ইমামুর রাসিখীন, গারীক্বে¡ বাহরে বিছাল, শাহিদে তাজাল্লিয়াতে যুল জালাল, যিকরানে কা’বায়ে মাকছূদ, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


মুবারক নাম ও পরিচিতি:
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবম ইমাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জাহিরী বাতিনী তথা ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ সকল প্রকার ইলমের তিনি ছিলেন অধিকারী। অতীব অল্প বয়সে ইমামতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুনিয়াত বা উপনাম আবু জা’ফর। তাই উনাকে দ্বিতীয় আবু জাফরও বলা হয়। উনার নাম মুবারক ‘মুহম্মদ’। বিশেষ লক্বব বা উপাধি মুবারক তাক্বী, জাওয়াদ ও ক্বানি’। উনার সম্মানিত মাতা উনার নাম মুবারক খায়যরান আলাইহাস সালাম। কেউ কেউ রায়হানা ও সাকীনা আলাইহাস সালাম লিখেছেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার বংশের ছিলেন। (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত-২১৮, ইকতিরাসূল আনওয়ার-১৫৩, সাফীনাতুল আউলিয়া-৪১)
পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- ইমামুর রাসিখীন, গারীক্বে¡¡ বাহরে বিছাল, শাহিদে তাজাল্লিয়াতে যুল জালাল, যিকরানে কা’বায়ে মাকছুদ, আরবাবে হিদায়েত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৯৫ হিজরী সনের ১০ই রজবুল হারাম শরীফ জুমুয়াবার রাতে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর এটাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত।
পবিত্র কামালত ও কারামত:
* ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুক্ষ্মাতিসুক্ষ¥-পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতায়াত (অনুসরণ-অনুকরণ) করতেন। উনার ইলম, আক্বল, সমঝ, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা দেখে স্বয়ং খলীফা মামুনুর রশীদ উনার অনুরাগী হন। তিনি উনার বহুমুখী গুণাবলীর উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করতেন। এমনকি স্বীয় কন্যা উম্মে ফযলকে উনার সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ করেন এবং উনাকে উনার সাথে পবিত্র মদীনা শরীফ-এ পাঠিয়ে দেন। তিনি প্রতি বছর সেখানে হাজার হাজার দেরহাম প্রেরণ করতেন। সুবহানাল্লাহ!
* বর্ণিত আছে, স্বীয় পিতা আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পর আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বারো বছর বয়স মুবারক-এ একদিন বাগদাদ শরীফ-এর গলিতে বালকদের সাথে দাঁড়ানো ছিলেন। ঘটনাক্রমে খলীফা মামুনুর রশীদ শিকারের উদ্দেশ্যে সেখান দিয়ে গমন করলেন। সকল বালক পথ ছেড়ে দিয়ে একদিকে চলে গেল। কিন্তু তিনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে রইলেন। খলীফা মামুন কাছে এসে উনার দিকে তাকালেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে এমন আকর্ষণীয় চেহারা মুবারক ও ব্যক্তিত্বের গুণে ভূষিত করেছিলেন যে, যে কেউ উনার দিকে তাকালে সহসাই দৃষ্টি ফিরাতে পারতো না। খলীফা মামুনুর রশীদ কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বালক! আপনি অন্য বালকদের সাথে একদিকে সরে যাননি কেন? আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তৎক্ষণাৎ জাওয়াব দিলেন, আমীরুল মু’মিনীন! পথ সংকীর্ণ নয় যে, আমি সরে গিয়ে প্রশস্ত করে দিব। আর আমি কোন অপরাধও করিনি যে আপনার ভয়ে পালিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস, আপনি বিনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দেন না। উনার এই কথা-বার্তা খলীফা খুব পছন্দ করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- আপনার নাম মুবারক কি? তিনি বললেন: আমার নাম মুবারক মুহম্মদ। খলীফা প্রশ্ন করলেন: আপনি কার আওলাদ? তিনি বললেন: আমি হযরত ইমাম আলী রিযা আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ। সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক শুনে খলীফা মামুন খুবই খুশি হলেন এবং স্বীয় গন্তব্য পথে চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
