ইরাকে পুলিশ ও সৈন্যদের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ


ইরাকে চাকরিরত অবস্থায় সৈন্য এবং পুলিশের দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করে এক আদেশ জারি করেছে সরকার। কয়েক দশকের স্বৈরশাসনের অবসানের পর এ ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে ইরাকজুড়ে উত্তপ্ত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের মেকানিক আবু হায়দার রয়টার্সকে বলেন, আমি যখন এ সংক্রান্ত চিঠিটি দেখতে পাই যাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয় আমাদের দাড়িসহ চাকরির অনুমতি দিবে না, তখন আমি প্রচন্ড ক্ষেপে যাই। কারণ এটি হচ্ছে ব্যক্তিস্বাধীন তার উপর হস্তক্ষেপ। স্বৈরশাসকের উৎখাতের পর আমরা এটা অনুভব করতে শুরু করেছি। দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে পুলিশ এবং সৈন্যদের দাড়ি রাখার অনুমতি ছিল।

কিন্তু গত এপ্রিল মাস থেকে শিয়া প্রভাবিত সরকার চাকরিরত অবস্থায় সৈন্য এবং পুলিশ বাহিনীর দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

যার ফলে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে চরম উত্তপ্ত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া শিয়া-সুন্নীর সাম্প্রদায়িক বিভক্তি বর্তমানে বাইরে থেকে অনেকটা শিথিল বলে মনে হচ্ছে। ইরাকের জোট সরকারের অংশীদার শিয়া নেতা মোকতাদা আল-সদর দাড়ি নিষিদ্ধের আদেশকে ঐশি বিধানের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেক করেছেন এবং একে ধর্মীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এক সময় সদরের অনুসারীরা আমেরিকান সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ইরাকী সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা সরকারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে। যাতে বলা হয়েছে ঐ আদেশের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা হাদী ঘালি আওয়াদ বলেন, কেন এ নিষেধাজ্ঞা? দাড়ি কি কাউকে কোন ক্ষতি করে?

এছাড়া এটা আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতার অংশ এবং এটি ইসলামী বিধানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দাড়ি রাখা ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ্। ইরাকে শিয়া সুন্নীদের মধ্যে দাড়ি অনেকসময় মৈত্রীর বন্ধন সৃষ্টি করে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন দখলদার বাহিনী ২০০৩ সালে ইরাক দখল করে সাদ্দাম সরকারকে উৎখাতের পর নিরাপত্তা রক্ষী ও বিদেশী বাহিনীর বিরুদ্ধে এরা উভয়ই যুদ্ধ করেছে।

কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষের যুক্তি হচ্ছে দাড়িবিহীন ক্লিন শেভ সুসজ্জিত সৈন্যবাহিনী ও পুলিশকে যেকোন ধরনের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক মুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরাকী পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য সেক্যুলারপন্থী নেতা হামিদ মুতলাক বলেন, সৈন্যদের দাড়ি থাকলে এমন ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে, কোন রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় দলের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তারক্ষী ও সৈন্যদের ক্ষেত্রে আমরা এটা হতে দিতে চাই না।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক দখলের পর নিষিদ্ধঘোষিত সশস্ত্র শিয়া ও সুন্নী মিলিশিয়া বাহিনী বাগদাদের অনেক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং কঠোরভাবে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করে মাঝে মাঝেই উভয় সম্প্রদায়ের বিদ্রোহী ও মিলিশিয়া নেতাদের শশ্রুমন্ডিত অবস্থায় দেখা যায়। বর্তমানে শিয়া, সুন্নী এবং খৃস্টান মহিলা সকলের ব্যাপারই ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ পরা বাধ্যতামূলত, এছাড়া সন্দেহজনক বিউটি সেলুনগুলো প্রায় বন্ধ রয়েছে।

চরম জাতিগত দাঙ্গা প্রায় অতিত হতে চলেছে। কিন্তু অনেক ইরাকী এমনভাবে তাদের প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে যাতে তাদের দেখে কেউ আকর্ষিত হয়। তবে অনেক ইরাকী দাড়ির বিতর্কে খুব আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, তারা উদ্বিগ্ন তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে। ২৯ বছর বয়স্ক পুলিশ সদস্য হায়দার ফালাহী এবং দারিদ্র্যপীড়িত শিয়া জেলা সদর সিটির একজন নরসুন্দর প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের দুর্নীতি, মৌলিক কর্মসংস্থান বেকারত্বের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কি করেছি? কিছুই করতে পারিনি। আমরা দাড়ি ও স্কার্ফের বিতর্কে আমাদের জড়িয়ে রেখেছি। এটা আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।

23.06.2012

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+