ইসলাম আর আধুনিকতা আকাশ পাতাল ব্যবধান! অথচ প্রকৃত আধুনিকতা আর সভ্যতা ইসলাম থেকেই


যিনি খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এই মানব জাতি কিভাবে চলাচল করবে, কোন ধর্ম পালন করেবে, কাকে অনুসরণ করবে, কার কাছ থেকে মানবতা শিখবে, সভ্যতা শিখবে, দ্বীন শিখবে তথা প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য মানুষের মতো বসবাস করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছু মহান আল্লাহ পাক তিনি দিয়ে দিয়েছেন। যুগে যুগে মানব সম্প্রদায়ের আদর্শ রূপে, অনুসরনীয় হিসেবে নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন। উনাদের উপর ওহী (কালামুল্লাহ শরীফ) নাযিল করেছেন যেন মানব সম্প্রদায় যুগে যুগে দলিল হিসেবে তা অনুসরন করতে পারে, যেন মানব সম্প্রদায় নবী রসূলগণ উনাদের আদেশ নিষেধ দিক নির্দেশনা ভূলে না যায়। যারা সেই ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত নির্দেশ মুবারক পালন করেছে তারাই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করেছেন। আর যারা অমান্য করেছে, যারা নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা করেছে তারা দুনিয়াতে অপদস্ত, লাঞ্চিত হয়েছে, নানান আযাব গযবে নিপতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে, পরকালেও তাদের জন্য জাহান্নাম রয়ে গেছে।

তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে এখন, মহান আল্লাহ পাক তিনিতো ক্বেয়ামত পর্যন্ত মানব সম্প্রদায় কোন পথে চলবে, কোন ধর্ম পালন করবে, কাকে অনুসরণ করবে, কাকে অনুসরণ করবেনা, কোন শিক্ষা অর্জন করবে আর কোন শিক্ষা বর্জন করবে, কার সাথে বন্ধুত্ব করবে আর কার সাথে শত্রুতা পোষন করবে ইত্যাদি সমস্ত প্রকার দিক নির্দেশনা দিয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছেন। যা ক্বেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি বিভ্রান্ত মানব জাতির মুক্তির জন্য, সঠিক পথের দিশা দেয়ার জন্য, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে স্বয়ং যিনি হাবীবুল্লাহ, যাঁকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ পাক কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না সেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জমিনের বুকে বাশার মেছালে অর্থাৎ মানুষের মতো ছূরতে প্রেরণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার পবিত্র ৬৩ বছর দুনিয়াবী জীন্দেগী মুবারকে মানব জাতির দুনিয়াতে শান্তি ও পরকালের নাযাতের জন্য সকল প্রকার দিক নির্দেশনা মুবারক দিয়েছেন, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পরিপূর্ণ-পূর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মানব সম্প্রদায় বিশেষ করে মুসলমান জাতি কেন সেই সুপ্রতিষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়ে কাফির মুশরিকদের অনুসরণ করছে? আবার দুনিয়াতে শান্তির জন্য আশা করে! কিসের ভিত্তিতে এসব মুসলমান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করে? একদিক থেকে নামধারী মুসলমান তাদের দ্বীন ধর্মের কোন তোয়াক্কা করছেনা, অপরদিকে, ইসলামে যে সকল নিষিদ্ধ বা হারাম আছে তার সবই তারা করছে। নাউযুবিল্লাহ! তারপরেও তারা রহমত (শান্তি) আশা করে। ব্যপারটা এমন যে, কোন জঙ্গলের পশুর পিঠে চরে মানব সভ্যতার তথা লোকালয়ে যাবার চেষ্টা করা। বনের পশুতো তাকে বনেই নিয়ে যাবে। লোকালয়ে যেতে হলে তাকে কোন মানুষের পথ অনুসরণ করতে হবে। এখন মুসলমান তাই করছে। ভূল পথে পা বাড়িয়ে শান্তি কামনা করছে। আধুনিকতার নামে যে বগ্লাহারা লাইফ স্টাইল মুসলমানরা অনুসরণ করছে তার পরিণাম চোখের সামনেই অহরহ ঘটে যাচ্ছে।

কিন্তু আফসোস! মুসলমান সেই করুন পরিণাম থেকে নছিহত ইবরত হাসিল করেনা। সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে জাজ্বল্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়, রাজধানীতে ঐশী নামে ১৭ বছরের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ইয়াবা আসক্ত মেয়ে বেহায়াপনা-বেলাল্লাপনায়, রাত করে মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য বাবা মা বকুনি দেয়ায় সেই বাবা মাকেই বন্ধুদের দিয়ে হত্যা করাল। ঘটনাতে কোন গোপন রহস্য নেই। দিনের আলোর মতো এটা পরিস্কার যে, ঐ মেয়েকে তার বাবা মা কখনোই দ্বীন শিক্ষা দেয়নি। পশ্চিমা শিক্ষা অর্জনের জন্য পশ্চিমা(বেদ্বীনী) পরিবেশে বহু টাকা ব্যায় করে ভর্তি করিয়েছে দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করার জন্য। কিন্তু পাশপাশি দ্বীন শিক্ষার জন্য কোন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে বা দ্বীনি পরিবেশে পাঠায়নি। যার দরুন মেয়েটি যা দেখেছে, যা শিখেছে আর সে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা ঐ শিক্ষারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সূতরাং আধুনিকতা বলতে যদি পশ্চিমা ধাচে চলা হয়, ইসলাম বিমুখতা হয় তাহলে সে আধুনিকতায় ধ্বংস অনিবার্য।

পক্ষান্তরে, পবিত্র ইসলাম সর্বকালের জন্য, সর্বযুগের জন্য এমনকি ক্বেয়ামত পর্যন্ত আধুনিক। কেউ যদি পরিপূর্ণ ইসলাম উনার সৌন্দর্য্য অবলোকন করে তাহলে মুসলমানতো অবশ্যই বরং অনেক কাফির মুশরিকও মুগ্ধ হবে এবং ইসলাম গ্রহণ করবে। এ যাবৎ যত অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তারা পবিত্র ইসলাম উনার সৌন্দর্য, মহাত্ব, আধুনিকতা, সভ্যতা, ভদ্রতা দেখেই মুগ্ধ হয়ে পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুবহানাল্লাহ! ইতিহাস খুঁজলে পাওয়া যাবে, মুসলমানগণ যখন আরবে, স্পেনে(একসময়কার মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চাকেন্দ্র), বাগদাদে জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে, বিভিন্ন কিছু আবিস্কার নিয়ে ব্যস্ত তখন ইউরোপীয়ানরা ছিল ক্যানিবল অর্থাৎ মানুষ খেকো। আর জ্ঞান বিজ্ঞান বিষয়ে অনেক মুসলমান হীন্যমনতায় ভূগে। তারা মনে করে বিজ্ঞানে মুসলমানদের কোন অবদান নেই, ইসলাম হচ্ছে শুধু নামায, রোযা, হ্জ্জ, যাকাতের ধর্ম। ইসলাম ও ‍মুসলমানদের ইতিহাস সম্পর্কে কম জ্ঞান কারণেই এসব ধারণা তারা পোষণ করে। প্রকৃতপক্ষে, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের পেছনে মূলত মুসলমানদের অবদান। জমিন থেকে শুরু করে, গণিত বিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পদার্থ , রসায়ন, যন্ত্র বিজ্ঞান, এমনকি মহাকাশ বিজ্ঞানও আজ যেপর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে তা মুসলমান বিজ্ঞানীদের আবিস্কৃত ফর্মুলার উপর ভিত্তি করেই এতদূর এসেছে। বরং নি:সন্দেহে এটা বলা যায় যে, মুসলমানগণ যদি হক্ব পথে অটুট থাকতো অর্থাৎ ইসলামের সেই সোনালী যুগ যদি বলবৎ থাকতো তাহলে আজ থেকে ১০ হাজার বছর পর পৃথিবী যতটুকু আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হতো (তা যদিও কল্পনা করা যায়না) আজ সেই পৃথিবীতে সেই অবস্থাটাই বিরাজ করতো। কারণ জ্ঞান বিজ্ঞান আর উদ্ভাবনে অমুসলিমরা কখনোই মুসলমানদের সাথে সমকক্ষ হতে পারেনি, পারছেওনা আর ভবিষ্যতেও পারবেনা।

যেমন একটা উদাহরণ দেয়া যায়- মুসলিম গণিতবিদ গিয়াস উদ্দীন আল কাশি আজ থেকে ১২শ বছর আগে ‘পাই’-এর মান ১৬ বের করেছিলেন অথচ উনার প্রায় ২৫০ বছর পরেও মুসলমানদের থিওরী চোর খ্যাত নিউটন অনেক গবেষণা করেও ১৬ ডিজিট পর্ন্ত বের করতে পারেনি, সে ১৫ ডিজিট পর্ন্ত বের করতে পেরেছিল। এছাড়াও আধুনিক বীজগণিত এর জনক হচ্ছেন মুসলিম গণিতবিদ আবু জাফর মুহম্মদ ইবনে মুসা আল খারিজমী। উনার রচিত ‘কিতাব আল জাবির ওয়াল মুকাবিল’ নামের অংশ আল জাবির থেকেই এ্যালজেব্রা শব্দটি এসেছে। এছাড়াও দ্বিঘাত সমীকরন, দ্বীপদী উপপাদ্য, ক্যালকুলাস, ত্রিকোনমীতির ‘টেন, সাইন, কস’ এর সূত্রগুলো মুসলমান গণিতবিদদের আবিষ্কার। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইবনে সীনার রিচত কিতাব ‘ক্যানন’ এখনও অমুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ধর্মগ্রন্থের মতো মানে। এরকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আজ থেকে ১২শ বছর আগে মুসলমান বিজ্ঞানীগণ যা আবিস্কার করেছেন তা এখনকার অমুসলিম বিজ্ঞানীরা তা চিন্তাও করতে পারেনা। সূতরাং আধুনিকতা, প্রযুক্তি এগুলো ইসলাম থেকেই এসেছে। কাফির মুশরিকরা এখন বছরে একবার হাত ধোয় দিবস পালন করে অথচ মুসলমানগণ চৌদ্দশত বছর আগে থেকেই এসব সভ্যতা মানুষকে শিক্ষা দিয়ে আসছে। অতএব, আধুনিকতার জন্য কাফিরদের অনুসরণের প্রয়োজন নেই, পরিপূর্ণভাবে ইসলাম চর্চা করলেই সর্বাধুনিক হওয়া যাবে।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. আসলে ঐশীর বাবা মা’র করুণ পরিণতির জন্য তারাই দায়ি। আপনার বিশ্লেষণমূলক লেখাতেও তাই প্রমাণিত হয়। মানুষ আধুনিকতার পেছনে ছুটতে গিয়ে আদতে কাফিরদেরই গোলামী করে। কিন্তু ইসলাম সর্বাধুনিক। যারা ভূল পথে দৌড়ায় তারা ইসলাম সম্পর্কে জানেনা।
    চমৎকার একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে