ইসলামের নামে হরতাল করা হারাম!


ইসলামের নামে হরতাল করে, কোটি কোটি লোকের জীবিকা, জীবন, সম্মান, সময়ের অবর্ণনীয় ক্ষতি করে যেভাবে হক্কুল ইবাদ নষ্ট করছে; এক দিনের হরতালে দেশের দুই হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করছে; ইসলামের নামধারী ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতিকরা তার কী জবাব দিবে? তাদের পরিণতিই বা কী হবে?

ফোরাতের তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে থাকে তবে আমি উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমাকে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অর্ধ জাহানের খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এই অভিব্যক্তির মূলে রয়েছে- রহমাতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার হাদীছ শরীফ। তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই রক্ষক, তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-উনাদের তো বটেই, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম-উনাদের জীবনেও এই হাদীছ শরীফ-এর উপর সতর্ক আমলের অনেক অনেক কাহিনী রয়েছে। তাযকিরাতুল আউলিয়ায় বর্ণিত রয়েছে, একবার ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত্ব তরীকত হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্দমাক্ত রাস্তার উপর সাবধানে পা ফেলে হাঁটছিলেন। বিপরীত দিক থেকে এক ছেলে এলোমেলো ভাবে আসছিল। এটা দেখে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হে ছেলে সাবধানে পথ চলো। অসতর্কতা করলে পা পিছলে যাবে।” জবাবে ছেলে অতি বিনয়ের সাথে বলল, “হুযূর আপনিও সাবধানে চলুন। কারণ আমার পা পিছলে গেলে শুধু আমিই বিচ্যুত হবো। পক্ষান্তরে আপনার পা পিছলে গেলে গোটা মুসলিম উম্মাহই পথচ্যুত হয়ে যাবে।” ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বুঝলেন যে, এটা আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে উনার প্রতি এক সাবধান বাণী।

উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর থেকে তিনি ফতওয়া প্রদানের ব্যাপারে আরো সতর্ক ও সাবধান হয়ে গেলেন।

পাঠক এ আলোচনায় দুটো জিনিস প্রতিভাত হয়। এক- কারো ফতওয়া দ্বারা যদি গোটা উম্মাহ বিপথগামী হয়, কষ্টে পতিত হয়; দুই- মানুষের জীবন জীবিকা সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বহীনতা ব্যর্থতা ও ভ্রান্তির জন্য যদি তারা কষ্টে পতিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট মহলকেই সবকিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হক্কুল ইবাদের মধ্যে গণ্য।

পাঠক! আর সে ক্ষেত্রে যেসব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা হরতালের নামে, মানুষের জীবন, জীবিকা, পদচারণা, ইজ্জত ইত্যাদি নির্মমভাবে লুণ্ঠন করছে, বিপর্যস্থ করছে, ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং হরতালের নামে তাদের মিত্ররা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ যা করছে, বোবা শয়তানের মত তাই সমর্থন করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনই আওয়াজ করছেনা, একাজে তাদের অসমর্থন জ্ঞান করছেনা, প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা অর্থাৎ হরতালের ন্যায় মহা জুলুমবাজি কাজকে ইসলামের নামে জায়িয করছে, সত্যিকার অর্থে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের কী ফায়সালা? সেটা ইসলামের আলোকে, হক্কুল ইবাদের প্রেক্ষিতে এক জ্বলন্ত প্রশ্ন।

‘হরতাল’ শব্দটি গুজরাটি। গান্ধী এই গুজরাটি ভাষার লোক ছিল। হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, মারামারি, কাটাকাটি অর্থাৎ ফাসাদ। ‘লংমার্চ’ যেমন চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাওসেতুং-এর একক কীর্তি, হরতালও তেমনি গান্ধীর একক আবিস্কার।

এখানে উল্লেখ্য যে, গান্ধীর হরতালকে সমর্থন করার জন্য সে যুগেও ধর্মব্যবসায়ী তথাকথিত মুসলিম নেতার অভাব ছিল না। বরং আজকের শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী তথা চরমোনাই গংকে তাদের পূর্বপূরুষরা সে যুগেই এই পথ দেখিয়েছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলমানদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা শরীয়তসম্মত নয়। কিন্তু আজকের খারিজীদের পূর্বপুরুষের বদৌলতে সে যুগেও হরতালের সমর্থনে গান্ধীর সহযোগী শ্রদ্ধানন্দজীকে দিয়ে জুম্মা মসজিদে বক্তৃতা করানো হয়েছিল। কাজেই আজকের শাইখুল হদস আর মাহিউদ্দীন গংরা যে মেয়েলোকের আচলে জোট বাঁধবে, তাদের লেজুরবৃত্তি করবে এবং তাদের সাথে গান্ধীর দেয়া কর্মসূচি হরতাল পালন করবে তা তাদের পক্ষে বিচিত্র কিছু নয়।

পাঠক! ইসলামের আলোকে বলতে হয়, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা পর্যন্ত এদেশে সংঘটিত হয়েছে। এ সকল হরতালে জান-মাল, মান-সম্মানের ক্ষতির দায়দায়িত্ব তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকদের উপরই বর্তায়। কারণ তারাই ইসলামের নামে এটি জায়িয করেছে। আর তাদের রাজনৈতিক সহকর্মীরা এসব জুলুম-নিপীড়ন মহাসমারোহে করলেও তারা তার বিরুদ্ধে এযাবৎ কোন বিবৃতি দেয়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি অথবা পিকেটিং-এর বিরুদ্ধে বলেনি হরতালে জুলুম ও ক্ষতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আদৌ কিছু বলে নাই। আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যমীনে যখন কোন গুনাহ অনুষ্ঠিত হয় যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত থেকে এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে সে ব্যক্তি যেন উক্ত কাজের সাথে জড়িত ছিল না। আর যে ব্যক্তি উক্ত ঘটনায় অনুপস্থিত থেকে উক্ত কাজকে সমর্থন করে তাহলে সে ব্যক্তি যেন সে কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।” অর্থাৎ সেও তার জন্য দায়বদ্ধ হবে।

 

নিম্নে এক হিসাব মতে এযাবৎ কালের প্রাপ্ত তথ্য মতে হরতালের একটি বিবরণ দেয়া হলো-

সময়কাল নিহত (জন) আহত (জন) গ্রেপ্তার (জন)
১৯৭২-১৯৭৫ ৩১২ ৯০৭
১৯৭৫-১৯৮২ ৫১৮ ৩১১
১৯৮২-১৯৯০ ১০৯ ২৫৬২ ৩৫৮৬
১৯৯০-১৯৯৬ ৬৩ ৫৬৫৮ ৮০৬
১৯৯৬-২০০১ ৪৫ ৩৭২৭ ৩৫৩০
 

বিভিন্ন শাসন কালে হরতালের বিবরণ:

শাসনকাল হরতাল
১৯৭২-১৯৭৫ সালে (১৪ই আগস্ট) ২২ দিন
১৯৭৫-১৯৮২ সালে (১৫ আগস্ট-২৩ মার্চ) ৫৯ দিন
১৯৮২-১৯৯০ (৪ঠা মার্চ-৬ ডিসেম্বর) ৩২৮ দিন
১৯৯০-১৯৯৬ (৭ই ডিসেম্বর-৩০ ডিসেম্বর) ৪১৬ দিন
১৯৯৬-১৯৯৯ (৩১ মার্চ-৩১ ডিসেম্বর) ২৪৪ দিন
১৯৯৯-২০০১ সালে (৩১ ডিসেম্বর-২৫ এপ্রিল) অনুর্ধ্ব ৪০ দিন

 

বাংলাদেশের প্রেস ইনস্টিটিউটের অপর এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৪৭-২০০০ পর্যন্ত ৫২ বছরে ১২১৪টি হরতালের ৮৪টি হরতাল বাদে ১১৩০টি হরতাল হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। অর্থাৎ স্বাধীনতার ৩০ বছরে ৩ বছরের বেশি কেটেছে হরতালে। বিগত এক শাসক আমলে একদিন হরতালের ক্ষতি ধরা হত ১৫০ কোটি টাকা, এরপরের শাসন আমলে ক্ষতি ধরা হত ২৫০ কোটি টাকা এবং এরপরে প্রতিদিনের হরতালে ক্ষতি ৩৮৬ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে এ ক্ষতি বেড়ে দৈনিক ২০০০ কোটিতে পৌঁছেছে। এ হিসেবে বিগত হরতালগুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে তা দিয়ে অন্তত ৭টি উন্নয়ন বাজেট করা যেত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে একথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, দেশের তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকদের কারণে হরতাল বর্তমানে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। কারণ, এতদিন যাবৎ মানুষ জানত যে হরতাল নিছক একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। হরতাল বলতে তারা দাড়ি চাঁছা, দুনিয়াদার, রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পেশী শক্তির মহড়াকেই মনে করত। কিন্তু অধুনা তথাকথিত ইসলামী রাজনীতিকরা হরতালের মত নিপীড়নমূলক কাজকে ইসলামের লেবেল এঁটে এটাকে ইসলামী করতে চাচ্ছে।

অথচ বলতে হয়, গত ৩০ বছরে হরতালের কারণে বর্তমানে দৈনন্দিন ২০০০ কোটি টাকা হিসেবে মোট ক্ষতি ২১৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে দৈনিক ৩০-৩৫ টাকার নিচে যাদের সংসার চলে (অধিকাংশ সময় এ প্রাপ্তিও তাদের জোটে না) এরূপ কত কোটি লোকের উপকার করা যেত? মিল কারখানা তৈরি করে, বাসস্থান করে তাদের দুনিয়াবী ও দ্বীনি কত কল্যাণ সাধন করা যেত? কতগুলো মসজিদ, মাদরাসা ইত্যাদি করা যেত?

শুধু তাই নয় আজকে যে শিশুটি বাংলাদেশে জন্মাচ্ছে তার কাঁধেও চেপে বসছে প্রায় ১০ হাজার টাকার বৈদেশিক ঋণ। তারপরেও হরতালের নামে মুসলমান দেশকে এভাবে গরীব ও ঋণগ্রস্ত করে ক্রমশ ইহুদী-নাসারার দেশের কাছে মুখাপেক্ষী করে দেয়া দেশ থেকে প্রকারান্তরে ইসলাম আর মুসলমানগণের বিরুদ্ধে কাজ করা নয় কি? আর যারা এরূপ করে তাদের মুখে ইসলামের কথা, ইসলামী আন্দোলনের কথা শোভা পায় কি? মূলত মুখে ইসলামের কথা বললেও তারা ইসলাম বিরোধী ইহুদী-নাসারাদের চর মাত্র। কাজেই দুনিয়াতে তো বটেই পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে অশেষ লাঞ্ছনা।

হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “কেউ যদি তার কোন ভাইয়ের প্রতি অত্যাচার করে থাকে অথবা তার সম্মান নষ্ট করে থাকে তবে অতি শিগগিরই যেন তাকে তার বদলা দিয়ে দেয়, তাকে সন্তুষ্ট করে দেয় কিয়ামত আসার পূর্বেই। অন্যথায় যদি জালিমের নেক আমল থাকে তবে জুলুমের অনুপাতে তা জুলুমকৃত ব্যক্তিকে দেয়া হবে এবং যদি নেক আমল না থাকে তবে এ (দাবিদারের) গুনাহ জুলুমকারীর উপর অর্পণ করা হবে।”

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, “তোমরা কি জান, গরীব কে? সকলেই বললেন যে, আমাদের মধ্যে গরীব ওই ব্যক্তি যার কোন টাকা-পয়সা নেই এবং আসবাব পত্রও নেই। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে গরীব ওই ব্যক্তি যে রোজ কিয়ামতে বহু নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদি নিয়ে হাযির হবে। কিন্তু হয়তো কাউকেও গাল দিয়েছে, কাউকেও মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এবং কারো মাল অপহরণ করেছে, কাউকেও বা হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে; তখন তার নেকিসমূহ হতে প্রত্যেক (দাবিদার)কে দেয়া হতে থাকবে। অতঃপর যদি দাবিদারগণের প্রাপ্য অবশিষ্ট থাকতেই তার নেকিসমূহ নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে তাদের পাপ তার উপর চাপানো হবে। অবশেষে তাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হবে।” (মাকতুবাত শরীফ)

মূলত হরতালকারীদের পিকেটারদের অবস্থাও যে এরূপই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, গো আযম, চরমোনাই গংয়ের মত যেসব ওলামায়ে ছু’রা হরতালের মত মহা জুলুমবাজী কাজকে ইসলামী বলে প্রচার করতে চায়! তাদের পরিণতি কী হতে পারে সে প্রসঙ্গে হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহইয়াউল উলুম কিতাবে লিখেছেন, “একজন লোক একটি গুইসাপ হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট এনে বলল, হুযূর! এই গুইসাপটি একজন আলিম ছিল, খোদা তায়ালার রোষে পড়ে গুইসাপ হয়ে গিয়েছে।

আপনি দোয়া করুন যেন এই আলিম পূর্বরূপ প্রাপ্ত হয়, তাহার গুনাহ মার্জনা হয় এবং দোযখের শাস্তি হতে নিষ্কৃতি লাভ করে।

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দোয়া করতে লাগলেন, এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিয়ে নাজিল হয়ে বললেন, “হে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম! এই লোকটি একজন তাওরাত তত্ত্ববিদ আলিম ছিল। পার্থিব স্বার্থে বশীভূত হয়ে উক্ত কিতাবের অর্থ পরিবর্তন করে ৭০ হাজার লোককে ভ্রান্ত করে ফেলেছে, এজন্য তাকে গুইসাপে পরিণত করা হয়েছে। এখন আপনার দোয়াতে সে ব্যক্তি মানবরূপ পেতে পারে কিন্তু গুনাহ মাফ হতে পারে না এবং দোযখ হতে নিষ্কৃতি পেতে পারে না।”

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “হে ভাই জিব্রাইল, কেন তার গুনাহ মাফ হবে না? সে ব্যক্তি তওবা করবে।” হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বললেন, “যে ব্যক্তি মনগড়া গোমরাহী ফতওয়া দিয়ে ৭০ হাজার লোককে বিভ্রান্ত করেছে, একা এই ব্যক্তি তৎসমুদয় লোকের গুনাহ মস্তকে ধারণ করে দোযখে তাদের যাবতীয় শাস্তির পরিমাণ শাস্তি গ্রহণ করবে। অবশ্য যদি এই ব্যক্তি সেই ৭০ হাজার লোককে সদুপদেশ প্রদান করত সৎপথে আনতে পারে, তবে গুনাহ মাফ পেতে পারে এবং দোযখের শাস্তি হতে মুক্তি লাভ করতে পারবে।”

পাঠক! প্রসঙ্গত আজকের শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, গো আযম, চরমোনাই গংয়ের তথা ইসলামের নামধারী রাজনৈতিক দল যেভাবে ইহুদী-নাছারার নির্বাচন ভিত্তিক গণতন্ত্র, খৃস্টান প্রোটেস্ট্যান্টদের মৌলবাদ আর গান্ধীর হরতালকে ইসলামী বলে প্রচার করে হাজারের পরিবর্তে কোটি কোটি লোককে গোমরাহ করছে তাদের জীবন, জীবিকা, পদচারণা, ইজ্জত নষ্ট করছে এবং এরূপ জুলুমবাজী কাজকে ইসলামের দৃষ্টিতে জায়িয বলে মানুষকে গোমরাহ করছে। তাতে তাদের পুনরায় হক্ব পথে ফিরিয়ে আনা শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন গংয়ের পক্ষে সম্ভব হবে কি? না হলে তাদেরকেও যে পথচ্যুত তাওরাত তত্ত্ববিদ অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ পরিণতি লাভ করতে হবে তা সহজেই অনুমেয়। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+