ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস পালন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম


তথাকথিত ভালোবাসা দিবস পালন মূলত অভালোবাসা তথা নোংরামীর বিস্তার ঘটায়। পাশ্চাত্যে ভালোবাসা দিবস প্রচলনের পেছনে ছিলো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ। পাশাপাশি এদেশে তা প্রবর্তনের পেছনে আছে পাশ্চাত্য গোলাম শফিক রেহমান ও ইহুদী খ্রিস্টানদের সুদূরপ্রসারী ইসলাম বিরোধী স্বার্থ।

পশ্চিমাদের খাছ গোলাম, মুনাফিক শফিক রেহমান পশ্চিমাদের কাছে আরো প্রিয় এবং এদেশের হুজুগে মাতা বাঙালিদের কাছে একটি তথাকথিত সংস্কৃতির প্রচলনের প্রবক্তা সাজার উদ্দেশ্যে ও তার কাঙ্খিত বাহবা কুড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে তার সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার মাধ্যমে তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের প্রবর্তন ঘটিয়েছে। তবে শুধু শফিক রেহমানই নয় এর পেছনে সুযোগ-সন্ধানী ইসলামবিদ্বেষী মহলের বিবিধ স্বার্থ কাজ করেছে, করছে।

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে জানা যায়,

“রোমান এক খ্রিস্টান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। চিকিৎসা বিদ্যায় সে ছিলো অভিজ্ঞ। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সে যখন বন্দি ছিলো তখন তরুণ-তরুণীরা তাকে ভালোবাসা জানিয়ে জেলখানায় জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিতো। বন্দি অবস্থাতেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়ার চিকিৎসা করে। মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে সে লিখে যে, “ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।” অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।(http://bit.ly/2EaDAVC)

বর্ণিত ইতিহাস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, তথাকথিত ভালোবাসা দিবস কখনোই এদেশীয় অর্থাৎ বাঙালি সংস্কৃতির অংশ ছিলো না। আর মুসলমানদের সংস্কৃতি তো নয়ই। বরং তা সম্পূর্ণরূপেই বিজাতীয়, বিধর্মীয় তথা পশ্চিমা ইহুদী-নাছারাদের প্রবর্তিত নিয়মনীতি, তর্জ-তরীক্বা যা অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য কাট্টা হারাম ও শক্ত কবীরা গুনাহ। এছাড়া তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের নামে মূলত চলে বেপর্দা-বেহায়াপনার নির্লজ্জ উৎসব। যাতে ইবলিস শয়তানের ওয়াসওয়াসা থাকে ও নফস বা প্রবৃত্তির উদ্দামতা যুক্ত হয়। যা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ মুতাবিক শক্ত কবীরাহ গুনাহ এবং পরকালে এসব কাজের জন্য কঠিন শাস্তি পেতে হবে তথা জাহান্নামে যেতে হবে।

যে সমস্ত মুসলমান তথাকথিত ভালোবাসা দিবস পালন করছে বা করবে। তারা মূলত বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই মিল মিশ রাখছে। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করছে।
কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন-
ان شر الدواب عند الله الذين كفروا.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই যারা কাফির, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নিকৃষ্ট প্রাণী।” (পবিত্র সূরা আনফাল / ৫৫)

কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের অনুসরন করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন-
ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو فى الاخرة من الخسرين.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম (বিধর্মী ও বিজাতীয়দের নিয়ম-নীতি ও তর্জ-তরীক্বা) তলব বা অনুসরণ ও অনুকরণ করে, তার থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে (অবশ্যই) ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/৮৫)

যে ব্যক্তি কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের অনুসরন করল, সে তাদের অন্তরভূক্ত হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন,
يايها الذين امنوا لا تتخذوا اليهود والنصرى اولياء بعضهم اولياء بعض ومن يتولـهم منكم فانه منهم ان الله لايهدى القوم الظالـمين.
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। (তারা কখনোই তোমাদের বন্ধু হবে না) তারা একে অপরের বন্ধু। কাজেই, তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা তাদেরই অন্তভূর্ক্ত হবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিমদেরকে হেদায়েত দান করেন না। (সূরা মায়িদা/৫১)

আর তথাকথিত ভালোবাসা দিবস পালনের দ্বারা কাফিরদেরই অনুসরণ-অনুকরণ করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,
عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس منا من تشبه بغيرنا لاتشبهوا اليهود ولا بالنصارى.
অর্থঃ- “হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ব্যতীত অন্য সম্প্রদায়ের সাথে (আক্বীদা-আমলে) তাশাব্বুহ্ বা মিল রাখে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। অতএব, তোমরা ইহুদী ও নাছারাদের সাথে সাদৃশ্য রেখনা।” (তিরমিযী, মিশকাত)

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক-এর হাবীব, রসূলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,
عن عبد الله بن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تشبه بقوم فهو منهم.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ)

উপরোক্ত কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমানিত হলো যে যারা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করবে তারা কুফরী করবে, আর তাদের হাশর-নশর ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের সাথেই হবে। কারণ, ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস পালন করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয, হারাম ও কুফরী।

তারপরও যারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব রসূলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ অমান্য করে কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের অনুসরন করবে। তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন, ,
ومن يعص الله ورسوله ويتعد حدوده يدخله نارا خالدا فيها وله عذاب مهين.
অর্থঃ- “যে কোন ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাফরমানি এবং উনার সীমা অতিক্রম করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য সেখানে রয়েছে লাঞ্চনা দায়ক শাস্তি।” (সূরা নিসা/১৪)

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের অনুষ্ঠান তথাকথিত ভালোবাসা দিবস সহ সমস্ত বিজাতীয় দিবস পালন থেকে বেচে থাকার এবং অন্যদের ফিরিয়ে রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে