ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


মুবারক নাম ও পরিচিতি:
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আহলে বাইত শরীফ উনার দশম ইমাম। উনার মূল নাম মুবারক হযরত আলী নক্বী আলাইহিস সালাম। তবে উনার মুবারক নাম এবং কুনিয়াত বা উপনাম মুবারক আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিম, বাবুল ইলমে ওয়াল হিকাম, ইমামুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এবং ইমামুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে মুশাবাহ বা সদৃশ্যপূর্ণ। সেই কারণে উনাকে আবুল হাসান ছালিছ বা আবুল হাসান তৃতীয় বলা হয়। এছাড়া ওনাকে হযরত আলী হাদী আলাইহিস সালামও বলা হয়। তবে উনাকে ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্বব মুবারকে সম্বোধন করাই আদব। (মিরয়াতুল আসরার-২২১, শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২১৯, ইকতিবাসূল আনওয়া-১৫৬)
‘ইকতিবাসূল আনওয়ার’ কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক যখন ১০ বছর তখন উনার পিতা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। তখন তিনি উনার ইমামতী শান মুবারক জাহির করেন। (মিরয়াতুল আসরার)
উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যে খাছ ইলম হাছিল করেছিলেন, ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অল্প বয়স মুবারক থেকে তার প্রকাশ ঘটতে থাকে। তখন থেকে উনার এতো অধিক সংখ্যক কারামত প্রকাশ পেতে থাকে যে, সমসাময়িক সকল ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা আশ্চর্যান্বিত হতেন এবং সবাই উনার দিকে রুজু হতেন। উনার খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ করার জন্য উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত হতেন। ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন। উনার নির্দেশ মত যিকির-ফিকির করতেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ- “আমার পর বারোজন ইমাম আসবেন।”(ইকতিবাসূল আনওয়ার-১৫৬, মিরয়াতুল আসরার-২২১)
হাবীবুস সিয়ার কিতাবে উল্লেখ আছে যে, ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শৈশবকাল থেকে এত অধিক এবং আশ্চর্যান্বিত কারামত প্রকাশ পেয়েছিল। যার কারণে সমস্ত মাখলুকাত উনার মুখাপেক্ষী হয়েছে। আর এটা দেখে বাগদাদের আব্বাসী শাসক মুতাওক্কিলের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। এক পর্যায়ে আব্বাসী শাসক মুতাওককিল হুকুম দিলো, ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে ২৫ ক্রোশ দূরে ইরাকের সমরাহ এলাকায় রেখে আসতে। সেই আদেশ মুতাবিক উনাকে সমরাহতে রেখে আসা হয়। নাউযুবিল্লাহ!
ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করলেন। তখন উনার একজন ভক্ত (মুহব্বতকারী মুরীদ) উনাকে বললেন- হে আওলাদে রসূল! ওই লোক তো আপনার সম্মানিত বংশধর উনাদেরকে সবসময় হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলে। আর আপনাকে এরূপ বিরাণভূমিতে অবস্থান করার ব্যবস্থা করেছে। এই দলটি জ্ঞান-গরিমা মর্যাদা-মর্তবাকে জনগণের কাছে গোপন রাখতে এবং আপনার প্রভাব-প্রতিপত্তিকে মিটিয়ে দিতে চায়। এই উদ্দেশেই আপনাকে বন্দীদশা অবস্থায় রাখা হয়েছে।
একথা শুনে ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ, ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে ইবনে সায়ীদ! তুমিও তো এখনো ওই মাকামেই রয়েছ। অর্থাৎ হাক্বীক্বতে পৌঁছতে পারনি। একথা বলে তিনি স্বীয় হাত মুবারক দিয়ে ইশারা করলেন। আর সাথে সাথে ইবনে সায়ীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দেখতে পেলেন অতীব সুন্দর, সুন্দর বাগ-বাগিচা, বিভিন্ন প্রকার নহর, ঝর্ণাধারা এবং মনোমগ্ধকর বিরাট মাঠ। অত্যন্ত সুশ্রী রমনী এবং মনি-মুক্তার মত চাকচিক্যময় কচি বালকরা উনার খিদমতের জন্য ইন্তিজার (অপেক্ষমান) রয়েছে। ইহা দেখে তিনি যেমন খুশি হলেন তেমনি আশ্চর্যের সীমা রইল না। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে ইবনে সায়ীদ! যেখানেই আমরা অবস্থান করিনা কেন এসব কিছুই আমাদের সাথেই থাকে। কাজেই আমাকে কখনো বিরাণভূমিতে বন্দীবস্থায় অবস্থান করতে হয় না। সুবহানাল্লাহ! (ইকতিবাসূল আনওয়ার-১৫৭, মিরায়াতুল আসরার-২২১)

সম্মানিত পিতা ও মাতা উনাদের মুবারক নাম:
ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, যিনি ইমামুত তাসি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবু জাফর মুহম্মদ তাক্বী আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার সম্মানিত পিতা। আর উনার মাতা উনার নাম মুবারক- হযরত শাম্মামা আলাইহাস সালাম। কেউ কেউ বলেছেন হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম। যিনি খলীফা মামুনূর রশিদের মেয়ে ছিলেন এমতটি শুদ্ধ নয়। (মিরায়াতুল আসরার-২২০, ইকতিবাসূল আনওয়ার ১৫৬, সাফীনাতুল আউলিয়া-৪২)

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
সর্বাধিক ছহীহ, গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য মতে ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২১০ হিজরীর পবিত্র ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ পবিত্র মদীনা শরীফে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
কতিপয় লক্বব মুবারক:
লক্বব হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত। যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবার বহিপ্রকাশ। মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে যেভাবে মশহুর বা প্রসিদ্ধ করতে চান সেভাবে উনার লক্বব মুবারকগুলো প্রকাশিত ও পরিচিত হয়ে উঠে।
ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বনামধন্য। উনার মর্যাদা-মর্তবার সীমা-পরিসীমা নেই। উনার অসংখ্য অগণিত লক্বব মুবারক বিভিন্নভাবে প্রকাশিত-প্রচারিত হয়েছে। যা সবারই মুখে মুখে আমরা স্বল্প পরিসরে সেখান থেকে কয়েকটি উল্লেখ করছি।
(১) হাদী: হিদায়েতকারী বা হিদায়েতের প্রদর্শক।
(২) আসকারী: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে জিহাদকারী সৈনিক। তিনি ছিলেন আপোষহীন। কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। জালিমের সামনে কখনো মাথা নত করেননি।
(৩) নাছিহ: অতি উত্তম নছীহতকারী। তিনি সবাইকে সবসময় নছীহত মুবারক করতেন। এ ব্যাপারে কোন কার্পন্য ছিল না।
(৪) মুতাওয়াককিল: মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বেমেছাল তাওয়াক্কুল বা ভরসাকারী।
(৫) ফাত্তাহ: সর্ববিষয়ে সর্বাধিক বিজয় লাভকারী।
(৬) মুরতাদ্বা: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক খাছভাবে মনোনীত।
(৭) নক্বী: অতীব পবিত্র।
(৮) ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন: মুসলিম উম্মাহ উনাদের সমস্ত ইমামগণের ইমাম তথা অনুসরণীয় অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
(৯) যিকরানে কাশিফে ইসরারে ইমতিনাহী: মহান আল্লাহ পাক উনার গুপ্ত রহস্য উদঘাটনকারী তথা মা’রিফত-মুহব্ববত হাছিলে চূড়ান্ত মাক্বামে উপনীত ব্যক্তিত্বগণ উনাদের যিকর বা স্মরণযোগ্য আলোচিত ব্যক্তিত্ব। সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরামই সবকাজে উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। ফলশ্রুতিতে উনি স্মরণে আসতেন। (মিরায়াতুল আসরার-২২০, ইকতিবাসুল আনওয়ার-১৫৬)

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
ইমামুম মিন আইম্মাতিল মুসলিমীন, যিকরান কাশিফ ইসরারিল ইমতিনাহী, মাহবুবে তরীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আ’শির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২৫৪ হিজরী জুমাদাল উখরা শরীফ উনার শেষ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর এটাই হচ্ছে সর্বাধিক ছহীহ মত। বাগদাদের পার্শ্ববর্তী সমাররা শহরের একটি সরাইখানাতেই উনার পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত। যা উনার ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল। কেউ কেউ বলেন, উনার মাজার শরীফ ‘কুম’ শহরে অবস্থিত। কিন্তু তা ঠিক নয়।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أما أبو الحسن علي النقي فله من الأبناء ستة
অর্থ: “ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবুল হাসান সাইয়্যিদুনা হযরত আলী নক্বী আলাইহিস সলাম উনার মহাসম্মানিত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ছিলেন মোট ৬ জন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শাজরাতুল মুবারকহ ১/২২)
উনারা হচ্ছেন-
১. ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ মুহম্মদ সাইয়্যিদুনা হযরত হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম।
২ সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম। তিনি ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত প্রথম (বড়) আওলাদ। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম। তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা উনার পূর্বে সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত মূছা আলাইহিস সালাম।
৫. আবূ আব্দুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম। এবং
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
واتفقوا على أن المعقب من أولاده ابنان سيدنا حضرت الحسن العسكري عليه السلام الإمام وسيدنا حضرت جعفر عليه السلام
অর্থ: “সীরতবিশারদগণ উনাদের সকলের ঐকমত্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র বরকতময় নছব মুবারক (বংশ মুবারক) উনার দু’জন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনাদের মাধ্যমে জারী রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-
১. ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
২. আবূ আব্দুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! (আশ শাজরাতুল মুবারকহ ১/২২)
ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমেই মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক এবং সম্মানিত কুরবত মুবারক বংশানুক্রমে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকেন। অর্থাৎ উনার মাধ্যমেই মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র সিলসিলা মুবারক এযাবৎকাল পর্যন্ত জারী রয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
আর ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وله من البنات ثلاثة سيدتنا حضرت عائشة عليها السلام وسيدتنا حضرت فاطمة عليها السلام وسيدتنا حضرت بريهة عليها السلام وزوج سيدتنا حضرت بريهة عليها السلام سيدنا حضرت محمد بن موسى ابن محمد التقي عليهم السلام.
অর্থ: “ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মোট ৩ জন। উনারা হচ্ছেন-
১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আয়িশাহ আলাইহাস সালাম,
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম এবং
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত বারীহাহ আলইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত বারীহাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে মূসা ইবনে মুহম্মদ তক্বী আলাইহিমুস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শাজরাতুল মুবারকহ ১/২২)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে