ইমাম তাহাওয়ীর আকিদা


ইমাম তাহাওয়ীর আকিদা

ইমাম আবু জা’ফার আল-তাহাওয়ী আল-হানাফী

হিজরীঃ ২৩৯-৩২১

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহু তা’আলার যিনি বিশ্বসমুহের প্রভূ।

মহান আলীম, ইসলামের দলীল, আবু জা’ফার আল-ওয়াররাক আল-তাহাওয়ি আল-মিসরী, আল্লাহু তা’আলার রাহমা উনার উপর বর্ষিত হোক, বলেনঃ

এটা হচ্ছে আহলুস-সুন্নাহ ও জামা’আর আকাইদ যা ধর্মের বিজ্ঞ ফুকাহাগণ, যাদের সর্বাগ্রে রয়েছেন, ইমাম আজম আবু হানিফা আন-নুমান ইবন থাবিত, আবু ইউসুফ ইয়া’কুব ইবন ইবরাহীম আল-আনসারী এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আল-হাসান আল-সায়বানী, আল্লাহু তা’আলা উনাদের সকলের উপর পুর্ণ সন্তুষ্ট থাকুন, এর জ্ঞান অনুসারে তারা যেভাবে ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহের এবং বিশ্বসমূহের সুমহান প্রভুর ব্যাপারে বিশ্বাস করেন সেই অনুসারে বর্ণিত।

 

আল্লাহু তা’আলার একত্ব সম্পর্কে আল্লাহু তা’আলার সহায়তায়, আমরা বিশ্বাস করি ও বলি যে আল্লাহু তা’আলা এক, কোন অংশীদার ব্যাতীত।

কোন কিছুই উনার অনুরূপ নয়।

কোন কিছুই তাকে পরাভূত করতে পারে না।

তিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই।

তিনি অনাদি – উনার কোন শুরূ নেই। তিনি চিরস্থায়ী – উনার কোন শেষ নেই।

তিনি কখনও শেষ হবেন না।

উনার ইচ্ছা ছাড়া কোন কিছুই হয় না।

কোন কল্পনাই তাকে ধারণ করতে পারে না, কোন উপলব্ধিই তাকে আয়ত্ত করতে পারে না।

তিনি সকল সৃষ্টি থেকেই ভিন্ন।

তিনি জীবন্ত এবং কখনও মরবেন না এবং চির-সক্রীয় – কখনও ঘুমান না।

তিনি কোন প্রকার প্রয়োজনের তাগিদ ছাড়াই সৃষ্টি করেন এবং কোনরূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই তাদের জীবিকার ব্যাবস্থা করেন।

তিনি মৃর্তু ঘটান কোনরুপ শংকা ছাড়াই এবং পুর্নজীবিত করেন কোনরুপ প্রয়াস ছাড়া।

তিনি সর্বদাই অস্তিত্বমান রয়েছেন উনার গুণাবলীসহ কোন কিছু সৃষ্টির পুর্ব থেকেই।  সৃষ্টি কে অস্তিত্বে আনায় তার কোন গুণের কম বা বেশী হয়নি।  তিনি যেমন ছিলেন উনার গুণাবলীসহ সৃষ্টির পুর্বে তেমনি থাকবেন চিরকাল।

এমন নয় যে সৃষ্টি করার পরেই উনাকে সৃষ্টিকর্তা এবং শুরু করার পরেই উনাকে আরম্ভকারী বলা হবে।

তিনি সর্বদাই প্রভূ, এমনকি যখন প্রভূত্ব করার মত কিছুই ছিল না তখনও এবং সর্বদাই তিনি সৃষ্টিকর্তা এমনকি যখন কোন সৃষ্টি ছিল না।

তিনিই মৃতকে জীবন্তকারী এমনকি তাদেরকে জীবন দান করার পুর্বেই, তেমনি তিনি সৃষ্টি করার পুর্বেই সৃষ্টিকর্তা।

এটা এ কারণে যে সবকিছু করার ক্ষমতা উনার রয়েছে এবং সবকিছুই উনার উপর নির্ভরশীল। সবকিছুই উনার জন্যে সহজ এবং উনার কোন কিছুর প্রয়োজন নাই।

“কোন কিছুই উনার অনুরূপ নয় এবং তিনিই সর্বদর্শী, সর্বস্রোতা” আল-কোরআন ৪২-১১।

তিনি সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন উনার জ্ঞ্যান দ্বারা।

তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তাদের ভাগ্যও নির্ধারন করে দিয়েছেন।

তিনি তাদের জন্যে জীবনকাল নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

তাদের কোন কিছুই উনার কাছে গোপন ছিল না এমনকি তাদের সৃষ্টির পুর্বেও এবং সৃষ্টির পুর্বেই তিনি জানতেন তারা কি করবে।

তিনি তাদেরকে আদেশ করেছেন উনাকে মেনে চলতে এবং নিষেধ করেছেন উনার অবাধ্য হতে।

সবকিছুই উনার নির্ধারণ ও ইচ্ছা অনুযায়ী হয় এবং উনার ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়।  মানুষ শুধুমাত্র তাই ইচ্ছা করতে পারে যা তিনি তাদের জন্যে ইচ্ছা করেন। তিনি মানুষের জন্যে যা ইচ্ছা করেন তাই ঘটে, তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা ঘটে না।

তিনি যাকে ইচ্ছা পথ দেখান এবং রক্ষা করেন, এবং ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখেন উনার নিজস্ব সহৃদয়তায়। আর যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, নীচ করেন এবং বিপদাপন্ন করেন উনার ন্যায়পরায়ণতায়।

সকলেই উনার ইচ্ছার অধীন – উনার উদারতায় অথবা ন্যায়পরায়ণতায়।

কেও উনার সমকক্ষ বা প্রতিপক্ষ হওয়া থেকে উনি অসীম ঊর্ধে।

কেও উনার নির্ধারণ কে এড়িয়ে যেতে বা উনার আদেশ কে প্রতিহত করতে অথবা উনার কর্মকান্ড কে পরাভূত করতে পারে  না।

আমরা উপরের সবগুলোতে পূর্ণ বিশ্বাসী এবং নিশ্চিত যে সবকিছুই আল্লাহু তা’আলা থেকেই হয়।

এবং আমরা নিশ্চিত যে মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, উনার পছন্দকৃত বান্দা ও বাছাইকৃত নাবী এবং রাসূল যার উপর তিনি পূর্ণ সন্তুষ্ট। তিনি সমাপনী নাবী এবং আল্লাহভীরূগণের নেতা, রাসূল্গণের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত ও বিশ্বসমুহের প্রভূর পরম প্রিয়।

উনার পরে নবুয়্যতের প্রত্যেক দাবীই মিথ্যা এবং প্রতারণা।

উনাকেই সকল মানুষ এবং সকল জিনের রাসূলরূপে সত্য ও সঠিক নির্দেশনা এবং আলোক ও ঔজ্বল্য সহ পাঠানো হয়েছে।

আল-কোরআন আল্লাহু তা’আলার বাণী।  এটা উনার থেকে বচনস্বরূপ এসেছে, যার ‘কিভাবে’র উত্তর অসম্ভব।  তিনি এটা উনার রাসূলের উপর উহীস্বরূপ পাঠিয়েছেন। বিশ্বাসীগণ এটাকে পরম সত্য বলে স্বীকার করেন। তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করেন যে এটা প্রকৃতই আল্লাহু তা’আলার বাণী।

এটা মানুষের বচনের ন্যায় সৃষ্ট নয়, যে কেও এটা শোনে দাবি করে যে এটা মানুষের বচন সে কাফির হবে।

আল্লাহু তা’আলা তাকে সতর্ক করেন, আগুনের আযাবের ভয় প্রদর্শন করেন যখন তিনি বলেনঃ

“আমি তাকে আগুনে ঝলসাবো” আল-কোরআন ৭৪-২৬,

আল্লাহু তা’আলা তাদেরকে আগুনের ভয় প্রদর্শন করেন যখন তারা বলেঃ

“এটা শুধুই মানুষের কথা” আল-কোরআন ৭৪-২৫।

আমরা নিশ্চিতই জানি যে এটা মানবজাতির সৃষ্টিকর্তার বাণী এবং এটি মানুষের বচন থেকে সম্পুর্ন ভিন্ন।

যে কেও আল্লাহু তা’আলাকে যে কোন প্রকারে মানুষের মত বলে বর্ণনা করবে সে কাফির হবে।

যারা এটা বোঝে তারা কাফিরদের মত কথা বলা হতে বিরত হবে এবং জানবে যে আল্লাহু তা’আলা তার গুণাবলীতে মানুষের মত নন।

জান্নাতবাসীদের আল্লাহু তা’আলা কে দর্শন সত্য, এটা হবে তাদের দর্শনক্ষমতা সর্বদর্শী হওয়া ছাড়াই এবং এটার পদ্ধতি আমাদের অজানা।

“মুখমন্ডল সেদিন হবে সমুজ্বল, তাদের প্রভূর দিকে তাকানো” আল-কোরআন ৭৫-২২।

এটার ব্যখ্যা হচ্ছে এই যে আল্লাহু তা’আলা যেমন জানেন এবং ইচ্ছা করেন এর স্বরূপ তাই।  এবিষয়ে যা কিছু মহানাবী, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, থেকে বিশুদ্ধ হাদিস হিসেবে এসেছে, সেগুলোও তিনি যেমন বলেছেন এবং যা মানে করেছেন তাই।  আমরা এবিষয়ে ঘাটাঘাটি করে, অবাধ কল্পনায় ভর করে এসবের মনগড়া মানে দাড় করাতে চাই না।

কেওই তার ধর্মে নিরাপদ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আল্লাহু তা’আলা এবং তার প্রেরিত রাসূল মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম এর সম্পুর্ণরূপে নিকট আত্মসমর্পন করে এবং দুর্বোধ্য বিষয় গুলোর মানে তার উপর ছেড়ে দেয় যিনি জানেন।  কারও ইসলামই নিরাপদ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তা আত্মসমর্পন এবং আনুগত্যের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। যে কেও এমন বিষয় সম্পর্কে জানতে আকাঙ্ক্ষা করবে যা জানার ক্ষমতা তার নেই এবং যার বিবেক আত্মসমর্পনে তুষ্ট নয় সে দেখবে যে তার সেই আকাঙ্ক্ষাই আল্লাহু তা’আলার প্রকৃত একত্বের বিশুদ্ধ জ্ঞ্যান অর্জনে অন্তরায় হয়ে আছে।  সে নিজেকে পাবে বিশ্বাস ও অবিশ্বাস, সত্যায়ন ও অস্বীকৃতি এবং গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যানের মধ্যে দুদোল্যমান। কুমন্ত্রণায় বশীভুত হয়ে নিজেকে পাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সন্দেহপূর্ণ, না বিশ্বাস, না অবিশ্বাসী অবস্থায়।

তার ইমান সঠিক হবে না যে বেহেস্তে আল্লাহু তা’আলার দর্শন এর স্বরূপ সম্পর্কে কল্পনা করে অথবা তার নিজস্ব ধারণা অনুযায়ী এর ব্যখ্যা দাড় করায়।  প্রকৃতপক্ষে আল্লাহু তা’আলার প্রভূত্বের জগতের সূক্ষাতিসুক্ষ বিষয় এবং ঘটনার অর্থ এবং ব্যখ্যার ব্যাপারে সঠিক পথ হল এগুলো যেভাবে আছে ব্যখ্যা ব্যতীত সেভাবেই মেনে নেয়া। এটাই মুসলমানদের পন্থা।

যারা আল্লাহু তা’আলার গুণাবলীসমূহে অস্বীকৃতি জ্ঞ্যাপন করায় অথবা আল্লাহু তা’আলা কে কোন সৃষ্ট বস্তুর সাদৃশ্য জ্ঞ্যান করার ব্যাপারে সর্তক হয় না তারা বিপথগামী হয়েছে এবং আল্লাহু তা’আলার সুমহান মর্যাদা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে কেননা আমাদের সুমহান এবং উচ্চপ্রসংশিত প্রভূর বর্ননা কেবল মাত্র তার পরম একত্ব ও ‘সৃষ্টির সাথে তার কোনরূপ সাদৃশ্য না থাকা’   এর মাধ্যমেই করা যায়।

তিনি মাত্রাযুক্ত বা সীমাবদ্ধ হওয়া, আবদ্ধতা বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট হওয়া থেকে অসীম ঊর্ধে।  তিনি পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, উপর ও নীচ এসব দিক দাড়া নির্দেশিত হওয়ারও অসীম ঊর্ধে।

মিরাজ সত্য।  রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, কে রাতে, সশরীরে, জাগ্রত অবস্থায়, আকাশসমুহে পরিভ্রমণ করানো হয় এবং আল্লাহু তা’আলা উনাকে যতটুকু উচ্চতায় উঠানোর ইচ্ছা করেন সেই উচ্চতায় আরোহণ করান।

আল্লাহু তা’আলা যতটুকু ইচ্ছা উনাকে মহিমান্মিত করেন এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বর্গীয় রহস্য উনার জন্যে প্রকাশ করেন।

“তিনি যা দেখেছেন অন্তর তাতে ভুল করেনি” আল-কোরআন ৫৩-১১।

আল্লাহু তা’আলার অনুগ্রহ এবং শান্তি উনার উপর বর্ষিত হোক অজস্র ধারায়, ইহকালে ও পরকালে।

আল-হাউদঃ (চৌবাচ্চা যা আল্লাহু তা’আলা, রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, কে দান করেছেন সম্মানের নিদর্শন হিসেবে য থেকে পান করে উনার উম্মত কিয়ামত দিনে তৃষ্ণা নিবারন করবে) সত্য।

শাফা’য়াত – (বা সুপারিশ যা মুসলমানদের জন্যে সঞ্চিত আছে) সত্য, যা সঠিক হাদীসের মাধ্যমে সত্যায়িত।

ওয়াদা – যা আল্লাহু তা’আলা আদম, আলাইহিস-সালাম, ও তার বংশধরদের সাথে করেছেন তা সত্য।

আল্লাহু তা’আলা সময়ের অস্তিত্বের পুর্বেই জানতেন ঠিক কতজন বেহেস্তে এবং কতজন দোযখে যাবে। এই সংখ্যা কমবেও না বাড়বেও না।

একই ভাবে আল্লাহু তা’আলা জানতেন প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ, এবং তা সেভাবেই করা হয় যেভাবে করা হবে বলে তিনি জানতেন। প্রতিটি মানুষই যে উদ্যেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে আবদ্ধ এবং তার ভাগ্য তার শেষ কর্মের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।  যারা ভাগ্যবান তারা আল্লাহু তা’আলার নির্ধারণের মাধ্যমেই ভাগ্যবান, আর যারা হতভাগ্য তারাও উনার নির্ধারণের মাধ্যমেই হতভাগ্য।

এই নির্ধারণের প্রকৃত স্বরূপ সৃষ্টিতে আল্লাহু তা’আলার গোপন রহস্য।  না কোন নৈকট্যশীল ফেরেস্তা, না কোন নাবী এই বিষয়ে জ্ঞাত।

এই রহস্য উদ্ঘাটনে লিপ্ত হওয়া বা এবিষয়ে অধিক ভাবা ধংস এবং ক্ষতির কারণ এবং এর পরিণতি অবাধ্যতা।

সুতরাং পুর্ণ সতর্কতা অবলম্বন কর এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করার ব্যাপারে বা এই ব্যাপারে সন্দেহ দ্বারা আবিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে কারন আল্লাহু তা’আলা মানুষকে এর জ্ঞান থেকে দূরে রেখেছেন এবং এব্যাপারে ঘাটাঘাটি করতে নিষেধ করেছেন।

তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হন না কিন্তু তারা জিজ্ঞাসিত হয়। আল-কোরআন ২১-২৩।

সুতরাং যে কেও জিজ্ঞ্যেস করে, “কেন আল্লাহু তা’আলা এটা করলেন?” সে কোরআনের বিধানের বিরোধিতা করে, আর যে কোরআনের বিধানের বিরোধিতা করে সে কাফির বা অবিশ্বাসী হয়।

সামষ্টিক ভাবে এটাই হল আল্লাহু তা’আলার বন্ধুগণ যাদের অন্তর আলোক-উদ্ভাসিত তাদের জানা প্রয়োজন, আর এটাই দৃঢ়জ্ঞানধারীদের মর্যাদার ধাপ নির্ধারণ করে।  জ্ঞান দুই প্রকার – একটি সৃষ্ট জীবের আয়ত্তসাধ্য অপরটি আয়ত্তসাধ্য নয়। আয়ত্তসাধ্য জ্ঞান কে অস্বীকার করা কুফর আর আয়ত্তের অসাধ্য জ্ঞানের দাবী করাও কুফর। ইমান তখনই দৃঢ় হয় যখন আয়ত্তসাধ্য জ্ঞান গ্রহণ করা হয় আর আয়ত্তের অসাধ্য জ্ঞানের অনুসন্ধান ছেড়ে দেয়া হয়।

আমরা তক্ত (আল-লাউহ) ও কলম এবং যা কিছু তক্তে লিখিত আছে তা বিশ্বাস করি।  যদি সমগ্র বিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি একত্রে চেষ্টা করে তবুও যার অস্তিত্ব তক্তে লিখিত আছে তার অস্তিত্ব রুখতে পারবে না। যদি সমগ্র বিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি একত্রে চেষ্টা করে তবুও যার অস্তিত্ব তক্তে লিখিত নাই তাকে অস্তিত্বমান করতে পারবে না। কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু অস্তিত্বমান হবে সমস্ত কিছু লিখে কলম শুকিয়ে গেছে।  য কিছু কেও পায়নি সে কোন দিনই তা পেত না, এবং যা কিছু কেও পেয়েছে কখনও তা তাকে এড়িয়ে যেত না।

বান্দার জন্যে এটা জানা আবশ্যিক যে আল্লাহু তা’আলা তার সৃষ্টিতে যা কিছ ঘটবে তা আগে থেকেই জানেন এবং তিনি তা সুস্পস্টভাবে সবিস্তারে নির্ধারণ করে রেখেছেন।  আকাশ ও পৃথিবীর কোন কিছুই তার বিপরীত করতে সক্ষম নয় – এর কোন প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি, পরিবর্তন, যোগ-বিয়োগ করতে তারা কোন ভাবেই সক্ষম নয়।

যেমন আল্লাহু তা’আলা কোরআনে বলেনঃ

“তিনি সকল বস্তু সৃষ্টি করেন এবং তিনি তা সুস্পস্টভাবে এবং সবিস্তারে নির্ধারণ করেন।” আল-কোরআন ২৫-২।

তিনি আরও বলেনঃ

“আল্লাহু তা’আলার আদেশ সর্বদাই স্থিরীকৃত নির্ধারণ।” আল-কোরআন ৩৩-৩৮।

সুতরাং দুঃখ তার জন্যে যে আল্লাহু তা’আলার নির্ধারণ সম্পর্কে তর্ক করে এবং বিকৃত মানসিকতা নিয়ে এসব ব্যাপারে ঘাটাঘাটি করে।  অদৃশ্যের এমন জ্ঞানের পিছনে সে ছোটে যা কখনই সে আয়ত্ত করতে পারবে না – পরিণতিতে সে হয় একজন অপকর্মকারী, মিথ্যুক।

আল-আরশ (সিংহাসন) এবং কুর্সী সত্য।

মহান আল্লাহ তার সিংহাসন এবং যা কিছু এর নীচে রয়েছে তার উপর নির্ভরশীল নন।

সবকিছু তার আয়ত্তাধীন এবং উনার সৃষ্টি উনাকে আয়ত্তাধীন করতে পারে না।

আমরা বিশ্বাস, গ্রহণ, আনুগত্য সহকারে বলি যে আল্লাহু তা’আলা ইব্রাহীম, আলাইহিস-সালাম, কে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন এবং মূসা, আলাইহিস-সালাম, এর সাথে সরাসরি কথা বলেন।

আমরা ফেরেস্তাগণ, নাবী ও রাসূলগণ এবং তাদের উপর পাঠানো আসমানী গ্রন্থ সমূহে বিশ্বাস করি এবং সাক্ষ্য দেই যে নাবীগণ সকলেই প্রতিষ্ঠিত সত্যের অনুসারী ছিলেন।

আমাদের কিবলার অনুসারীদের কে আমরা মুসলিম এবং বিশ্বাসী বলি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, কর্তৃক আনীত সকল কিছুকে সত্য বলে গ্রহণ করে।

আমরা আল্লাহু তা’আলা সম্পর্কে অসার আলাপচারিতায় মত্ত হই না এবং উনার পাঠানো ধর্মে কোনরূপ বিরোধের অবকাশ দেই না।

কোরআন নিয়ে আমরা বিতর্ক করি না এবং সাক্ষ্য দেই যে এটা বিশ্বসমূহের প্রতিপালক আল্লাহু তা’আলার বাণী যা বিশ্বস্ত জীবরীল, আলাইহিস-সালাম, রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, কে শিখিয়েছেন।  এটা আল্লাহু তা’আলার বাণী এবং কোন সৃষ্ট সত্তার বচন এটার তুল্য নয়। আমরা বলি না যে কোরআন সৃষ্ট এবং এবিষয়ে আমরা মুসলিম সমাজের বিরোধী নই।

আমরা আমাদের কিবলার অনুসারী কাওকে তাদের কোন অন্যায় কর্মের জন্যে অবিশ্বাসী সাব্যস্ত করি না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঐ অন্যায় কাজকে বৈধ মনে না করে।

আমরা এটাও বলি না যে কোন ইমানদার মানুষের অন্যায় কাজ তার জন্যে ক্ষতিকারক নয়।

আমরা আশা করি যে সৎকর্ম পরায়ণ বিশ্বাসীদের আল্লাহু তা’আলা ক্ষমা করবেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন, তবে এব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই, আমরা এবিষয়ে সাক্ষ্য দিতে অপারগ যে এটি অবশ্যই ঘটবে এবং তারা বেহেস্তে প্রবেশ করবে।

আমরা বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা অপকর্মে লিপ্ত তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী এবং তাদের ব্যাপারে শংকিত, তবে তাদের ব্যাপারে আমরা নিরাশ নই।

নিশ্চিন্ততা এবং হতাশা দুটোই ধর্মের বাইরে; প্রকৃত পথ হচ্ছে এদুয়ের মাঝামাঝি। (আল্লাহু তা’আলা কর্তৃক কড়া হিসাব নেয়ার ভয় এবং উনার করুণার উপর আশা রাখাই হছে মধ্যম পন্থা)

কোন মানুষ বিশ্বাসের গন্ডির বাইরে যায় না যতক্ষণ না সে সেই সব বিষয় কে অস্বীকার করে যা বিশ্বাসী হওয়ার জন্য আবশ্যক।  বিশ্বাস হচ্ছে অন্তর দিয়ে গ্রহণ এবং তার মৌখিক সত্যায়ন।

শরিয়তের বিধি বিধান এবং কোরআন ও ইসলামের ব্যখ্যা স্বরূপ যা কিছু রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, থেকে নিশ্চিতরূপে এসেছে সবই সত্য।

ভিত্তিমূলে সকলের বিশ্বাসই সমান, কিন্তু এবিষয়ে একজনের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্য তাদের আল্লাহ ভীতি ও সচেতনতা, তদের নিজেদের খেয়াল খুশীর বিরূদ্ধচারন এবং তাদের আল্লাহু তা’আলার কাছে যা অধিক প্রিয় সেইসব বিষয়কে গ্রহণ করার মাধ্যমে অর্জিত।

বিশ্বাসীগণের সকলেই আল্লাহু তা’আলার বন্ধু এবং উনার দৃষ্টিতে এদের মধ্যে সবচেয়ে মহৎ তারাই যারা আল্লাহু তা’আলার সবচেয়ে বেশী অনুগত এবং কোরআনকে সবচেয়ে বেশী অনুসরনকারী।

ইমান হচ্ছে আল্লাহু তা’আলা, তার ফেরেস্তাগণ, তার ঐশী গ্রন্থসমূহ, তার প্রেরিত নাবীগণ, কিয়ামত দিবস, এবং তাকদীর – এর ভাল ও মন্দ- উভয়েই আল্লাহু তা’আলা থেকে, এই সকল বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা।

আমরা এসবের সবগুলোই বিশ্বাস করি। আমরা নাবীদের মধ্যে পার্থক্য করি না – আমরা উনাদের আনীত সকল সংবাদই সত্য বলে গ্রহণ করি।

মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর উম্মতের মধ্যে যারা কাবীরা গুনাহ করেছেন তারা দোযখে যাবেন, তবে চিরকালের জন্য নয়; যদি তারা ইমানসহ মৃর্তুবরণ করেন, যদিও তাওবা না করেই মরেণ। তাদের পরিণতি আল্লাহু তা’আলার ইচ্ছা এবং বিচারের উপর নির্ভরশীল।

যদি চান তবে তিনি স্বীয় করূণায় তাদের ক্ষমা করবেন, যেমন তিনি কোরআনে বলেছেনঃ

“এবং তিনি যাকে ইচ্ছা তার শিরক এর নীচে যে কোন গুনাহ ক্ষমা করেন” আল-কোরআন ৪-১১৬।

যদি তিনি চান তবে তাদেরকে বিচার করে দোযখে শাস্তি দিবেন এবং তা থেকে বের করে আনবেন স্বীয় করূণায়, অথবা উনার অনুগত কোন বান্দার সুপারিশে, অতঃপর তাদেরকে বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন।

এটা একারণে যে, যারা আল্লাহু তা’আলাকে স্বীকার করেন তাদের সাথে পরকালে উনি সেই ব্যাবহার করবেন না যা তিনি করবেন তাদের সাথে যারা উনাকে অস্বীকার করে পথভ্রষ্ট হয় এবং উনার নিরাপত্তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।  আল্লাহুম্মা, আপনিই ইসলাম এবং মুসলমানদের রক্ষক; আমাদেরকে ইসলামের উপর দৃঢ় রাখুন যতদিন না আমরা আপনার সাক্ষাত পাই।

আমরা কিবলার অনুসারী যে কারও পিছনে নামাজ পড়তে এবং তার জানাজা পড়তে সম্মত যদিও তারা পাপাচারী হয়।

আমরা তাদের কাওকে দলগত ভাবে দোযখী বা বেহেস্তী বলি না।  তাদের কাওকে কাফির, মুশরিক বা মুনাফিক বলি না যতক্ষণ না তারা প্রকাশ্যে এমন কিছু করে যা কুফর, শিরক বা নিফাক।

তদের গোপন অবস্থার বিচার আমরা আল্লাহু তা’আলার উপর ছেড়ে দেই।

আমরা মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর উম্মতের কাওকে হত্যা করতে সন্মতি দেই না, যতক্ষণ না শরিয়ত তার হত্যাকে অপরিহার্য সাব্যস্ত করে।

যারা আমাদের নেতৃত্যে আছেন বা আমাদের প্রসাশনিক দায়িত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে আমরা সম্মত নই, যদিও তারা অত্যাচারী হয়; আমরা তাদের অমঙ্গলও কামনা করি না, তাদের প্রতি আমাদের আনুগত্যও প্রত্যাহার করি না।

আমরা তাদের প্রতি আমাদের আনুগত্য আল্লাহু তা’আলার প্রতি আমাদের আনুগত্যের অংশ হিসেবে আবশ্যিক মনে করি – যতক্ষণ না তারা পাপ কজে আদেশ করেন।  আমরা তাদের সঠিক পথ প্রাপ্তি এবং তাদের কৃত অন্যায়ের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করি।

আমরা নাবী, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর সুন্নাহ এবং মুসলিম সমাজের অনুসরণ করি এবং সকল প্রকার ভ্রষ্টতা, পার্থক্য ও বিভাজন পরিহার করি।

আমরা ন্যায়নিষ্ঠ ও সত্যবাদীদের ভালবাসি এবং অত্যাচারী ও বিশ্বাসঘাতকদের ঘৃণা করি।

যখন কোন বিষয়ে আমাদের জ্ঞান অস্পষ্ট আমরা বলিঃ ‘আল্লাহই ভাল জানেন।’

আমরা মোজার (নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে) উপর মাসেহ করা – সফর বা অন্য সময়ে, সঠিক মনে করি, যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে।

হজ্জ, এবং মুসলমানদের নেতৃত্যে যারা আছেন তাদের অধীনে জিহাদ, যদিও তারা অন্যায়কারী হয়, কিয়ামত পর্যন্ত চলমান অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। কোন কিছুই এ দুটিকে রহিত বা অস্বীকার করতে পারে না।

আমরা বিশ্বাস করি কিরামান ও কাতিবিন নামক দুই সম্মানিত ফেরেস্তা যারা আমাদের কর্মকান্ড লিপিবদ্ধ করতে আল্লাহু তা’আলা কর্তৃক আমাদের উপর অভিভাবক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

আমরা মৃর্ত্যুর ফেরেস্তাকে বিশ্বাস করি, যাকে আল্লাহু তা’আলা সমস্ত জগতের আত্মাসমূহ গ্রহণ করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

যারা এর উপযুক্ত সেই সব লোকের কবরের শাস্তি, মুনকার ও নাকির কর্তৃক কবরে মানুষের প্রভূ, ধর্ম, নাবী এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হওয়ায় আমরা বিশ্বাস করি, যেভাবে এসব সত্য, রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সাহাবীগণ, আল্লাহ উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন, হতে আমরা পেয়েছি।

কবর হয় বেহেস্তের প্রান্তর সমূহের একটি অথবা দোযখের আগুনের গর্ত।

আমরা কিয়ামত দিবসে পুনরূজ্জীবনে এবং আমাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাওয়ায় বিশ্বাস করি। আমরা আল-আরদ, আল-হিসাব, কিতাব পাঠ, ছওয়াব ও শাস্তি, আল-সিরাত (দোযখের উপরের সেতু), আল-মিযান (দাড়িপাল্লা) এর উপর বিশ্বাস রাখি।

বেহেস্ত এবং দোযখ সৃষ্ট বস্তু যা কখনও শেষ হবে না, আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহু তা’আলা অন্যসব সৃষ্টির পুর্বেই এ দুটো কে সৃষ্টি করেছেন, তারপর মানুষ সৃষ্টি করেছেন তার প্রত্যেকটিতে বসবাসের জন্য।  তিনি যাকে ইচ্ছা করবেন উনার বদান্যতায় সে বেহেস্তে যাবে আর যাকে ইচ্ছা করবেন উনার ন্যায়বিচারে দোযখে যাবে।  প্রত্যেকে সেই অনুযায়ীই কাজ করে তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত এবং সেই দিকেই ধাবিত হয় যার জন্য সে সৃষ্ট।

ভাল এবং মন্দ দুটোই মানুষের জন্য পুর্ব নির্ধারিত।

তৌফিকের ভিত্তিতে সামর্থ্য যা কোন কাজের সম্পাদন কে নিশ্চিত করে দেয় তা সৃষ্টির প্রতি আরোপ করা যাবে না।

এই সামর্থ্য কাজের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত; আর যে সামর্থ্য মানুষের স্বাস্থ্য, ক্ষমতা, অবস্থানগত সুবিধা, প্রয়োজনীয় উপকরণের উপস্থিতি এসবের বিবেচনায় মানুষে বিদ্যমান তাই শরিয়তের বিবেচনার অধীন।

আল্লাহু তা’আলা বলেনঃ

“আল্লাহ কাওকে তার সামর্থ্যের অধিক ভার দেন না।” কোরআন ২-২৮৬।

মানুষের কর্ম আল্লাহু তা’আলার সৃষ্টি আর মানুষের অর্জন।

আল্লাহু তা’আলা মানুষ কে শুধুমাত্র সেই দায়িত্বই দিয়েছেন যা সে বহন করতে সক্ষম আর মানুষ শুধু তাই করতে সক্ষম যা করতে আল্লাহু তা’আলা তাদের সহায়ক হন। এটাই হল নিন্মোক্ত বাক্যের ব্যখ্যাঃ

‘আল্লাহু তা’আলার সহায়তা ছাড়া কোন শক্তি বা ক্ষমতা নেই।’

এর সাথে আমরা এটাও যোগ করি যে আল্লাহু তা’আলার সাহায্য ছাড়া উনার প্রতি অবাধ্যতা এড়িয়ে যাওয়ার বা তা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নাই। আবার আল্লাহু তা’আলার বাধ্যগত হওয়ার এবং তাতে দৃঢ় থাকার কোন রকম শক্তিও কারও নেই যদি না আল্লাহু তা’আলা তাদের জন্য তা সম্ভব করেন।

যা কিছু ঘটে তা আল্লাহু তা’আলার ইচ্ছা, জ্ঞান, পুর্বনির্ধারণ ও বন্টন অনুযায়ীই ঘটে। উনার ইচ্ছা অন্য সকলের ইচ্ছার উপর পরাক্রমশীল এবং উনার নির্ধারণ সকল পরিকল্পনাকেই বশীভূত করে দেয়। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন এবং তিনি কখনও অত্যাচারী নন।

তিনি স্বীয় পবিত্রতায় যে কোন প্রকার মন্দ থেকে অসীম ঊর্ধে এবং যে কোন দোষ-ত্রুটি থেকে সর্বদাই মুক্ত – পরম উৎকর্ষের অসীম শিখরে অবস্থিত।

তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না কিন্তু তারা জিজ্ঞাসিত হবে। আল-কোরআন ২১-২৩।

মৃতদের জন্য জীবিত মানুষদের দুয়া এবং দান উপকারী।

আল্লাহু তা’আলা মানুষের আকুতিতে সাড়া দেন এবং তারা যা চায় তা দান করেন।

সবকিছুর উপর আল্লাহু তা’আলার পূর্ন নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং উনার উপর কারও কোনপ্রকার নিয়ন্ত্রণ নেই।

কোন কিছুই আল্লাহু তা’আলার উপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত নয় – এমনকি চোখের পলকের জন্যও এবং যে কেও মনে করবে যে সে আল্লাহু তা’আলা থেকে স্বনির্ভর- এমনকি চোখের পলকের জন্য, তবে কুফরের দোষে দোষী হবে এবং নরকবাসী হবে।

আল্লাহু তা’আলা রাগাণ্বিত ও সন্তুষ্ট হন তবে তা তার কোন সৃষ্টির অনুরূপভাবে নয়।

আমরা রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর সাহাবীগণকে ভালবাসি কিন্তু তাদের কাওকে অন্যদের থেকে বেশী ভালবাসার  ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করি না বা তাদের কাওকে আমাদের ভালবাসার বাইরে রাখি না।  যারা উনাদেরকে ঘৃণা করে বা উনাদের সম্পর্কে মন্দ বলে আমরা তাদেরকে ঘৃণা করি, আমরা সব সময়েই উনাদের শুধু ভালই বলি।  উনাদেরকে ভালবাসা ইসলাম, ইমান এবং উচ্চতম চারিত্রিক বৈশিষ্টের অংশ এবং তাদেরকে ঘৃণা করা কুফর, কপটচারিতা এবং ধর্মদ্রহিতার অন্তর্ভুক্ত।

আমরা সত্যায়ন করি যে রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর পরে আবু বাকর আস-সিদ্দিক, রাদিয়া আল্লাহু তা’আলা আনহ, খালিফা হন, যা সকল মুসলিমের উপর উনার শ্রেষ্ঠত্য প্রমাণ করে। তারপর ধারাবাহিকভাবে খালিফা হন উমার ইবন আল-খাত্তাব, উথমান ইবন আফফান এবং আলী ইবন আবি তালিব, রদিয়া আল্লাহু তা’আলা আনহুম। এঁরাই হলেন সঠিক পথপ্রাপ্ত খালিফা এবং ন্যায়পরায়ণ নেতা।

আমরা সাক্ষ্য দেই যে সেই দশজন যাদেরকে রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, জান্নাতবাসী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা জান্নাতবাসী হবেন, যেহেতু উনার কথা সত্য এবং উনি এবিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই দশজন হলেনঃ আবু বাকর, উমার, উথমান, আলী, তালহা, যুবায়ের, সা’দ, সা’ইদ, আব্দুর-রাহমান ইবন আউফ, ও আবু উবায়দা ইবন আল-জাররাহ, রদিয়া আল্লাহু তা’আলা আনহুম আজমাইন।

যে কেও রাসূল আল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর সাহাবীগণ, এবং উনার সম্মানিত স্ত্রী ও সন্তানগণ যারা অত্যন্ত পুতঃপবিত্র, সম্পর্কে সর্বদা ভাল বলে সে কপটচারিতার দোষ থেকে মুক্ত।

নাবী কারীম, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ-লিহি ওয়া সাল্লাম, এর সময়কার পন্ডিতবর্গ, এবং তাদের পদাংক অনুসরণকারী পরবর্তী প্রজন্মের গুণী ব্যক্তিবর্গ, হাদীসের বর্ণনাকারীগণ, ফুকাহা এবং ব্যখ্যাদানকারী পন্ডিতগণ – তাদের সম্পর্কে শুধুমাত্র তাই বলা উচিত যা উত্তম; যে কেও তাদের ব্যাপারে মন্দ বলে সে সঠিক পথের উপর নেই।

আমরা এই উম্মতের কোন দরবেশ ব্যক্তিকে কোন নাবীর উপরেই প্রাধান্য দেই না, বরং আমরা বলি যে যেকোন একজন নাবী সন্মিলিতভাবে সকল দরবেশ অপেক্ষা উত্তম। আমরা আওলিয়া কিরামের কারামাত সমূহে বিশ্বাস করি যখন তা বিশ্বস্তসূত্রে প্রাপ্ত।

আমরা কিয়ামতের আলামত সমূহে বিশ্বাস করি যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা, আলাইহিস-সালাম, এর আগমন, সূর্যের অস্তাচল থেকে উদয় এবং ভূগর্ভস্থ প্রাণীর উদ্ভব।

আমরা ভবিষ্যত বক্তা ও ভাগ্য গণনাকারীরা যা বলে তা সত্য বলে বিশ্বাস করি না, তাদের দাবীকেও আমরা গ্রহণ করি না যারা কোরআন, সুন্নাহ, এবং ইজমার বিপরীতে কিছু বলে।

আমরা বিশ্বাস করি যে একত্রে থাকাই সত্য এবং সঠিক পথ এবং বিভক্তি হচ্ছে পথভ্রষ্টতা ও শাস্তি।

স্বর্গ ও মর্ত্যে আল্লাহু তা’আলার মনোনীত ধর্ম একটাই – তা হচ্ছে ইসলাম।

আল্লাহু তা’আলা বলেনঃ

“নিশ্চয়ই, ইসলামই আল্লাহু তা’আলার নিকট একমাত্র ধর্ম।” আল-কোরআন ৩-১৯।

এবং তিনি বলেনঃ

“আমি সন্তুষ্ট যে ইসলাম তোমাদের ধর্ম।” আল-কোরআন ৫-৩।

ইসলাম হচ্ছে বাড়াবাড়ি এবং ঘাটতি, আল্লাহু তা’আলার গূণাসমূহকে সৃষ্টির গূণের অনুরূপ ভাবা আর এগুলোকে অস্বীকার করা, চূঢ়ান্ত অদৃষ্টবাদ ও তাকদীরে অবিশ্বাস, আল্লাহু তা’আলার দয়ার উপর নিশ্চিত হয়ে হিসাব নিকাশের ভয় না করা আর উনার করূণার ব্যাপারে সম্পুর্ন হতাশ হওয়া এসবের মাঝামাঝি একটি মধ্যম পন্থা।

এটাই আমাদের ধর্ম, এবং এতেই আমরা বিশ্বাস করি বাহ্যিকভাবে এবং অন্তর দিয়ে এবং আমরা যা বলেছি ও সুস্পষ্ট করেছি যারা এর বিরূদ্ধে যায় তাদের সাথে আমরা সকল সম্পর্ক পরিত্যাগ করি।

আমরা আল্লাহু তা’আলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে আমাদের বিশ্বাসের উপর দৃঢ় রাখুন, এবং এরই উপর আমাদের জীবনাবসান ঘটান, এবং আমাদেরকে নানাবিধ ধারণা, বিক্ষিপ্ত মতবাদ, দুষ্টপন্থা যেমন মুশাব্বিহা, মু’তাযিলাহ, জাহমিয়াহ, জাবারিয়া, কাদারিয়া এবং অন্যান্য দল যারা আহলুস-সুন্নাহ ও জামা’আর বিপরীতে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের থেকে রক্ষা করুন।

আমরা তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করি এবং আমাদের বিবেচনায় তারা ভ্রান্তি এবং ধ্বংসের পথে রয়েছে।

আমরা আল্লাহু তা’আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে সকল প্রকার মিথ্যা থেকে রক্ষা করেন, এবং ভাল কাজ সম্পাদনে উনার অনুগ্রহ ও আনুকূল্য আমাদের দান করেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. সুন্দর লেখা। তবে রেফারেন্স দিলে ভাল হয়

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে