ইমামুছ ছালিছ, ইমামু আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদকারীরা দুনিয়ায় থাকতেই ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে


হযরত ইমাম যূহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার সময় যারা অংশ নিয়েছিলো তাদের মধ্যে কেউ রক্ষা পায়নি। তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলো না, যার মৃত্যুর পূর্বেই এ দুনিয়ায় সাজা হয়নি। কাউকে হত্যা করা হয়েছে, কারো মুখ কালোবর্ণ হয়ে গেছে, কারো আকৃতি বিকৃতি হয়েছে, কারো অল্প দিনের মধ্যে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে।” নিম্নে তার কতিপয় প্রমাণ উল্লেখ করা হলো-
(১)
হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, “এক বৃদ্ধ ব্যক্তি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার সময় অংশগ্রহণ করেছিলো। হঠাৎ একদিন লোকটি অন্ধ হয়ে যায়। লোকেরা এর কারণ জানতে চাইলে বৃদ্ধ বললো, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখি যে, তিনি উনার হাত মুবারক-এ উনার কাপড় গুটিয়ে আছেন। উনার হাত মুবারক-এ একখানা তলোয়ার মুবারক। আর উনার সামনে মানুষ ক্বতল করার জন্য যে বস্ত্র বিছানো হয় তা বিছানো। সেখানে হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদকারী দশজনের জবাই করা লাশ পড়ে রয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মুবারক মাখা একটা শলাকা আমার চোখে লাগিয়ে দিলেন। সকালে উঠে দেখি আমার চোখ অন্ধ।
(২)
হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খ-িত মস্তক মুবারক ঘোড়ার গলায় লটকিয়ে রেখেছিলো, পরে দেখা গেলো তার মুখ কালো আলকাতরার রং ধারণ করেছে। লোকেরা তাকে প্রশ্ন করলো, তুমি তো সমস্ত আরবে সুন্দর চেহারার মানুষ ছিলে, তোমার এ অবস্থা কেনো? সে বললো, যেদিন আমি ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মস্তক মুবারক ঘোড়ার গলায় লটকিয়ে ছিলাম সেদিন থেকে একটু ঘুমালেই দু’ব্যক্তি এসে আমার দু’বাহু ধরে জ্বলন্ত আগুনে নিয়ে যায়। আমাকে তারা আগুনে ফেলে দেয়। আগুনে পুড়ে আমার এঅবস্থা হয়েছ। কিছুদিন পর লোকটি মারা যায়।
(৩)
হযরত ইবনে যাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন, প্রসিদ্ধ তাফসীরকারক হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি একদিন লোকজনকে দাওয়াত করেন। মজলিসে আলোচিত হলো যে, যারা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার সময় অংশগ্রহণ করেছিলো দুনিয়াতে তাদের শাস্তি হয়েছে। এক ব্যক্তি বললো, “একেবারে মিথ্যা কথা। সে বললো, সে নিজে ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার সময় অংশগ্রহণে জড়িত ছিলো এবং তার কিছুই হয়নি।” লোকটি মজলিস থেকে উঠে তার বাড়িতে পৌঁছে প্রদীপ (বাতি) জ্বালাবার চেষ্টা করে। প্রদীপের শলতা ঠিক করতে গিয়ে তার কাপড়ে আগুন লাগে এবং সেই আগুনে লোকটি জ্বলে কয়লা হয়ে যায়। হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সকালবেলা খবর পেয়ে তাকে দেখতে যান। তিনি দেখতে পান যে, লোকটি আগুনে ভষ্ম হয়ে গেছে।
আমাদের দেশে যারা ইয়াজিদের সাফাই গেয়ে বেড়ায় তাদের বিষয়টি লক্ষ্য করা দরকার। ইয়াজিদকে সমর্থন করার দুঃসাহস দেখাবে না। এর ফলে এ যুগের ইয়াজিদপন্থীরাও আযাবের মুখোমুখি হবে। ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি তীর নিক্ষেপকারী সে পানির পিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে মারা গেছে। খোদ ইয়াজিদ বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি। রাজ্য ছেড়ে জাহান্নামে চলে গেছে।
মূলত, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক কতটুকু।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে