ইফা কর্তৃক পবিত্র নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য করা সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে দলীল পেশ করো।
ইফা কর্তৃক পবিত্র নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য করা সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ। নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহার করা জায়িয এ বিষয়ে তাদেরকে অবশ্যই দলীল পেশ করতে হবে। নচেৎ তারা মিথ্যাবাদী বলেই সাব্যস্ত হবে।
মূলত: সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নামায অবস্থায় চেহারা বা মুখম-ল ঢেকে রাখা মাকরূহ, আর নামায মাকরূহে তাহরিমী হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব। এটাই ছহীহ ও দলীলভিত্তিক ফতওয়া।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইফা করোনাকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করার কারণেই নামাযের সময় বা মসজিদে প্রবেশের সময় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে ছোঁয়াচে বলে কোনো রোগ নেই, কোনো রোগকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করা সুষ্পষ্ট শিরক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দ্বারা ভাগ্য নির্ধারণ ও বৃষ্টি হওয়া বা না হওয়া ভিত্তিহীন এবং সম্মানিত ছফর শরীফ মাসে অশুভ বলতে কিছুই নেই।” (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯১, তুহফাতুল আশরাফ ১০/২৩৪ ইত্যাদি) অনুরূপ বুখারী শরীফ হাদীছ শরীফ নং ৫৭৭৬, মুসলিম শরীফ হাদীছ শরীফ নং ২২২৪, মুসনাদে আহমদ ২০/৩১, মুসনাদে আবী দাঊদ ত্বয়ালসী ৩/৪৬৭, মুসনাদে বায্যার ১৩/৪১৯ ইত্যাদি কিতাবেও উল্লেখ আছে)

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার ব্যখ্যাগ্রন্থ ‘মু‘আমিলুস সুনান’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই’ উনার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোন কিছুই কোন কিছুকে সংক্রামিত করতে পারে না। আর ক্ষতি (রোগ) যেটা হয়, সেটা তার থেকেই হয়। আর নিঃসন্দেহে এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত এবং পূর্বফায়ছালাকৃত। আর এ কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, প্রথম উটটিকে কে সংক্রামিত করলো? তিনি বলেন, নিশ্চয়ই উট হতে যে উটটি প্রথম খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত হলো, তার পূর্বে তো কোন উট খুঁজলি-পাঁচড়া যুক্ত হয়নি যে, তাকে সংক্রামিত করবে। আর নিশ্চয়ই উটের মধ্য হতে প্রথম উটের মধ্যে যে খুঁজলি-পাঁচড়া প্রকাশ পেয়েছে, এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফায়ছালাকৃত, যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। অনুরূপভাবে প্রথম উটটির পর বাকি যেই উটগুলোর মধ্যে খুঁজলি-পাঁচড়া প্রকাশ পেয়েছে, সেটাও মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত ফায়ছালা।” সুবহানাল্লাহ! (মু‘আমিলুস সুনান ৪/২৩৩)

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আর নামাযের ব্যাপারে হুকুম হলো নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নামাযের সময় চেহারা ঢেকে রাখা মাকরূহ তাহরীমী। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেকোনো ব্যক্তিকে নামাযরত অবস্থায় তার মুখম-ল ঢাকতে নিষেধ করেছেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯৬৬, আবু দাউদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ) তাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে পুরুষ মহিলা উভয়ের জন্যই নামাযের সময় চেহারা বা মুখম-ল ঢেকে রাখা মাকরূহ তাহরীমী। আর নামাযে মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তারা বর্তমানে নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহারকে মাজুর হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। অথচ তা কখনোই মাজুরের মধ্যে পড়েনা। কারণ যেখানে ছোঁয়াচে রোগ বলতে ইসলামে কোনো রোগ নেই। সেখানে কি করে তা মাজুর হলো? কস্মিন কালেও তা মাজুরের মধ্যে পড়েনা। কাজেই যেহেতু এটা মাজুরের মধ্যে পড়েনা। তাই নামায অবস্থায় মাস্ক ব্যবহার করলে অবশ্যই নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে এবং উক্ত নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব হবে। অন্যথায় নামায তরকের গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতএব ইফা ও ধর্মমন্ত্রণালয়ের উচিত, অবিলম্বে নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়া। অথবা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য দলীল পেশ করা। নচেৎ কোটি কোটি মুসলমানের নামায নষ্টের কাফ্ফারা তাদেরকেই আদায় করতে হবে। আর প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে নামাযের সময় মাস্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। নচেৎ নামায তরকের গুনাহ হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে