ইসলামের আলোকে রোগ ও প্রতিকার


সৃষ্ট জীব মাত্রই রোগাক্রান্ত হয়, অসুস্থ হয়। মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, তরুলতা যারই প্রাণ আছে, দেহ আছে, ক্ষয়-বৃদ্ধি আছে তারই শত্রু আছে। রোগ-ব্যাধিই হচ্ছে তার শত্রু। রোগ-ব্যাধি কত প্রকার তার সঠিক তথ্য শরীর বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি। তবে কারো কারো মতে দুলাখের ও বেশি রোগ-ব্যাধি রয়েছে। একেক সময় একেক রোগের উৎপত্তি হয় বলে রোগের সঠিক সংখ্যা শরীরবিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ পর্যন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। রোগের আক্রমণ থেকে কেউ রক্ষা পাননি। আল্লাহর নবী হযরত আইউব (আ.) জটিল রোগে আক্রান্ত অবস্থায় দীর্ঘ আঠার বছর কষ্ট ভোগ করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- ‘স্মরণ কর আইউবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল- আমি তো দুঃখ-কষ্টে পড়েছি। তুমি তো দয়ালুদিগের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু’ (সূরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৩)। রাসূলে পাক (সা.) দোয়া করতেন- ‘হে আল্লাহ! আমাকে অপ্রিয় ব্যবহার কার্য ও বাসনা এবং অনিষ্টকর পীড়া হতে আশ্রয় দাও’ (তিরমিজি)। আরো দোয়া করতেন ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে নিরোগ কর ও রিজিক দান কর’ (সগির)।
আমরা রোগাক্রান্ত হই। আমরা রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের দ্বারস্থ হই। চিকিৎসা করি। আল্লাহর রহমতে আমরা রোগমুক্ত হই। মূলত : আল্লাহপাক হচ্ছেন আমাদের রোগনিরাময়কারী। মহান আল্লাহপাক সকল রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন-
(১) ‘তিনি মুমিনদের অন্তরের রোগ নিরাময়কারী’ (সূরা তওবা : আয়াত ১৪)। (২) ‘ইহা তোমাদের অন্তরে যে রোগ আছে তার নিরামক’ (সূরা ইউনুস : আয়াত ৫৭)। (৩) ‘উহার উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয় : যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য’ (সূরা নাহল : আয়াত ৬৯)। (৪) ‘আমি অবতীর্ণ করি কোরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত’ (সূরা বনী ইসরাঈল : আয়াত ৮২)। (৫) ‘আমি যখন রোগে আক্রান্ত হই তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে রোগমুক্ত করেন’ (সূরা শুআরা : আয়াত ৮০)। (৬) ‘বলুন, মুমিনদের জন্য ইহা পথনির্দেশ ও রোগের প্রতিকার’ (সূরা হামীম আসসাজদা : আয়াত ৪৪)। রোগ নিরাময়কারী হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। ওষুধ সেবন করা বা চিকিৎসা করা হচ্ছে মাধ্যম। বুখারী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসূলেপাক (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মা আনজালাল্লাহু দা আনইল্লা আনজালা লাহু শিফাআন’ অর্থাৎ আল্লাহ এমন কোন রোগ প্রেরণ করেন না যার আরোগ্য নেই (মিশকাত শরীফ : পৃষ্ঠা ৩৮৭)। রোগ হলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে, চিকিৎসা করতে হবে। এটাই আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশ। প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ আছে। সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হলে রোগ নিরাময় করা যায়। আল্লাহপাক রোগ যেমন প্রেরণ করে থাকেন তেমনি এর প্রতিকারেরও ব্যবস্থা করে থাকেন। তবে রোগুমুক্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূলেপাক (সা.) ইরশাদ করেন। প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ আছে। সঠিকরূপে রোগের উপর ওষুধ পড়লে আল্লাহর হুকুমে আরোগ্য লাভ হয় (মুসলিম, মিশকাত শরীফ : পৃষ্ঠা ৩৮৭)।
রাসূলেপাক (সা.) হাদীসে রোগ নিরাময়ের বিভিন্ন থিওরি বর্ণনা করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূলেপাক (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কালজিরা ব্যবহার কর। কেননা এতে মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ওষুধ রয়েছে’ (বুখারী)। কালজিরা সকল রোগের অদ্বিতীয় ওষুধ। আধুনিক কবিরাজ, হেকিম ও কেমিস্টগণ এই কালজিরা হতে হাজার হাজার রোগের আরোগ্যকারী ট্যাবলেট ও টনিক তৈরি করছেন। হযরত সাইদ ইবনে জায়েদ (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূলেপাক (সা.) ইরশাদ করেন- ‘ছত্রাকে জমাট শিশির মান্নের অন্তর্ভুক্ত। তার রস চোখের জন্য মহৌষধ’ (বুখারী)। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যেসব নতুন নতুন ওষুধ তৈরি করছেন তা মূলত কোরআন-হাদীস গবেষণা করেই তৈরি করছেন। আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে নবী (সা.) এসব ওষুধ তৈরির থিওরি বর্ণনা করেছিলেন। হযরত উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেনÑ ‘তোমরা চন্দকাঠ ব্যবহার কর। কেননা ইহাতে সাত প্রকার রোগের ওষুধ রয়েছে’ (বুখারী)। জ্বরে যখন কেউ ছটফট করতে থাকে, মাথার যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে জ্ঞানহারা হয়, তখন চিকিৎসকগণ ওষুধ প্রয়োগ করার পূর্বে মাথায় পানি দিতে পরামর্শ দেন। হযরত আয়শা (রা.) ও হযরত রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) বর্ণিত হাদীসে নবী (সা.) ইরশাদ করেন- ‘জ্বরের উৎপত্তি হয় জাহান্নামের তাপ হতে সুতরাং তোমরা পানি দিয়ে তা ঠা-া কর’ (বুখারী ও মুসলিম)…..বিস্তারিত

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে