ইসলামী আক্বীদা এবং একজন জাকির নায়েক: কেবল লেকচার দেয়া এবং লোক জমানোর নকল সোনার ফাঁদ!


হাদীস শরীফ উনার মধ্যে যে বর্ণিত রয়েছে বাতিল তিয়াত্তর ফিরকার কথা, সেটা আমরা সবাই জানি। এই তিয়াত্তর ফিরকার মধ্যে কিন্তু পারস্পরিক পার্থক্য বাহ্যিকভাবে খুব একটি নেই। যদি ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের কথা বিবেচনা করা হয় তাহলে তাদের বলতে হয়, তাদের ধর্মীয় আচারপ্রথাগুলো আলাদা, এমনকি তাদের বাইবেল পর্যন্ত আলাদা! হিন্দুদের শাক্ত এবং বৈষ্ণব দুটো পারস্পরিক বিপরীতমুখী দুটো শ্রেণী,যদিও দুটোই হিন্দুধর্মের অন্তর্ভূক্ত।

 

কিন্তু ইসলাম অত্যন্ত সূক্ষ্ম। বাতিল এবং হক্বের পার্থক্যও এখানে মোটাদাগে আলাদা করা সম্ভব নয়। কাদিয়ানীদের সাথে হক্বপন্থীদের পার্থক্য একটিই, তা হলো আখিরী নবী হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত তাদের আক্বীদা। আক্বীদার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পার্থক্যই এখানে বাতিল এবং হক্বের পার্থক্য নির্ধারক। অন্য ধর্মগুলোর মত এখানে ধর্মগ্রন্থ পর্যন্ত আলাদা করার দরকার নেই।

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যখন তুরস্কের খিলাফত ভেঙে গেল, ফলশ্রুতিতে মুসলমানরা মানসিকভাবে যে অসহায়ত্ব বরণ করলো তার সুযোগে ব্রিটিশরা তাদের বেশকিছু দালালদেরকে মুসলমানদের নেতা হিসেবে কৌশলে নিয়োগ দিল। এর অন্যতম একটি কারণ, ডুবন্ত অসহায় ব্যক্তি ভাসমান যেকোন কিছুকে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা কাঠ হতে পারে, কাঠের ছদ্মবেশে কুমীরও হতে পারে! যেই কুমীর সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন ছিল জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী।

 

উত্তেজক বয়ান এবং উগ্রপন্থী প্রচারণার মাধ্যমে যে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছিল এবং তার উত্তরসূরী এদেশের গোআযম নিজামীরা যা এখনো করছে। কাদিয়ানী গণহত্যায় প্রত্যক্ষ নেতৃত্বের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত দিয়েছিল পাকিস্তান। এখন বিষয়টি হলো মওদুদী নিজেই বাতিল ফিরক্বার জনক।

 

কাদিয়ানীদের পাইকারীভাবে হত্যা করাটা ছিল ইহুদি নাসারাদের দ্বারা এক দালাল কর্তৃক অন্য দালালের যুদ্ধ বাঁধিয়ে একজন দালালকে মুসলমানদের চোখে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা। কারণ যেকোন একজনের মতবাদ গ্রহণ করলেও মুসলমান ইসলাম থেকে খারিজ হতে বাধ্য। অসহায় মুসলমানদের এরূপ অসহায়ত্বের সুযোগ তারা সবসময়ই নিয়েছে।

 

বর্তমানে জাকির নায়েককে দিয়েও যে একই এজেন্ডা বাস্তবায়ন চলছে তা কিন্তু আমরা অনেকেই বুঝছি না। কারণ জাকির নায়েক ইসলামের নামে কিন্তু বাতিল আক্বীদা এবং গোমরাহীরই প্রচার করে যাচ্ছে। ইয়াযীদকে প্রকাশ্য সমর্থন, এমনকি মওদুদীর নামের সাথে রহমাতুল্লাহি আলাইহি ব্যবহারের ধৃষ্টতাও জাকির নায়েক প্রদর্শন করেছে। কিন্তু তারপরও মুসলমানরা তাকে অনুসরণ করছে কেন?

 

এর উত্তর হলো তাদের অসহায়ত্ব। মওদুদী যখন কাদিয়ানীদের হত্যা করছিল, তখন সাধারণ মুসলমানদের অনেকেই হয়তো তাকে নায়ক ভেবেছিল। ঠিক তেমনিভাবে যখন জাকির নায়েক হিন্দুধর্ম নিয়ে কথা বলছে, কিংবা হিন্দুদের টিভি ক্যামেরার সামনে কলেমা পড়াচ্ছে তখন মুসলমানরা এই আপাত চাকচিক্য দেখেই জাকির নায়েককে আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছে, কিন্তু এটা তারা চিন্তা করছে না যে চকচক করলেই সোনা হয় না।

 

জাকির নায়েক যে ইন্ডিয়ার এজেন্ট তা স্পষ্ট। ইন্ডিয়া জাকির নায়েককে দিয়ে হিন্দুধর্ম সম্পর্কিত লেকচার দিয়ে একে তাদের দেশের অসাম্প্রদায়িকতার সার্টিফিকেটকে গুজরাট কাশ্মীরের ঘটনার পরও হালাল করছে, বিপরীতে তাদের ধর্মের সাথে ইসলামের তুলনা করে পক্ষান্তরে ইসলামকেই অবমাননা করছে। হিন্দুধর্ম কালীর ন্যায় নগ্ন হিংস্র বীভৎস দেবী এবং দূর্গার ন্যায় বেশ্যার দরজার মাটি দিয়ে তৈরী প্রতিমার পূজাসর্বস্ব জঘন্য একটি মতবাদ। কয়েকদিন পর বেশ্যার দরজার মাটি দিয়ে যে পূজা অনুষ্ঠিত হবে সেই পূজার কুশীলবদের সাথে মুসলমানদের সিমিলারিটি(!) দিয়ে যে লেকচার দেয়, সিমিলারিটি বিটউইন…….. নামে, এ কি কম ধৃষ্টতা!

 

ইসলাম আক্বীদা শরীয়তের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এবং এই ভিত্তিই আমাদের অবলম্বন। ইমিটেশনের ন্যায় নকল সোনা আমাদের কাম্য নয়। মুসলমানরা নকল সোনার ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ঈমান আমল আক্বীদা বিনষ্ট করা থেকে বিরত হোক এ কামনা নিয়ে পোস্ট শেষ করছি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. মুসলমানরা নকল সোনার ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ঈমান আমল আক্বীদা বিনষ্ট করা থেকে বিরত হোক

  2. Kafir naik er fitna, Aqidah- somporke bistarito jante chai, link dile upokrito hobo.

  3. Shaan_M says:

    kafir nayek er kufri somogro gulir link thakle diben pls

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে