ইমামে আযম ,ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বাত্বিল ফির্কাদের মুরজিয়া অপবাদের দলিলভিত্তিক জবাব।


বর্তমানে সালাফী,লা-মাজহাবীরা তাদের কিতাবাদি,ব্লগ,ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে যাচ্ছে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি নাকি মুরজিয়া ছিলেন।নাউজুবিল্লাহ।
তারা দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে বড় পীর গাউসুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার গুনিয়াতুত ত্বলিবিন ও ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তারীখুল কবীর কিতাবের কাটছাট , ভুল অর্থ ও ভুলভাল ইবারত।
এরই সূত্র ধরে অবৈধ সন্তান, কাট্টা গোমরাহ, মুনাফিকে আযম, কাট্টা কাফির আলবানীর ভাবশিষ্য #মুহাম্মাদ_জাবির_হাসান_সালাফী নামক ইবলিশটা বলেছে যে,
“ইমামে আযম তিনি মুরজিয়া ছিলেন।উনাকে দুই বার কুফরী থেকে তওবা করানো হয়।”
তার কথার প্রমানঃ
আসুন আমরা গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ও তারীখুল কবীর কিতাবে আসলে কী আছে জেনে নিইঃ
গুনিয়াতুত ত্বলিবীনঃ
আপত্তিঃ১
সালাফী/লা-মাজহাবীরা দাবী করে যে গুনিয়াতুত ত্বলিবিন কিতাবে বাত্বিল ফির্কা মুরজিয়া ১২ টি দলে বিভক্ত।তার একটি হল হানাফীয়া।অর্থাৎ হানাফীরা বাত্বিল ফির্কা।
আপত্তির জবাবঃ
মুরজিয়ারা আ২ টি দলে বিভক্ত।আর তার মধ্যে একটি হল হানাফিয়া।তবে সেটা ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি নন।উনার একজন শিষ্য যে মুরজিয়া হয়েছিলেন।যাদেরকে হানাফিয়া বলা হয়।
প্রমানঃ১
গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ৬৩ পৃষ্ঠা ,মিশরীয় ছাপাতে আছে-
“ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি উনার কোন একজন শিষ্য মুরজিয়া হয়েছিলেন।”
প্রমানঃ২
শরহে মাওয়াকিফ ৭৬০ পৃষ্ঠা-
“গাচ্ছান এই কথাটিকে ইমাম সাহেবের নামে প্রচার করত এবং উনাকে মুরজিয়া বলে গণ্য করত।এটা ইমাম সাহেব উনার উপরে মিথ্যা অপবাদ।”
প্রমাণঃ৩
গুনিয়াতুত ত্বলিবিন, ২০৯ ও ২১০ পৃষ্ঠা ,ইফাবা তে আছে-
হানাফিয়া- হাসান ইবনে মুহম্মদ আল হানাফিয়া ইবনে আবু তালিব এর নামে এই ফিরকার নামকরণ করা হয়েছে।
স্ক্যান কপি দেখুনঃ
হানাফিয়া উপদল হচ্ছে আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে সাবিত উনার কিছু অনুগামীর অনুসারী। অর্থাৎ ইমাম সাহেব এর এক গোমরাহ অনুসারীর যারা অনুসারী তারা হানাফিয়া।
স্ক্যান কপি দেখুনঃ
অর্থাৎ এটা ইমাম সাহেব উনার একজন গোমরাহ শিষ্য (গাচ্ছান) এর নামে বাত্বিল ফিরক্বা মুরজিয়ার উপদল।কোনমতেই হানাফী মাজাহাব নয়।
এখন ইমাম সাহেব উনার কোন অনুসারী যদি মুরজিয়া হন তাহলে ইমাম সাহেব উনাকে মুরজিয়া বলাটা কি অপবাদ নয়?
সহীহ মুসলিম শরীফে আছে, নূরে মুজাসসাম যখন বিছাল শরীফ লাভ করেনব তখন তিন দল সাহাবী সম্মানিত যাকাত অস্বীকার করে অর্থাৎ নবীজির নবুয়াত অস্বীকার করে মুরতাদ হয়ে যায়।এতে কী নবিজীকে মুর্তাদ বললে ঈমান থাকবে? নাউজুবিল্লাহ
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের নিম্নোক্ত ২০ জন রাবী মুরজিয়া ছিলেন-
১।আব্দুল হামিদ ,২।বেশর , ৩।বশির, ৪।আইয়ুব, ৫।হাম্মাদ , ৬।সালেম, ৭।শাবাবা, ৮।শোয়াইব, ৯।ওসমান ইবনে গিয়াস, ১০।আমর বিন মুররা, ১১।ওমার বিন জার, ১২।কায়েস বিন মুসলিম, ১৩।ইব্রাহীম, ১৪।খালেদ, ১৫।হাসান, ১৬।ত্বলাক,১৭।আসেম, ১৮।আব্দুল মজিদ,১৯।আতা,২০।আবু বকর
(তাকরীবুত তাহযীব, তাহজিবুত তাহযীব)
এরা সকলে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের শিক্ষক ছিলেন।তাদের বহু হাদীস সহীহায়ন এ আছে।এখন এই লা-মাজহাবী সালাফিরা ও তাদের হাদীস মান্য করে।
আমার প্রশ্ন হল- ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা কি মুরজিয়া হবেন? আর এই সালাফীরা কি মুরজিয়া হবে না?
একটা মজার বিষয় হলঃ
গুনিয়াতুত ত্বলিবিন ,মিশরীয় ছাপা,১ম খন্ড ৩৭ পৃষ্ঠায় ইমাম আবু হানীফা উনার নামের শেষে রহিমাহুল্লাহ বলেছেন।
দেখুন স্ক্যান কপিঃ
আবার উক্ত কিতাবের ১ম খণ্ডের ৫৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন-
“বিদয়াতীগনকে সালাম করবে না, তাদের নিকট উপবেশন করবে না, তাদের জানাজা পড়বে না এবং যে সময় তাদের সমালোচনা করা হয়, তাদেরকে “রহিমাহুল্লাহ” বলে দুয়া করবে না।”
এছাড়া ইফাবা থেকে প্রকাশিত কিতাবের ১৮৪ পৃঃ দেখুনঃ
তাহলে যদি ইমাম সাহেব মুরজিয়া হতেন তাহলে বড় পীর সাহেব কেন রহিমাহুল্লাহ বললেন?
মুহম্মদী তথা আহলে হাদীস ফির্কা আসলে রাফেজীদের(শিয়া)একটা উপদলঃ
আর গুনিয়াতুত ত্বলিবীন, ১ম খন্ড , ২০২ পৃষ্ঠা্‌ (ইফাবা) তে আছে-
রাফেদা অর্থাৎ রাফেজী(শিয়ারা) ১৪ টি ফির্কাভুক্ত।তার মধ্যে পঞ্চম হল “আল-মুহাম্মাদিয়া” অর্থাৎ বর্তমান আহলে হাদীস যারা তারা।
স্ক্যান কপিঃ
তাহলে এই #জাবির_সালাফী হচ্ছে রাফেজী।কারণঃ
আহলে হাদিস দের শীর্ষ নেতা নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান তার ‘হাদীসুল গাশিয়ার’ ২৭৬ পৃষ্ঠায় বলেন-
“সত্য হানাফী পরিপক্ক যায়েদী ঐ ব্যক্তিরা হবেন যারা ইমাম আবু হানীফা ও যায়েদ ইবনে আলী রহিমাহুল্লাহ উনাদের তরীকায় চলেন, এটাই নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও সাহাবা গন উনাদের তরীক্বা।”
তারীখুল কবীরঃ
আপত্তিঃ২
লা-মাজহাবীরা ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবের বরাত দিয়ে বলে থাকে যে ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুরজিয়া ছিলেন।মুশরিক ছিলেন।নাউজুবিল্লাহ।
আপত্তির জবাবঃ
ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কি জন্য ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুরজিয়া বলেছিলেন?
আর যে কারণে বলেছিলে সেই আক্বীদা কি ইমাম সাহেব পোষণ করতেন?
আর ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি কি নিজে থেকেই বলেছিলেন?
তার জবাবঃ
ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কি জন্য ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুরজিয়া বলেছিলেনঃ
এটা সেই মুরজিয়া ফিরকা হিসেবে নয়। বরং মুরজী ইরজা থেকে। তার অর্থ হলো, পরে করা। অর্থাৎ ঈমান হলো, অন্তরের বিষয়। আর আমল তার থেকে ভিন্ন এবং তার জন্য সহায়ক। এভাবে আমলকে ঈমান থেকে পৃথক করাই হলো ইজরা।,সেই হিসেবে যে ফকীহগণ এ আকীদা পোষণ করতেন, তাদেরকে মুরজিয়াতুল ফুকাহা বলে।
অপরদিকে ভ্রষ্ট দল মুরজিয়া তারা হলো আহলে কালাম। যারা তাদের থেকে ভিন্ন।
ﺍﻹﺭﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻐﺔ : ﺍﻟﺘﺄﺧﻴﺮ، ﻭﻓﻲ ﺍﻻﺻﻄﻼﺡ ﺗﺄﺧﻴﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﻭﺇﺧﺮﺍﺟﻪ ﻋﻦ ﺣﻘﻴﻘﺔ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ، ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﻓﻲ ﺑﻴﺎﻥ ﺳﺒﺐ ﺗﺴﻤﻴﺔ ﺍﻟﻤﺮﺟﺌﺔ ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻻﺳﻢ .. : ” ﻗﻴﻞ ﻣﺮﺟﺌﺔ ﻷﻧﻬﻢ ﻗﺪﻣﻮﺍ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﻭﺃﺭﺟﺆﺍ ﺍﻟﻌﻤﻞ – ﺃﻱ ﺃﺧﺮﻭﻩ ” ﻭﻫﻢ ﺃﻗﺴﺎﻡ ﻭﻓﺮﻕ ﻣﺘﻌﺪﺩﺓ ﻣﺨﺘﻠﻔﺔ ﻓﻲ ﺗﺤﺪﻳﺪ ﻣﻌﻨﻰ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻋﺪّﻫﺎ ﺍﻷﺷﻌﺮﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻘﺎﻻﺕ ﺍﺛﻨﻰ ﻋﺸﺮ ﻓﺮﻗﺔ، ﻭﺃﺷﻬﺮﻫﻢ ﻓﺮﻗﺘﺎﻥ: ﺍﻷﻭﻟﻰ ﻣﺮﺟﺌﺔ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ : ﻭﻫﻢ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺮﻭﻥ ﺃﻥ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﺇﻗﺮﺍﺭ ﺑﺎﻟﻠﺴﺎﻥ ﻭﺗﺼﺪﻳﻖ ﺑﺎﻟﻘﻠﺐ، ﻻ ﻳﺰﻳﺪ ﻭﻻ ﻳﻨﻘﺺ، ﻭﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺔ ﺛﻤﺮﺍﺕ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻭﺷﺮﺍﺋﻌﻪ، ﻗﺎﻝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻱ – ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ – ﻓﻲ ﺑﻴﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ: ” ﻭﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻫﻮ ﺍﻹﻗـﺮﺍﺭ ﺑﺎﻟﻠﺴﺎﻥ ﻭﺍﻟﺘﺼﺪﻳﻖ ﺑﺎﻟﺠﻨﺎﻥ، ﻭﺟﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﺻﺢ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﻭﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﻛﻠﻪ ﺣﻖ، ﻭﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻭﺍﺣﺪ، ﻭﺃﻫـﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﺻﻠﻪ ﺳﻮﺍﺀ، ﻭﺍﻟﺘـﻔﺎﺿﻞ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﺑﺎﻟﺨﺸﻴﺔ ﻭﺍﻟـﺘـﻘﻰ ﻭﻣﺨﺎﻟﻔﺔ ﺍﻟﻬﻮﻯ، ﻣﻼﺯﻣﺔ ﺍﻷﻭﻟﻰ ” (ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻳﺔ ). ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻣﺮﺟﺌﺔ ﺍﻟﻤﺘﻜﻠﻤﻴﻦ : ﻭﻫﻢ ﺍﻟﺠﻬﻤﻴﺔ ﻭﻣﻦ ﺗﺎﺑﻌﻬﻢ
তবে অনেকে আবার ভিন্ন ব্যাখ্যাও করেন। যেমন, বলেন যে, রাফেজীরা ইমাম সাহেব উনাকে মুরজীয়া বলতো তাদে সমর্থন না করোর কারণে। সেখান থেকে অনেকে ভুল করে বা ভুল বুঝে।
ইমাম মুহম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুরজিয়া বলে অভিযুক্ত করেছেন, ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেনঃ
“আবু নুআইম দিরার ইবন সুরাদ আমাকে বলেন, আমাদেরকে সালীম বলেছেন, তিনি সুফিয়ান সাওরীকে বলতে শুনেছেন, আমাকে হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান বলেন,আবু হানীফা নামক মুশরিককে আমার পক্ষ থেকে জানাও যে, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আবু হানীফা বলেঃ কোরআন সৃষ্ট” [আত-তারীখ আল-কাবীর ৪/১২৭]
যে কারণে বলেছিলে সেই আক্বীদা কি ইমাম সাহেব পোষণ করতেনঃ
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে মুরজিয়া বলার পিছনে যেই কারন উল্লেখ করেছেন তা হলো “ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেনঃ কোরআন সৃষ্ট” কিন্তু এটি ভুল ধারনা। মুরজিয়াগন ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির নামে এসব মিথ্যা কথা রটনা করতেন এবং সবাইকে বলতেন যে ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুরযিয়া ছিলেন। নাউজুবিল্লাহ
কিন্তু আসলে ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুরজিয়াদের আকীদার বিরোধিতা করেছেন এবং ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন কোরআন আল্লাহর বানী, এটি ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির আল-ফিকহুল আকবরে রয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুরজিয়া ছিলেন না,কেননা মুরজিয়াদের মৌলিক আকিদা ছিল কুরআন মাখলুক। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার আকিদা হলো-
ﻭﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻏﻴﺮ ﻣﺨﻠﻮ
অর্থাৎ কুরআন গাইরে মাখলুক।(আল ফিকহুল আকবর-৩২পৃঃ ইফাবা)
দেখুন স্ক্যান কপিঃ
অনেকেই বলে থাকে আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছে- কুরআন আল্লাহ পাক উনার মাখলূক ! . কিন্তু ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি একথার খন্ডন করে বলেন ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে এটি প্রমানিত নয়- . ﻟﻢ ﻳﺼﺢ ﻋﻨﺪﻧﺎ ﺃﻥ ﺃﺑﺎ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻣﺨﻠﻮﻕ . (মুখতাসারে উলু,আলবানীঃ১৫৬;তারীখে বাগদাদ ১৩/৩৮৪)
আরেকটি মজার বিষয়ঃইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি কি নিজে থেকেই বলেছিলেন?
যিনি ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির নামে এই মন্তব্য করেছেন বলে ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন “হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান”, ইনি ইমাম আবু হানীফার প্রিয়তম এবং নিকটতম উস্তাদ! এই কাহিনীটির একমাত্রও বর্ণনাকারী আবু নুআইম দিরার সুরাদ। তিনি কুফার একজন বড় আবীদ-বুজুর্গ ছিলেন; কিন্তু তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন।
ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মঈন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ “কুফার দু’জন মহা-মিথ্যাবাদী আছেঃ একজন নুআইম নাখয়ী, অন্যজন আবু নুআইম দিরার ইবন সুরাদ” ,
ইমাম নাসায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেনঃ “সে পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী”,
ইমাম নাসায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহিরর ভাষায় পরিত্যক্ত অর্থ মিথ্যাবাদী।
অন্যান্য সকল মুহাদ্দিস একই কথা বলেছেন। ইমাম বুখারী নিজেও তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
[ইবন হাজার আস্কালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, তাহযীবুত তাহযীব ৪/৪০০]
সুতরাং, এটি প্রমানিত হলো যে, ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির নামে ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই অভিযোগ ভিত্তিহীন কেননা হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমানের যেই বক্তব্যকে পূঁজি করে ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত অভিযোগ করেছেন সেই বক্তব্য সহীহ সনদে বর্ণীত নয় বরং সেই বক্তব্যের রাবী মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রমানিত।
অতএব, ইমাম বুখারীর অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য। .
ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুরজিয়া নন তার আরো প্রমাণঃ
ইমামে আজম ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজেই বলেন,”” আমি বলি না যে মুমিনকে তার পাপ কোন ক্ষতি করবে না এবং সেজন্য সে দোযখে যাবে না,যেরকম বাতিল ফেরকা মুর্জিয়ারা বলে থাকে।এবং খারীজী মুতাজিলা দের মত এও বলি না যে চিরকাল সে দোযখে থাকবে,যদিও সে ফাসেক হয় এবং দুনিয়া থেকে ইমান নিয়ে বিদায় নেয়।আমরা মুর্জিয়াদের মত বলিনা যে আমাদের পুন্যসমুহ মকবুল আর পাপ সমুহ মাফ।””
সুত্রঃআল ফিকহুল আকবর মাআ শরহে লি মোল্লা আলী কারী পৃ: ১২৫-১২৭
২) ইমাম শাহরেস্তানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,আমার জীবন দানকারী আল্লাহ পাক উনার কসম ইমাম আজম ও উনার দলকে অনেকে মুরজিয়া বলে অপবাদ দেয় কারন তিনি বলেন,ইমান অন্তরের বিশ্যাসের নাম।আর তার উপর অপবাদকারীরা মনে করে যে তিনি আমলকে বেকার মনে করেন।অথচ তিনি শরীয়তের ব্যপারে এত জ্ঞানী ও কঠোর তিনি কি একথা বলতে পারেন?
হ্যা আরেকটি কারন আছে মুর্জিয়া বলার তিনি প্রথম যুগে প্রকাশিত ফিত্নায়ে কদরিয়া, মুতাজিলার বিরোধিতা করেছিলেন তারাও তাকে মুর্জিয়া বলে আখ্যায়িত করত।(এইভাবেই একসময় অপপ্রচার শুরু হয়)
সুত্রঃ আল-মিলাল ওয়ান নিহালঃ১/১৪১
এগুলো আসলে লা-মাজহাবীদের বানানো বক্তব্য।যারা কিতাব কাটছাঁট ও কারচুপী করে থাকে। এরাই মাজহাবের বিরধী ইমাম সাহেব দের বিরোধী ।কিন্তু চিপায় পড়লে উনাদের বক্তব্য কাটছাঁট করে নিজেদের জালিয়াতী ঢাকতে চায়।
এখন এই কাফিরটাকে কী করা দরকার?সে কি প্রমাণ করতে পারবে তার বক্তব্য?সে কী বলতে পারবে কে ইমামে আযম কে ২ বার তওবা করিয়েছিল?তাকে চ্যলেঞ্জ করা হল।
আল্লাহ পাক আমাদের কে দ্বীনের সহীহ সমঝ দান করুন।আমীন।
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে