তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী


হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী, আল্লাহপাক উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ সমস্ত ইলম উনাকে হাদিয়া করেছেন।এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা। ইলমে গইব সংশ্লিষ্ট কতক ঘটনা দেওয়া হলো,

বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা যখন মুসলমানগণকে জয়যুক্ত করলেন এবং কাফিরদেরকে পরাভূত করলেন, তখন মুসলমানগণের হাতে যারা বন্দী হয়েছিল, তাদের মধ্যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) ছিলেন।বন্দীদের থেকে যখন মুক্তিপণ দাবী করা হলো, তখন হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমিতো গরীব, আমার কাছে তো কিছুই নেই। তুমি যখন আমাকে মক্কা শরীফ ত্যাগ করে চলে এসেছিলে তখন বংশের সবার থেকে আমি গরীব ছিলাম। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা ঠিক, তবে আপনি যখন কাফিরদের সাথে বদরের যুদ্ধে আসার মনস্থ করলেন, তখন আপনি চাচী উম্মে ফজলকে গোপন ভাবে যে স্বর্ণের পাতগুলো দিয়ে এসেছেন, সেটা গোপন করছেন কেন? হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এ কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদৃশ্য জ্ঞান দেখে মুসলমান হয়ে গেলেন।

(সুবহানাল্লাহ্)

তাবুকের যুদ্ধে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উষ্ট্রী হারিয়ে গিয়েছিল। এক মুনাফিক এক সাহাবীকে বললো, তোমাদের মুহাম্মদ তো নবী দাবী করে এবং তোমাদেরকে আসমানের কথা শুনায়। অথচ উনার উষ্ট্রীর হদিস উনার কাছে নেই। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুনাফিকের এ কথা শুনলেন, তখন বললেন নিশ্চয়ই আমি নবী এবং আল্লাহপাক আমাকে অদৃশ্য জ্ঞান দান করেছেন। শুনো, আমার উষ্ট্রী অমুক জায়গায় দাঁড়ানো আছে। এক বৃক্ষের সাথে তার নাকের রশি আটকে গেছে। যাও ওখান থেকে উষ্ট্রীটি নিয়ে এসো। নির্দেশমত সাহাবায়ে কিরাম গিয়ে দেখলেন যে, ঠিকই উষ্ট্রীটি সেই জায়গায় দাঁড়ানো আছে এবং তার নাকের রশিটি এক বৃক্ষের সাথে আটকে গিয়েছে।

(সুবহানাল্লাহ্)

এক বিদুইন তার কাপড়ের আস্তিনের ভিতরে কিছু লুকিয়ে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমতে হাজির হলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ! যদি তুমি বলতে পার যে আমার আস্তিনের ভিতর কি আছে, তাহলে আমি স্বীকার করবো যে তুমি সত্যিকার নবী। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সত্যিই তুমি ঈমান আনবে? সে বললো, হ্যাঁ, ঠিক! আমি ঈমান আনবো। হুযুর ফরমালেন, তাহলে শুন, তুমি এক জংগল দিয়ে যাচ্ছিলে, পথের ধারে এক গাছ দেখলে, যেখানে কবুতরের বাসা ছিল। সেই বাসায় কবুতরের দুটি বাচ্চা ছিল। তুমি বাচ্চা দুটি ধরে যখন নিয়ে আসতে ছিলে, তখন স্ত্রী কবুতরটি তা দেখে তোমার উপর ঝাপিয়ে পড়ছিল তখন তুমি সেটাকেও ধরে ফেলেছ। এ মূহুর্তে সেই স্ত্রী কবুতর ও বাচ্চাদ্বয় তোমার কাছে তোমার কাপড়ের আস্তিনের ভিতর লুকায়িত আছে। বেদুইন একথা শুনে বিস্মিত হয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘোষনা করলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহপাত ছাড়া কোন মাবুদ নাই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয় আপনি আল্লাহ রসূল(ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ।

(সুবহানাল্লাহ্)

সবকঃ
আমাদের জানা অজানা এরূপ অহরহ ঘটনা রয়েছে যা দ্বারা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী প্রমাণ হয়। কোন সুষ্ঠ জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি কখনো আমাদের মত মানুষকে আল্লাহপাকের রাসূল মানবো না। রাসূল যিনি উনার মাঝে অবশ্যই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকবে যা কোন মানুষের মধ্যে থাকবে না।এটিই চিরন্তন সত্য যে, উনারা আলাদা আমাদের মত নন। পূর্ববর্তী যারা ঈমান এনেছেন উনারা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইলমে গইব মুবারক, বিভিন্ন মুজিজা শরীফ দেখে অভিভুত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে যারা নামকাওয়াস্তে মুসলমান কেবল তারাই হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজের মত বলে ইসলামের মূল সৌন্দর্য থেকে দূরে রাখছে|আল্লাহপাক আমাদের সকলকে হযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করার তৌফিক দান করুণ।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে