ইসলামিক ফাউন্ডেশনের করোনা সংক্রান্ত কুফরী ও শিরকীমূলক প্রদত্ত ফতওয়ার খন্ডনমূলক জাওয়াব


তারা যদি তাদের ফতওয়ার ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাকে তাহলে তারা যেন লিখিত দলীল পেশ করে।

✒সংক্রামক বা ছোঁয়াচে ও জামায়াত-জুমুয়া সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফতওয়া ✒

সুওয়াল: কিছুদিন পূর্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশন “করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট আলেমগণের আহ্বান এই শিরোনামে দলীলবিহীন ও মনগড়া ভাবে ১৮ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত বাংলায় লিখিত সাড়ে নয় লাইনের একটি ফতওয়া দিয়ে “করোনা ভাইরাস” সংক্রামক অর্থাৎ ছোঁয়াচে রোগ প্রমান করার অপচেষ্টা করেছে। তাদের উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে যে সকল বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তাহলো-

(১) করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে।
(২) নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ভয়ানক
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
(৩) করোনা ভাইরাস” হচ্ছে সংক্রামক অর্থাৎ ছোঁয়াচে রোগ।
(৪) মানুষের ব্যাপক মৃত্যুঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জরুরী পদক্ষেপ হিসেবে সর্বপ্রকার জমায়েত বন্ধের পাশাপাশি
মসজিদসমূহে জুমুয়া’ ও জামায়াতে সম্মানিত মুছল্লিগণের উপস্থিতি সীমিত পরিসরে রাখার জন্য দেশের বিজ্ঞ আলিমগণ
সুপারিশ করেছেন।
(৫) যেভাবে সৌদি আরবের মক্কা মদীনায় নামাজ চলছে তারা সেভাবে জামায়াতে নামাজ আদায় করবে।
(৬) যেহেতু আমাদের সুস্থতা-অসুস্থতা বুঝার কোনও উপায় নেই, অতএব আমরা বাসা-বাড়িতে নামাজ পড়বো।
(৭) মসজিদের একেবারেই প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নিশ্চিত যে তিনি সুস্থ তারা আসবেন। ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাঁড়াবেন।
(৮) বিশেষ করে বৃদ্ধ, যাদের হাঁচি, কাশি, জ্বর আছে তারা কোনোভাবেই মসজিদে আসবেন না।
(৯) সরকার ও বিশেষজ্ঞগণ সতর্কতার জন্য যেসব নির্দেশনা প্রদান করেছেন তা মেনে চলতে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
সকল নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

জাওয়াব: “করোনা ভাইরাস” মহামারী আকার ধারণ করেছে শিরোনামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দলীলবিহীন ও মনগড়া ভাবে ১৮ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত বাংলায় লিখিত সাড়ে নয় লাইনের যে ফতওয়াটি দিয়েছে, তাদের উক্ত বক্তব্যসমূহ সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সঠিক তো হয়ইনি। বরং সম্পূর্ণরূপে ডাহামিথ্যা, মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন দলীলবিহীন, বিভ্রান্তিকর, কল্পনাপ্রসূত এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খিলাফ তথা বিরোধীতা ও অস্বীকার করার কারণে কাট্টা কুফরী ও শিরকীমূলক হয়েছে।
✑ কেননা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে করোনা ভাইরাসকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বিশ্বাস করা কাট্টা কুফরী ও শিরকীর অন্তর্ভুক্ত।

মুসলমান পরিচয় দিয়ে যারা কুফরী ও শিরকী করে তারা মুরতাদ হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ! আর সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মুরতাদের হুকুম বা ফায়সালা হলো,
1⃣ মুরতাদের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে,
2⃣ যদি হজ্জ করে থাকে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে,
3⃣ যদি বিয়ে করে থাকে তাহলে তার স্ত্রী তালাক্ব হবে এবং এক্ষেত্রে পুনরায় তওবা না করে, বিয়ে না দোহরানো পর্যন্ত তার স্ত্রীর সাথে বসবাস করা বৈধ হবেনা। আর এ অবৈধ অবস্থায় সন্তান হলে সে সন্তানও অবৈধ হবে তথা সন্তানের বৈধতা থাকবে না।
4⃣ তার ওয়ারিশসত্ব বাতিল হবে।
☛তাকে তিন দিন সময় দেয়া হবে তওবা করার জন্য। যদি তওবা করে, তবে ক্ষমা করা হবে, অন্যথায় তার একমাত্র শরয়ী শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত নিচের লিংকে পিডিএফ দেওয়া আছে।
http://www.al-ihsan.net/Fotwa-against-IFA-Notice-about-Coro…

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে