ইবনু রসূলিল্লাহ, আউওয়ালু আওলাদি রসূলিল্লাহ, র্কুরতু আইনি রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল বাশার, সাইয়্যিদুল কাওনাইন সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-


উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন:
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বপ্রথম আওলাদ (সন্তান) হিসেবে দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! এখানে একটি বিষয় ফিকিরের যে, যেকোনো বাবা-মার যখন প্রথম সন্তান হয়, তখন তারা সীমাহীন খুশি হয়। যদি বিষয়টি এরূপ হয়ে, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা উনাদের সর্বপ্রথম আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে কত বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনারা উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে খুশি মুবারক প্রকাশ করে, ফালইয়াফরহূ তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে গোলাম আযাদ করেন এবং অনেক দান-ছদক্বা মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুশি মুবারক প্রকাশের কারণে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিও সীমাহীন খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, ফালইয়াফরহূ মুবারক করেছেন, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনাদের কারণে সমস্ত সৃষ্টিজগত, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সমস্ত উম্মতের জন্য ফরয হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন খুশি মুবারক প্রকাশ করা, ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكـُمْ وَشِفَاءٌ لِّـمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং খাছ করে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, সম্মানিত ফযল মুবারক এবং সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন ‘ফালইয়াফরাহূ’ তথা সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করে, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই ‘ফালইয়াফরাহূ’ তথা সম্মানিত খুশি প্রকাশ করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা যেমন ফরয, তেমনিভাবে উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাও ফরয তো অবশ্যই; বরং ফরয উনার উপর ফরয। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন এবং উনার সম্মানার্থে দায়িমীভাবে হাক্বীক্বীভাবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক রাখা এবং উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া:
মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিন তথা ৮ই রমাদ্বান শরীফ দুটি দুম্বা/খাসি দ্বারা সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! তারপর শত শত উট ও অন্যান্য পশু যবাই করে বিশেষ মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আত্মীয়-স্বজন, সমস্ত কুরাইশ, জিন-ইনসানসহ সকলেই সেই সম্মানিত মেহমানদারীতে উপস্থিত হন এবং তৃপ্তি সহকারে সম্মানিত তাবাররুক মুবারক (খাবার মুবারক) গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম ইসম বা নাম মুবারক উনার অর্থ মুবারক এবং তাৎপর্য মুবারক:
القاسم (আল ক্বাসিম)। ক্বাসিম উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন বণ্টনকারী।
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللهِ يُعْطِي
অর্থ: “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যার ভালাই চান, তাকে সম্মানিত দ্বীন উনার ছহীহ সমঝ দান করেন। আর আমি হচ্ছি বণ্টনকারী এবং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন দাতা।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিনা ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘হাবীবুল্লাহ’ হিসেবে, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক তিনি হচ্ছেন ক্বাসিম বা বণ্টনকারী। তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সৃষ্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মাখলূকাতের জন্য বণ্টনকারী। সুবহানাল্লাহ! তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেসহ সমস্ত কায়িনাতবাসীকে সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক বণ্টন করেছেন, করে যাচ্ছেন এবং ক্বিয়ামত ও তার পর পর্যন্ত অনন্তকাল যাবৎ সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক পর্যন্ত বণ্টন করতেই থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, সাইয়্যিদুছ ছাক্বালাইন, সাইয়্যিদুল বাশার, ইমামুল মুত্তাক্বীন, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই সম্মানিত ছিফত মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তিনিও একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সৃষ্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং অনন্তকাল যাবৎ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারকসমূহ উনাদের বণ্টনকারী। সুবহানাল্লাহ! তাই যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রেখেছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত মুবারক মুবারক নাম তথা লক্বব মুবারক রয়েছে, তোমরা উনাকে সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক দ্বারা আহ্বান করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম, ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসংখ্য-অগণিত। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছেন, সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
اِبْنُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আবনা’ (ছেলে)। সুবহানাল্লাহ!
اَهْلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
بِضْعَةٌ مِّنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক উনার একখানা টুকরো মুবারক, লখতে জিগর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
اَلْـحَافِظُ (আল হাফিয)- হিফাযতকারী।
اَلْـحَامِدُ (আল হামিদ)- প্রশংসাকারী।
حَبِيْبُ اللهِ (হাবীবুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব।
اَلْـحَلِيْمُ (আল হালীম)- পরম ধৈর্যশীল, মহাসহনশীল।
اَلْـخَالِصُ (আল খ¦ালিছ)- খালিছ, পূত-পবিত্র।
اَلْـخَبِيْرُ (আল খ¦বীর)- মহাবিজ্ঞ, মহাবিচক্ষণ।
اَلْـخَلِيْلُ (আল খ¦লীল)- আখাচ্ছুল খাছ প্রিয়, আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব।
خَلِيْلُ الرَّحْـمٰنِ (খ¦লীলুর রহমান)- মহান আল্লাহ উনার আখাচ্ছুল খাছ প্রিয়, মাহবূব।
ذُو السَّكِيْنَةِ (যুস সাকীনাহ)- সাকীনাহ, শান্তি, প্রশান্তি, ইতমিনান ইত্যাদির মালিক।
اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ (উসওয়াতুন হাসানাহ্)- সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।
ذُو الـصِّـرَاطِ الْمُسْتَقِيْمِ (যুছ ছি¦রাত্বিল মুস্তাক্বীম)- ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার মালিক।
ذُو الْعِزَّةِ (যুল ‘ইঝ্ঝাহ)- সম্মানিত ইজ্জত মুবারক উনার মালিক।
ذُو الْفَضْلِ (যুল ফাদ্বল)- সম্মানিত ফযল মুবারক উনার মালিক।
ذُو الْكَرَامَةِ (যুল কারামাতি)- সম্মানিত কারামত মুবারক উনার মালিক।
ذُو الْوَسِيْلَةِ (যুল ওয়াসীলাহ)- সম্মানিত ওসীলাহ মুবারক উনার মালিক।
اَلرَّاضِىْ (আর রাদ্বী)- আখাচ্ছুল খাছ সন্তুষ্টি মুবারক প্রাপ্ত।
اَلرَّافِعُ (আর রাফি’)- সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারী এবং সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক দানকারী।
رَحْـمَةُ الْاُمَّةِ (রহমাতুল উম্মাহ)- সমস্ত উম্মতের জন্য রহমত মুবারক।
رَحْـمَةٌلِّـلْـعَـالَـمِيْنَ (রহমাতুল্লিল ‘আলামীন)- সমস্ত আলম তথা কায়িনাতের জন্য রহমত মুবারক।
اَلرَّشِيْدُ (আর রশীদ)- সৎপথপ্রাপ্ত, সৎপথ প্রদর্শনকারী, ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ।
اَلـزَّكِـىُّ (আঝ ঝাকি)- পূত-পবিত্র, বিচক্ষণ।
اَلسَّابِقُ بِالْـخَيْرَاتِ (আস সাবিকু বিল খইরাত)- খইর, কল্যাণ, ভালাই ইত্যাদি সর্ববিষয়ে অগ্রগামী।
اَلسَّخِىُّ (আস সাখি¦)- মহাদানশীল।
سَـيِّـدُ الْكَوْنَيْنِ (সাইয়্যিদুল কাওনাঈন)- দুই জগতের সাইয়্যিদ।
اَلشَّافِعُ (আশ শাফি’)- সুপারিশকারী, শাফায়েতকারী।
اَلشَّاكِرُ (আশ শাকির)- যথাযথ বিনিময় প্রদানকারী, যথার্থ পুরস্কারদাতা, যথাযথ শুকরিয়াকারী।
এগুলো ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেন: সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘উমদাতুল ক্বারী’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
ومجموع أولاد النبي ثمانية القاسم وبه كان يكنى
অর্থ: “আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট আটজন। প্রথম হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত নাম মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী শরহে ছহীহ বুখারী ১২/৩৫৯)
বুখারী শরীফ-এ এসেছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السُّوقِ، فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَبَا القَاسِمِ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ إِنَّمَا دَعَوْتُ هَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمُّوا بِاسْمِي وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাজারে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি ‘হে আবুল ক্বাসিম বলে ডাক দিলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার দিকে তাকালেন। লোকটি বললো, আমি (আপনাকে ডাকিনি) ওই ব্যক্তিকে ডেকেছি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা আমার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক-এ নাম রাখুন। কিন্তু আমার কুয়িনাত (উপনাম) মুবারক-এ আপনাদের কুনিয়াত মুবারক রাখবেন না।”
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنِّي أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা আমার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক-এ নাম রাখুন। আর আমার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ কেউ কুনিয়াত রাখবেন না। কেননা, নিশ্চয়ই আমি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সর্বশ্রেষ্ঠ বণ্টনকারী। আমি আপনাদের মাঝে বণ্টন করে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ ২২/১৩৩, আদাবুল মুফরাদ ১/৪৫১ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَجْمَعُوا بَيْنَ اسْمِي وَكُنْيَتِي فَإِنِّي أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي، وَأَنَا أَقْسِمُগ্ধ
অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা আমার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক এবং সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক এক সাথে রাখবেন না। কেননা আমি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করে থাকেন, আর আমি আপনাদের মাঝে বণ্টন করে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ১৫/৩৬৭)
উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত এই হুকুম বলবৎ ছিলো। আর উনার মহসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ কুনিয়াত মুবারক রাখা অথবা সম্মানিত নাম মুবারক ও সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক একই সাথে রাখা জায়িয রয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বেই আসমানবাসী-যমীনবাসী সমস্ত মাখলূকাতের মাঝে ‘আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুনিয়াত মুবারক-এ পরিচিত ছিলেন:
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وله فى كل شهر من حمله نداء فى الارض ونداء فى السماء ان ابشروا فقد ان ان يظهر ابو القاسم محمد الـمصطفى صلى الله عليه وسلم ميمونا مباركا
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ থাকাবস্থায় (মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে) প্রতি মাসে আসমান ও যমীনে ঘোষণা দেয়া হতো যে, আপনারা সবাই সুসংবাদ মুবারক গ্রহণ করুন, অতিশীঘ্রই ‘সাইয়্যিদুনা আবুল ক্বাসিম মুহম্মদ মুছতফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। তিনি হচ্ছেন সৌভাগ্যবান ও বরকতময়।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কুনিয়াত মুবারক হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! আর আসমানবাসী-যমীনবাসী সকলের মাঝে ঘোষণা করে এই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, তা সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করাটাই সবার্ধিক পছন্দ মুবারক করেছেন:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَا اُخْبِرُكَ يَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّ حَضْرَتْ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَتَانِـىْ فَاَخْبَرَنِـىْ اَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ بَرَّاَ حَضْرَتْ مَارِيَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَقَرِيـبَهَا مِـمَّا وَقَعَ فِـىْ نَفْسِىْ وَبَشَّرَنِـىْ اَنَّ فِـىْ بَطْنِهَا غُلَامًا مِّـنِّــىْ وَاَنَّهٗ اَشْبَهُ الْـخَلْقِ بِىْ وَاَمَرَنِـىْ اَنْ اُسَـمِّـىَ ابْنِىْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَنَّانِـىْ بِاَبِـىْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَوْلَا اَنِّـىْ اَكْرَهُ اَنْ اُحَوِّلَ كُنْيَــتِـىَ الَّتِـىْ عُرِفْتُ بـِهـَا لَاكْتَنَيْتُ بِاَبِـىْحَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَمَا كَنَّانِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমি কি আপনাকে এই মহাসম্মানিত সুসংবাদ মুবারক দিবো না যে, নিশ্চয়ই আমার নিকট হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এই মুবারক সুসংবাদ পেশ করেছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ ক্বিবত্বিয়্যাহ আলাইহাস সালাম উনাকে আমার সম্মানিত আখাচ্ছুল খাছ নৈকট্য মুবারক হাদিয়া করেছেন এবং আমাকে এই মহাসম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেছেন যে, নিশ্চয়ই উনার মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ-এ আমার একজন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত অবস্থায় অবস্থান মুবারক করছেন। (যিনি অতিশীঘ্রই মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন।) সুবহানাল্লাহ! আমার এই মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি সৃষ্টি জগতের মাঝে, সমস্ত মানুষের মাঝে আমার সাথে অধিকতর সদৃশ হবেন, সামঞ্জস্যপূর্ণ হবেন, হুবহু আমার অনুরূপ হবেন তথা আমার হুবহু নকশা মুবারক হবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই সম্মানিত নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন যে, আমি যেন আমার উক্ত মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক রাখি ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমার মহাসম্মানিত কুনিয়াত মুবারক দিয়েছেন ‘আবূ ইবরাহীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ! আর আমি যেই মহাসম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ (আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুনিয়াত মুবারক-এ) পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছি, যদি তা পরিবর্তন করতে পছন্দ করতাম, তাহলে আমি অবশ্যই ‘আবূ ইবরাহীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ মহাসম্মানিত কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করতাম। যেই মহাসম্মানিত কুনিয়াত মুবারক মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে আসাকির, জামিউল আহাদীছ শরীফ ৩/৯১ এবং ২০/৪১০, কানযুল উম্মাল শরীফ ১১/৪৭১, ই’তিলালুল ক্বুলূব ২/৩৫৬, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১৪/১১০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৯/৮৬ ইত্যাদি)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে ফুটেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কুনিয়াত মুবারক গ্রহণ করাটাই সবার্ধিক পছন্দ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্ব থেকে অদ্যবধি ‘আবুল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ পরিচিতি মুবারক গ্রহন করেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত অনন্তকাল যাবৎ তিনি এই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ পরিচিত থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং যখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক কেউ স্মরণ করবে, তখনই সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে স্মরণ করা হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এখান থেকে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ছূরত মুবারক:
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ইবনু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ছূরত মুবারক ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ। সুবহানাল্লাহ! তিনি সৃষ্টি জগতের মাঝে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
আর এই কারণে উনার একখানা সম্মানিত লক্বব মুবারক হচ্ছেন, ‘আশবাহুল খ¦লক্বি বিউম্মিল মু’মিনীন কুবরা আলাইহাস সালাম’ তথা সৃষ্টিজগতের মাঝে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো স্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুবারক উনাদের মধ্যে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুজনের মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা) মুবারক ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে আর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুজনের মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা) মুবারক ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! আর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছানী আলাইহিস সালাম উনার, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ এই চারজন উনাদের মুশাবাহাহ (সাদৃশ্যতা) মুবারক ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের সাথে।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি কতো বেমেছালা সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইলম মুবারক:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيْتُ جَوَامِعَ الْعِلْمِ .
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে দারাকুত্বনী ৫/২৫৪, দায়লামী শরীফ ১/৪০০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেমন হাবীবুল্লাহ হিসেবে এবং সমস্ত সম্মানিত ইলম মুবারক ও মর্যাদা-মর্তবা মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকেও হাবীবুল্লাহ হিসেবে এবং সমস্ত সম্মানিত ইলম মুবারক ও মর্যাদা-মর্তবা মুবারক হাদিয়া করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। কাজেই তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারী, মালিক ও বণ্টনকারী। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে,
هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ
অর্থ: “উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পূত-পবিত্র রেখেছেন এবং উনার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.
অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫, তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَنَّ نَبِـىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (প্রায়) ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিনা ইলাল আখিরীন, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আলোচ্য সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে- اَهْلُ بَيْتٍ نَـحْنُ (আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেকে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর طَهَّرَهُمُ اللهُ – মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থ হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ছমাদ তথা বেনিয়ায করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম উনার খনি মুবারক ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَللهُ الصَّمَدُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইখলাছ শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ২)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিনা ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! ঠিক তেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! আর ঠিক একইভাবে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম উনার খনি মুবারক ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনারা এই সকল বিষয় উনাদের মুহতাজ নন; বরং এই সমস্ত বিষয়গুলো উনাদের মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, তা এখান স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে যিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। যা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! তবে এক কথায় তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান রয়েছে, সমস্ত কিছুর অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনার সাথে সৃষ্টি জগতের কারোই তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের বেমেছাল আদর-যতœ ও মুহব্বত মুবারক লাভ:
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বপ্রথম আওলাদ এবং তিনি হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সর্বাধিক সময় দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে পূর্ণ ২২ মাস অবস্থান মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই ২২ মাসের মধ্যে ২১ মাস ১৯ দিন তিনি এককভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের বেমেছাল আদর-যত্ম ও মুহব্বত মুবারক লাভ করেছেন। কেননা ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ১১ দিন পর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক করেন। তাহলে তিনি এককভাবে ২১ মাস ১৯ দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের কতো বেমেছাল আদর-যত্ম ও মুহব্বত মুবারক লাভ করেছেন, সেটা সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনারা একই সম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি:
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদেরকে একই সম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فخلقتك وأهل بيتك من القسم الأول
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার পূত-পবিত্র, পবিত্রতাদানকারী সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত প্রথম ভাগ নূর মুবারক থেকে তথা একই নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ১/২৭৩, নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আর ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা একই সম্মানিত নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আহ্বান:
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ.
অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমি আপনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইনশিরাহ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৪)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদুল কাওনাইন, হাবীবুল্লাহ, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা মুবারকও মহান আল্লাহ পাক তিনি বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে এতো বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী, উনাদের মালিক। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি যদি দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হিসেবে দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে আর কেউ নবী-রসূল হবেন না, নবী-রসূল হিসেবে প্রকাশ হবেন না, তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ নিয়ে যাওয়ার ইরাদা মুবারক (ইচ্ছা মুবারক) করেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াতী ও বিছালতী শান মুবারক প্রকাশের প্রায় ১০ বছর ৮ মাস পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক প্রায় ২৯ বছর ৪ মাস। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা অবিরত ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন:
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা অবিরত ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সাথে পাড়া-প্রতিবেশীসহ কায়িনাতের সকলেই কান্না করে, শোক প্রকাশ করে। সুবহানাল্লাহ! গাছ-পালা, তরু-লতা, সাগর-মহাসাগর, গ্রহ-নক্ষত্র, জিন-ফেরেশতা, চাঁদ-সূর্য এক কথায় সমস্ত মাখলুকাতের মাঝে সেই শোকের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أن خديجة دخل عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد موت القاسم وهي تبكي عليه
অর্থ: “ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট গেলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে সম্মানিত নূরুল মুহব্বত প্রবাহিত করতে ছিলেন।” (ইরশাদুস সারী শরহে ছহীহ বুখারী ২/৪৬৯, আর রওদ্বুল উন্ফ ১/৩২৫)

সম্মানিত গোসল মুবারক করানো এবং সম্মানিত কাফন মুবারক পরানো:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত লখতে জিগার ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত গোসল মুবারক করান এবং সম্মানিত কাফন মুবারক পরান। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত রওযা শরীফ-এ রাখা:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দিক-নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক খনন করা হয়। অতঃপর স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ হাত মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত লখতে জিগার মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক-এ রাখেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের দু’চোখ মুবারক বেয়ে অবিরত ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত হতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত দুধ মুবারক পান করানোর জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন:
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا فِى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
অপর বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا تُوُفِّـىَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ ابْنُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا فِى الْـجَنَّةِ تُتِمُّ بَقِيَّةَ رَضَاعِهٖ
অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন, যিনি উনার অবশিষ্ট দুধ মুবারক পান করার মেয়াদ পূর্ণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল আহাদ ওয়াল মাছানী শরীফ)
অনুরূপভাবে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শান মুবারকেও সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وذلك أن خديجة دخل عليها رسول الله {صلى الله عليه وسلم} بعد موت القاسم وهي تبكي عليه فقالت يا رسول الله لو كان عاش حتى تكمل رضاعته لهون علي فقال إن له مرضعا في الجنة تستكمل رضاعته فقالت لو أعلم ذلك لهون علي فقال إن شئت أسمعتك صوته في الجنة فقالت بل أصدق الله ورسوله
অর্থ: “ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট গেলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে সম্মানিত নূরুল মুহব্বত প্রবাহিত করতে ছিলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি যদি দুনিয়ার যমীনে অবস্থান করতেন, তাহলে উনার দুধ মুবারক পান করার সময়সীমা পূর্ণ হতো। তাহলে এটা আমার জন্য সহজতর হতো, আমার কষ্ট মুবারক লাঘবের কারণ হতো। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন, যিনি উনার অবশিষ্ট দুধ মুবারক পান করার মেয়াদ পূর্ণ করবেন। তারপর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আমি যদি সেটা জানতাম, তাহলে আমার জন্য সহজতর হতো, আমার কষ্ট মুবারক লাঘবের কারণ হতো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি যদি চান, তাহলে আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওয়াজ মুবারক শুনাবো। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বরং আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে বিশ্বাস করি।” সুবহানাল্লাহ! (ইরশাদুস সারী শরহে ছহীহ বুখারী ২/৪৬৯, আর রওদ্বুল উন্ফ ১/৩২৫)
উপরোক্ত সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, সমস্ত কায়িনাতই হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাদিম। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর যখন উনাদেরকে সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা হয়েছে, তখন থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক-এ সম্মানিত জান্নাতী দুধমাতাগণ উনারা উনাদেরকে দুধ মুবারক পান করানো থেকে শুরু করে উনাদের যাবতীয় সমস্ত প্রকার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখন হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত বয়স মুবারক সম্মানিত দুধ মুবারক পান করার শেষ সীমায় উপনীত হয়েছেন, তখন সম্মানিত জান্নাতী দুধমাতাগণ উনারা উনাদের সম্মানিত দুধ মুবারক পান করানো থেকে বিরত থেকেছেন। সুবহানাল্লাহ! এছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক-এ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দায়িমীভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! একইভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার বিষয়টি ফায়ছালা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ সম্মানিত জান্নাতবাসী পুরুষ উনাদের বয়স মুবারক হবে ৩৩ বছর। হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সেই ৩৩ বছর বয়স মুবারক-এ উপনীত হওয়া পর্যন্ত উনাদের সম্মানিত বয়স মুবারক বাড়তে থাকেন। অতঃপর যখন উনারা সম্মানিত ৩৩ বছর বয়স মুবারক-এ (জান্নাতী বয়স মুবারক-এ) উপনীত হয়েছেন, তখন উনাদের সম্মানিত বয়স মুবারক বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়েছেন। উনারা বর্তমানে সেই সম্মানিত ৩৩ বছর বয়স মুবারকেই সম্মানিত অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, বিশেষ করে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, খুছূছিয়াত মুবারক সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি শুধু খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে