ইসলামী মূল্যবোধ, আদর্শ ও ইতিহাস থেকে ভালো শাসক হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে


 

সারা পৃথিবীর ইতিহাসে ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে সুবিখ্যাতদের অন্যতম একজন হলেন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সে সময়কার অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাবে’য়ী আমরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত সাইয়্যিদুনা হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একটি পত্র লিখেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী কি কি তা জানতে চেয়ে। আমরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীগুলো তুলে ধরে সম্মানিত খলিফা উনার পত্রের জবাব দেন। সেই সুবিখ্যাত পত্রের জবাবের মধ্যে ন্যায় পরায়ণ শাসক উনার গুণাবলীর মধ্যে এটাও লিখেন- “হে আমীরুল মু’মিনীন! একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার বান্দাদের মধ্যে দন্ডায়মান। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কথা মুবারক শোনেন, বান্দাদেরকেও শোনান; মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেন, তাদেরকেও দেখান; মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করেন এবং তাদেরকেও আনুগত্য করতে বাধ্য করেন।” সুবহানাল্লাহ! বুঝা গেলো, এখানে একজন মুসলিম ঈমানদার ন্যায়পরায়ণ শাসকের গুণাবলী বলা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দেশের শাসকদের সর্বোচ্চ মহল নিজেদেরকে ঈমানদার মুসলমান বলেই দাবি করে থাকেন। ইসলামী বিভিন্ন দিবস আসলেই সুন্দর সুন্দর বাণী বয়ান দ্বারা নিজেদেরকে খুব খাঁটি মুসলমান শাসক হিসেবে জাহির করেন। এমনকি দফায় দফায় ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন এদেশে পাস হবে না’ বলেও ওয়াদা করেন। কারণ আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী মনে করেন, এদেশের অধিকাংশ জনগণই মুসলমান, এখানে রাষ্ট্রদ্বীন হলেন ইসলাম। অতএব, মুসলমান উনাদের স্বার্থের দিকে খেয়াল করেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা শাসকদের জন্য ফরয-ওয়াজিব ছিলো। মুসলমান জনগণ চায়- সিসিটিভি মুক্ত হয়ে নামায-কালাম, ইবাদত-বন্দেগী করতে। মুসলমান চায়- মুশরিকদের মূর্তি দর্শন থেকে বিরত থাকতে। মুসলমান চায়- ব্যাপক উদ্যেগে আনন্দে পবিত্র ঈদ পালন ও কুরবানী করতে। মুসলমান চায়- সর্বোচ্চ খুশি প্রকাশ করে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীব ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করতে। মুসলমান চায়- সুন্নতী ইসলামী পোশাক পরিধান করে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে। এখন রাষ্ট্র যদি, সরকার যদি, কিংবা মুসলমান নামধারী শাসক যদি মুসলিম জনগণের আশা আকাঙ্খাকে গুরুত্ব না দিয়ে, লক্ষ্য না রেখে বিদেশী বিজাতি বিধর্মীদের তোয়াজ করে মুসলিম জনগণের উপর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বিরোধী ও মুসলমানিত্ব বিরোধী নিয়মনীতি আইন-কানুন চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে, তাহলে তো সেই শাসক ও শাসনব্যবস্থাকে কোনোভাবেই ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য ভালো বলা যায় না। সুতরাং শাসকগোষ্ঠীর উচিত- এ বিষয়ে আমরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসন বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সেই ঐতিহাসিক পত্র মুবারক হতে শিক্ষা নসীহত গ্রহণ করা।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে