ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ আইন কার্যকর করা হয়। পূর্ব-বাংলার মুসলমানরা এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিলেও পশ্চিম-বাংলার বিধর্মীরা এটাকে মেনে নিতে পারেনি। কোনোরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও বিধর্মীরা এটাকে মেনে নিতে পারেনি শুধুমাত্র একটা কারণে। সেটা ছিল এই বিভাজনের ফলে মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষার অগ্রগতি হবে। তারা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে। ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গ আইন প্রণয়নের পরপরই সেপ্টেম্বর মাসে আমার সোনার বাংলা কবিতাটি লেখা হয় এবং অক্টোবর মাসে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে অবিভক্ত বাংলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বদেশী আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকে বেগবান করার করার জন্য অনুষ্ঠান করে ‘আমার সোনার বাংলা’সহ রবীন্দ্রের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুণ্য হোক, পুণ্য হোক’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ দ্বিজেন্দ্র রায়ের ‘ধন-ধান্যে পুুষ্পে ভরা’ ইত্যাদি সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে পুর্ব-বাংলা প্রদেশ সৃষ্টির বিরুদ্ধে বিধর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হতো। শুধু তাই নয়, এর দ্বারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য বিধর্মীত্বের জাগরণকে অনিবার্য বলে প্রকাশ করা হতো। সেটাই দেখা যায়, আমার সোনার বাংলা এর মধ্যে ‘মা‘ বলতে অবিভক্ত বাংলাকে, ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে’ কথাগুলো রূপক হিসাবে বিভাজিত বাংলার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ‘কি আঁচল বিছায়েছো বটের মূলে নদীর কূলে কূলে’ এই কথাগুলোর দ্বারা বিধর্মীত্ববাদ, সন্ন্যাসবাদ ও বিধর্মী আশ্রমের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। স্বদেশী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশদের সাথে লবিং ও উস্কানীপ্রসূত। তবে মুসলমান ও বিধর্মীদের মধ্যকার বৈরীভাব লক্ষ্য করে ব্রিটিশরা ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ আইন বাতিল করে। ঐতিহাসিক বিশ্লেষকরা মনে করে যে, ঐ সময়ে বঙ্গভঙ্গ আইন বাতিল না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটা যুদ্ধ এবং ৩০ লক্ষ বাঙালির প্রাণ দিতে হতো না। পরবর্তীতে সান্তনাস্বরূপ পুর্ব-বাংলায় ব্রিটিশরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সেখানেও এই রবীন্দ্রসহ অন্যান্য বিধর্মীরা বিরোধিতা করে।
রবীন্দ্র মনে করতো বিধর্মীদের প্রধান শত্রু মুসলমানরা এবং তারপরে খ্রিস্টানরা। সে বিদ্বেষের অনুগামী হয়ে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিতদের মুসলিম-বিধর্মী বলতো এবং খ্রিানদের খ্রিস্টান-বিধর্মী বলে আখ্যায়িত করতো। তাই সে মনে করতো মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিধর্মীত্ববাদকে চাঙ্গা করে না রাখতে পারলে এরা বিধর্মীদেরকে গ্রাস করে নিবে। সে কারণেই ঠগের বিভিন্ন রচনাবলীতে মুসলিমবিদ্বেষীভাব সু¯পষ্ট। সাহিত্যিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী সে রবীন্দ্রকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলো, ‘তুমি অনেকের বিষয়ে অনেক কিছু লিখেছো, কিন্তু এটা কি করে সম্ভব হলো যে, তোমার লেখালেখিতে কোথাও ইসলামের সৌন্দর্যের ব্যাপারে কিংবা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহানুভবতা স¤পর্কে কোনো উল্লেখ নাই।’
একথার উত্তরে রবীন্দ্র বলে যে, সে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়া শুরু করেছিল, কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেনি। তাছাড়া নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারক তার পছন্দ নয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এরকম ধারণা যার অন্তরে, তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের জাতীয় একটি বিষয় হিসেবে গ্রহণ করাটা কতখানি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়েছে- সেটাই ভাববার বিষয়। তাই আমরা আমাদের দেশের সরকারের কাছে দাবি করছি- ‘আমার সোনার বাংলা’-এর পরিবর্তে শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে উম্মু রসূল হযরত আমীনা আলাইহাস সালাম উনার কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে লিখিত সুমহান না’ত শরীফ উনাকে জাতীয় না’ত শরীফ হিসেবে গ্রহণ করা হোক।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে