ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিসসালাম উনার বিলাদত শরীফ ১৫ শাবান শরীফ শবে বরাতের দিন


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।
আজ ১৫ই শাবান  ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস; যিনি হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। ১৫ ইশাবান হচ্ছে শবে বরাত ও বটে। ১৫ই শাবান শবে বরাত হযরত ইমামুল হুমাম আলাইহিসসালাম উনার উসীলায়   আরো মহিমান্বিত হলো, মর্যাদাপূর্ন হলো।
উনাকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ করা এবং উনার জীবনী মুবারক জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।
তাই পৃথিবীব্যাপী সকল মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করাও ফরযে আইন।
পাশাপাশি প্রত্যেক মুসলিম অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস উপলক্ষে বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।

ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। উনাকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ করা এবং উনার জীবনী মুবারক জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন। কারণ যে বিষয়টি শরীয়তে ফরয-ওয়াজিব সে বিষয় সম্পর্কে ইলম অর্জন করাও ফরয-ওয়াজিব।

ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি চতুর্থ হিজরীর শাবান মাসের ১৫ তারিখ মদীনা শরীফ-এ বিলাদত শরীফ লাভ করেন। বিলাদত শরীফ-এর পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কান মুবারক-এ আযান ও ইকামত দিয়ে দোয়া করেন। সাতদিন পর আকীক্বা করে উনার নাম মুবারক রাখেন হযরত ‘হাসান আলাইহিস সালাম।

হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে- “হযরত হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম জান্নাতী নাম মুবারকসমূহের মধ্য হতে দুটি নাম মুবারক।” এর আগে আরবের জাহিলিয়াত যুগে এ দুনাম মুবারক-এর প্রচলন ছিলো না।

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা বেহেশতে যুবকদের সাইয়্যিদ।

হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি উনাদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা এমন অবস্থায় বাইরে তাশরীফ আনলেন যে, উনার এক কাঁধ মুবারক-এর উপর হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং অন্য কাঁধ মুবারক-এর উপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে বসিয়ে ছিলেন। এভাবে আমাদের সামনে তাশরীফ আনলেন এবং ইরশাদ করলেন, ‘যে এ দুজনকে মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর যে উনাদের সাথে দুশমনি করলো, সে আমার সাথে দুশমনি করলো। উনাদের ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে এরূপ বহু বর্ণনা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে। তাছাড়া  ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। আর কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর অসংখ্য স্থানে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, শ্রষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, আমি তোমাদের নিকট রিসালত-এর দায়িত্ব পালনের কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার আত্মীয়-স্বজনদের তথা বংশধর উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।”   আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। তোমরা কিতাবুল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধর।” রাবী বলেন, তিনি কিতাবুল্লাহর প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয়টি হলো- আমার আহলে বাইত বা (আওলাদগণ) বংশধরগণ। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” (মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফ)

কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম তথা ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরযে আইন। তাই উনার জীবনী মুবারক চর্চা করা এর ব্যাপক প্রচার করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ইলম হচ্ছে আমলের ইমাম। অর্থাৎ উনার জীবনী মুবারক জানা থাকলেই মূলত উনাকে পরিপূর্ণ মুহব্বত, তাযীম-তাকরীম ও অনুসরণ করা সম্ভব। মূলকথা হলো- আসছে ১৫ই শাবান পবিত্র শবে বরাত  ইমামুল হুমাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস; যিনি হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। ১৫ই শাবান শরীফ উপলক্ষে মুসলমানদের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া দরকার। পাশাপাশি প্রত্যেক মুসলিম অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস উপলক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ৩দিন ছুটি ঘোষণা করা।

 

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+