* খলীফার কাছে অনেক শিকারী বাজপাখি ছিল। শহরের বাইরে গিয়ে তিনি একটি বাজকে একটি চকোরের পিছনে ছেড়ে দিলেন। বাজ উধাও হয়ে গেল এবং দীর্ঘক্ষণ উধাও রইল। যখন সে ফিরে এল, তখন চঞ্চুতে একটি অর্ধ জীবিত মাছ ছিল। খলীফা বিস্ময়ে হতবাক হলেন এবং তাকে হাতে নিয়ে ফিরে এলেন। ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পূর্বোক্ত অবস্থানে অবস্থান করছিলেন। খলীফা সেখানে পৌঁছার পর বালকরা পূর্ববৎ পথ ছেড়ে একদিকে সরে গেল। কিন্তু ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দাড়িয়ে রইলেন। খলীফা নিকটে পৌঁছে বললেন- ইয়া মুহম্মদ! তিনি বললেন: লাব্বাইক
ইয়া আমীরাল মু’মিনীন! খলীফা জিজ্ঞাসা করলেন- বলেন তো আমার হাতে কি? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ পাক ইচ্ছার দিক দিয়ে আপন কুদরতের সমুদ্রে একটি ছোট মাছের ন্যায়, যাকে খলীফা ও বাদশাহদের হাতে যেতে দেয়া হয় না। পয়গম্বর উনাদের মাধ্যমে উপকৃত হন। খলীফা মামুন একথা শুনে হতবাক হয়ে গেলেন এবং অনেকক্ষণ পর্যন্ত উনার দিকে তাকিয়ে রইলেন। অতঃপর বললেন- আপনি সত্যি সত্যিই হযরত ইবনে রিযা আলাইহিস সালাম। খলীফা মামুন পরবর্তীকালে উনাকে প্রদেয় ভাতা অন্যান্যদের চেয়ে দ্বিগুণ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
* একইভাবে বর্ণিত আছে যে, উম্মে ফযল আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে স্বীয় স্বামীর ব্যাপারে পিতা মামুনূর রশীদের কাছে লিখে পাঠালেন যে, হযরত জাওয়াদ বা তাক্বী আলাইহিস সালাম তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান। খলীফা মামূনুর রশীদ জাওয়াব লিখে পাঠালেন আমি আপনার বিবাহ উনার সাথে এজন্য দেইনি যে, একটি হালাল বিষয়কে উনার জন্য হারাম করে দিব। খবরদার, আর কখনো এমন কথা আমাকে লিখবেন না। (শাওয়াহিদুন নুবুওয়াত-২৭০)
* উম্মে ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে বিবাহ করার পর যখন তিনি পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তখন পথিমধ্যে কয়েকদিনের জন্য কূফায় অবস্থান করেন। শেষ দিন তিনি এক মসজিদে গমন করলেন। সেখানে একটি কুল বৃক্ষ ছিল, যে গাছে কোন দিন একটি ফল ধরতো না। তিনি পাত্রে পানি নিয়ে বৃক্ষের গোড়ায় বসে অযূ করলেন। অতঃপর মাগরিবের নামায পড়ার জন্যে মসজিদে চলে গেলেন। নামাযান্তে তিনি বৃক্ষের গোড়ায় পৌঁছে দেখলেন যে তাতে বীচিবিহীন মিষ্ট ফল ধরেছে। উত্তরকালে মানুষ এই ফল বরকত স্বরূপ নিয়ে যেত এবং খেত। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত)
* পূববর্তীদের একজন রেওয়ায়েত করেন: আমি ইরাকে থাকাকালে শুনতে পেলাম যে, সিরিয়াতে কেউ পয়গম্বরী দাবি করেছে এবং তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। আমিও সেখানে পৌঁছে গেলাম। আমি দারোয়ানদেরকে কিছু উৎকোচ দিয়ে লোকটির কাছে চলে গেলাম এবং তাকে সুস্থ ও সজ্ঞান দেখতে পেলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেন: আমি সিরিয়ার সেই মসজিদে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে মশগুল ছিলাম। সেখানে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার শির মুবারক বর্ষার ফলকে স্থাপিত ছিল। একরাতে আমি ক্বিবলামুখী হয়ে যিকির করছিলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি সম্মুখে আত্মপ্রকাশ করলো এবং আমাকে দাঁড়াতে বললো। আমি দাঁড়িয়ে উনার সাথে চলতে লাগলাম। সামান্য দূরে যেতেই আমি নিজেকে কূফার মসজিদে পেলাম।
লোকটি আমাকে জিজ্ঞাসা করলো- আপনি জানেন এটা কোন জায়গা? আমি বললাম: এটা কূফার মসজিদ। অতঃপর তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমিও উনার অনুসরণ করলাম। নামাযান্তে তিনি মসজিদের বাইরে চলে গেলেন। আমি উনার সাথে বাইরে এলাম। তিনি কিছুক্ষণ পথ চললেন এবং আমিও চললাম। অতঃপর আমি দেখলাম যে আমি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মসজিদে নববী শরীফ-এ উপস্থিত আছি। আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ-এ পবিত্র ছলাত ও সালাম পাঠ করলাম। কিন্তু তিনি নামাযে মশগুল হয়ে গেলেন। আমিও নামায পড়লাম। অতঃপর তিনি বাইরে এলে আমিও বাইরে এলাম। কিছুদূর চলার পরই আমি নিজেকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বায়তুল্লাহ শরীফ-এ পেলাম। তিনি কাবা শরীফ-এ তাওয়াফ করলেন। আমিও করলাম। তিনি বাইরে এলে আমিও বাইরে এলাম। পরে তিনি আমার দৃষ্টি থেকে উধাও হয়ে গেলেন এবং আমি নিজেকে সিরিয়ার সেই মসজিদেই পেলাম, যেখানে ইবাদতে মশগুল ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম এবং এটা কিরূপে হল, তা এতটুকুও হৃদয়ঙ্গম করতে পারলাম না।
পরবর্তী বছর আবার এরূপ ঘটলো। তিনি পূনরায় আত্মপ্রকাশ করলেন এবং আমাকে সাথে নিয়ে গত বছরের মত ঘুরাফেরা করলেন। যখন আমি স্বস্থানে ফিরে এলাম এবং আমাদের একে অপরের কাছ থেকে বিদায় হওয়ার সময় হল, তখন আমি বললাম, সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যিনি আপনাকে এই অসাধারণ ক্ষমতা দান করেছেন- বলুন! আপনি কে? তিনি বললেন: আমি হযরত ইমাম মুহম্মদ তাক্বী ইবনে আলী ইবনে মূসা ইবনে জাফর আলাইহিমুস সালাম। সকাল হলে আমি এই ঘটনা তাদের শ্রুতিগোচর করলাম, যারা আমার সম্পর্কে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিল। এ সংবাদ সিরিয়ার বাদশাহের কাছেও পৌঁছে গেল। যে আমার বিরুদ্ধে নুবুওওয়াত দাবির অভিযোগ এনে আমাকে বন্দী করেছে এবং নিজের সাথে নিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সবকিছু জানিয়ে বাদশাহের কাছে চিঠি লিখলাম।
বাদশাহ সেই চিঠির অপর পৃষ্ঠায় লিখে দিলেন: যে ব্যক্তি আপনাকে একই রাতে সিরিয়া থেকে কূফা, কূফা থেকে মদীনা শরীফ, মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ এবং সেখান থেকে নিজ গৃহে ফিরিয়ে আনতে পারেন, উনাকেই বলুন আপনাকে এই বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে। বাদশাহের এই জাওয়াব আমার (রাবীর) কাছে খুব খারাপ লাগলো এবং আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়লাম। সকালে উঠে আমি আবার জেল খানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, যাতে উনার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হই। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি জেলখানার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভীষণ অস্থিরতায় ভুগছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ব্যাপার কি? তোমাদের এ অস্থিরতা কেন? তারা বলল: যে ব্যক্তি নুবুওওয়াত দাবি করেছিল সে কাল থেকে জেলখানা থেকে উধাও হয়ে গেছে। কিছুই বুঝা যাচ্ছে না তাকে ধরনী গিলে ফেলেছে, না নভোচারী পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত)
* খলীফা মামুনুর রশীদের ইন্তিকাল হলে ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ আজ থেকে ত্রিশ মাস পরে হবে। বাস্তবিকই খলীফা মামুনুর রশীদের ইন্তিকালের পর ত্রিশ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তিনিও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
* এক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, আমি ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, অমুক বুযুর্গ ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি আপনার কাছে কাফনের কাপড় প্রার্থনা করেছেন। তিনি বললেন, তিনি এখন এসব বিষয়ের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। একথা শুনে আমি বের হয়ে এলাম। কিন্তু; উনার উক্তির মর্ম বুঝতে পারলাম না। অনেক চিন্তা-ফিকির করে ওই বানী মুবারক-এর মর্ম উৎঘাটন করার কোশেশে লিপ্ত হলাম। অবশেষে জানতে পারলাম যে, তিনি এর তের-চৌদ্দ দিন পূর্বেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।
* অন্য একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন, আমরা ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার একজন মুরীদের সাথে সফরে যেতে ইচ্ছুক ছিলাম। রওয়ানা হওয়ার পূর্বে আমরা বিদায় নেয়ার জন্যে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার খিদমতে হাযির হলাম। তিনি বললেন, আজ বাইরে যেও না। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। বাইরে আসার পর আমার সাথী বললো: আমি যাচ্ছি। কারণ, আমার বন্ধু রওয়ানা হয়ে গেছে। একথা শুনে আমি ব্যতিব্যস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আর সে চলে গেলো। পরে জানতে পারলাম তারা রাতে যে উপত্যাকায় অবস্থান করছিল, সেখানে ভয়াবহ বন্যা আসায় তারা ডুবে মারা গিয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত, ইকতিরাসূল আনওয়ার, মিরায়াতুল আসরার, সাফীনাতুল আউলিয়া)
পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- ইমামুর রাসিখীন, গারীক্বে বাহরে বিছাল, শাহিদে তাজাল্লিয়াতে যুল জালাল, যিকরানে কা’বায়ে মাকছূদ, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২২০ হিজরী সনের ৬ই যিলহজ্জ শরীফ ছুলাছা বা মঙ্গলবার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর এটাই হচ্ছে ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য মত। সুবহানাল্লাহ!
শাইখুল উলামা, আল্লামা আব্দুর রহমান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- উনার পবিত্র মাজার শরীফ বাগদাদ শরীফ-এ স্বীয় দাদা সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাবি’ হযরত মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম উনার পিছন দিকে অবস্থিত। তিনি যমীনে ২৫ বছর ৪ মাস ২৬ দিন অবস্থান মুবারক করেন। (মিরায়াতুল আসরার-২২০, ইকতিরাসূল আনওয়ার-১৫৫, সাফীনাতুল আউলিয়া-৪২)
আল-আওলাদ:
‘হাবীবুস সিয়ার’ নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ইমামুর রাসিখীন, আরবাবে হিদায়িত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দুইজন ছেলে এবং দুইজন মেয়ে ছিলেন।
‘মিরায়াতুল আসরার’ কিতাবে রয়েছে- উনার তিনজন ছেলে এবং একজন মেয়ে ছিলেন। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন যুগ শ্রেষ্ঠ ওলীআল্লাহ।
অত্যন্ত পরহেযগার মুত্তাক্বী। সমসাময়িক সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের সাইয়্যিদ। সর্বোপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনার সুন্নতের জীবন্ত নিদর্শন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে