ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র শান মুবারক নিয়ে উলামায়ে ‘সূ’দের অপপ্রচার ও তার খণ্ডন


কুখ্যাত উলামায়ে ‘সূ’ আবূল ফযল, ফৈজী, মুল্লা মুবারক গং তারা ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে উনার প্রতি মিথ্যা তোহমত দিয়েছিল যে, “হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার চেয়েও শ্রেষ্ঠ মনে করেন।” নাউযুবিল্লাহ! সাথে সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে তৎকালীন বাদশাহকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্যে উলামায়ে ‘সূ’রা নালিশ জানায়। তখন বাদশাহ জাহাঙ্গীর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উক্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্যে আরয করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন, তখন উলামায়ে ‘সূ’দের মুখে চুনকালী পড়ে যায়। এ সম্পর্কিত তথ্যাবলী সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নির্ভরযোগ্য জীবনীগ্রন্থ থেকে নিম্নে তা তুলে ধরা হলো- “সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের বিপুল প্রভাবের দরুন বাদশাহ জাহাঙ্গীরের রাজদরবারে রাফেযীদের প্রভাব অতিশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই বদ মাযহাবের বিরুদ্ধে কতিপয় পুস্তক-পুস্তিকা রচনা করিয়াছিলেন। যাহার ফলে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা উনার ঘোর শত্রুতে পরিণত হইয়াছিল। তাহারা সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জব্দ করিবার জন্য তৎপর হইয়া উঠিলো। তাহারা সুযোগ বুঝিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক হযরত খাজা বাক্বীবিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লিখিত একটি পত্র বাদশাহর সম্মুখে পেশ করিয়া বাদশাকে বুঝাইয়া দিলো যে, শায়েখ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হইতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং তিনি বলেন যে, উনার মাক্বাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাক্বাম হইতে উচ্চে। উক্ত পত্রখানির অংশবিশেষ নিম্নে উদ্ধৃত করা হইলো: “দ্বিতীয়বার এই মাক্বাম অবলোকন করিবার সময় আরো অনেক মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয়, যাহার একটি অন্যটি হইতে উচ্চ ছিল। যখন উহা হইতে অধিকতর উচ্চ মাক্বামে পৌঁছিলাম তখন বুঝিলাম এই মাক্বামটি সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান গনী আলাইহিস সালাম উনার এবং অন্য খলীফাগণও এই মাক্বাম অতিক্রম করিয়াছেন। এই স্থান হইতে অধিক উচ্চ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাক্বাম জাহির হইলো। এই স্থানেও আসিয়া পৌঁছিলাম। খাজা বুযুর্গ হযরত শাহ্ নক্শবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রত্যেক স্থানে এইভাবে আমার সঙ্গীরূপে দেখিলাম যেন মাত্র অতিক্রম করার তফাৎ ছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাক্বাম হইতে উচ্চ কোনো মাক্বাম বুঝিতে পারি নাই। অবশ্য নবুওয়তের মাক্বাম অত্যন্ত বুলন্দ ও উচ্চ ছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাক্বামের বরাবর আর একটি অতি উত্তম ও বহুত নূরানী মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয়, যাহা হইতে অধিক উত্তম অন্য কোনো মাক্বাম দৃষ্টিগোচর হয় নাই। মাক্বামে ছিদ্দিক্বী হইতে উহা কেবল এতটুকু উচ্চ ছিল যেরূপ যমীন হইতে সভামঞ্চ কিয়ৎ পরিমাণ উচ্চ হইয়া থাকে। আমি জানিতে পারিলাম যে, ইহা ‘মাহবুবিয়াতের মাক্বাম’। এই মাক্বামটি রঙিন ও নকশাখচিত ছিল। এই মাক্বামের প্রতিচ্ছায়া পড়িবার দরুন এই বান্দা নিজকে রঙ্গিন ও উক্ত নক্শায় নিজকে খচিত দেখিলো। তৎপর রঙিন ও নক্শাখচিত এই অবস্থা সত্ত্বেও আমি নিজকে বড়ই সূক্ষ্ম (লতীফ) অনুভব করিতে লাগিলাম এবং বাতাস ও মেঘের টুকরার ন্যায় নিজকে আকাশের চক্রবালে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় অনুভব করিতে লাগিলাম। এই অবস্থায় এক প্রান্তে যাইয়া পৌঁছিলাম। হযরত খাজা বুযুর্গ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাক্বামে ছিদ্দীক্বের মধ্যে রহিলেন এবং আমি নিজকে ইহার বরাবরের মাক্বামে উল্লিখিত অবস্থায় দেখিতে লাগিলাম।” (মকতুব নং ১১, দফতর ১) এই পত্রখানি পেশ করার দরুন বাদশাহ জাহাঙ্গীর দুঃখিত হইলেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উত্তরে বলিলেন, “আহলে সুন্নাতগণের নিকট যেমন ঐ ব্যক্তি সুন্নী নহে, যে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন; অনুরূপভাবে সূফীগণের নিকটও ঐ ব্যক্তি সূফী নহে, যে নিজকে সৃষ্ট জীবের মধ্যে নিকৃষ্ট কুকুর হইতে ভালো মনে করে। অতএব, আমি নিজকে কিরূপে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে পারি। মুর্শিদ বা পীর ছাহেব ক্বিবলা উনার তাওয়াজ্জুহর দরুণ সালেকগণ কিরূপে এক মাক্বাম হইতে অন্য মাক্বামে ভ্রমণ করে ও উন্নীত হয় তাহার বর্ণনা এই মকতুবে উল্লেখ করা হইয়াছে। সালেকগণের উরুজ বা উত্থান এইরূপ মাক্বামে অল্প সময়ের জন্য হইয়া থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, শাহী দরবারে আমীরগণ রাত্র দিবস হাজির থাকেন। যদি কোনো সময় প্রয়োজনবশতঃ বা অন্য কোনো অজুহাতের দরুন বাদশাহ কোনো সিপাহীকে তলব করিয়া তাহার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করিয়া তাহাকে সম্মানিত করেন, তাহা হইলে উহা একটি অস্থায়ী ব্যাপার। ক্ষণিক পরেই সিপাহী নিজ স্থানে প্রত্যাবর্তন করে এবং দরবারীগণ-স্বীয় বুলন্দ মাক্বামেই অবস্থান করেন। এই অস্থায়ী নৈকট্যের দরুন সিপাহীর মর্যাদা বাদশাহের অমাত্যগণ হইতে উচ্চ মনে করা যাইতে পারে না। এইভাবে আমাদের উরুজ বা উত্থান একটি সাময়িক অবস্থা। এই অবস্থা শেষ হওয়ার পর আমি পুনঃ সিরহিন্দে পুরাতন পর্ণ কুটিরেই ফিরিয়া আসি। এই হাক্বীক্বতটি উপলব্ধি করার পর এই উচ্চ মাক্বামে ছিদ্দীক্বী অর্থাৎ মাক্বামে ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে নিজকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার ধারণা করাও অসম্ভব। ইহা ব্যতীত এই পত্রে ইহাও লিখিত আছে যে, এই মাক্বামের প্রতিবিম্বের দরুন আমি নিজকে স্বয়ং রঙ্গিন পাইলাম। সূর্যের আলো এবং ইহা হইতে আলোকপ্রাপ্ত হওয়াকে উদাহরণস্বরূপ পেশ করা যাইতে পারে। সূর্য সূর্যই থাকে- যমীনের উপর উহার আলোক পতিত হইলে যমীন আলোকিত হয়। কিন্তু যমীন কি ইহার কারণে সূর্যের সমকক্ষতার দাবি করিতে পারে? এইরূপ দলীল ও প্রমাণের দ্বারা হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বাদশাহকে বুঝাইবার পর বাদশাহ শান্ত হইলেন এবং উনাকে সসম্মানে বিদায় দান করিলেন। বিরোধীদলের জন্য এই পরাজয় বরদাশ্তযোগ্য ছিল না। তাহারা তখন অন্য ব্যবস্থা অবলম্বন করিলো।” (হযরত মুজাদ্দিদ আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১ম খ- ২২২ পৃষ্ঠা) মূলত, প্রত্যেক যামানায় উলামায়ে ‘সূ’রা যামানার মুজাদ্দিদগণ উনাদের শানে মিথ্যা তোহমত দেয় ও অপপ্রচার করে তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ১৫ শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানেও বর্তমান যামানার উলামায়ে ‘সূ’রা অনেক মিথ্যা তোহমত দেয় ও অপপ্রচার করে। যদিও তাদের প্রত্যেকটি অপপ্রচারের জাওয়াব ‘যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ’ উনাদের মধ্যে দেয়া হয়েছে। কাজেই আবূল ফযল, ফৈজী, মুল্লা মুবারক গং তাদের উত্তরসূরি বর্তমান যামানার উলামায়ে ‘সূ’দের থেকে সাবধান!
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে