ইহুদী খ্রিষ্টান ও তাদের তৈরী এজেন্ট ওহাবীরা ইচ্ছামত কিতাব থেকে সংযোজন, বিয়োজন, ইবারত কারচুপি করে সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্ত করছে


পূর্ববর্তী ইহুদী-নাসারাদের নবী-রসূল যেমন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উপর তাওরাত শরীফ, হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার উপর যাবুর শরীফ, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার উপর ইনজিল শরীফ নাযিলকৃত আসমানী কিতাব যা-কিনা তাদের মন মত হয়নি। তাই তারা তাদের চাহিদানুযায়ী উক্ত পবিত্র আসমানী কিতাবগুলোর বিকৃতি ঘটিয়ে অর্থাৎ নিজেদের মনগড়া অভিমত উক্ত পবিত্র গ্রন্থে ঢুকিয়ে মূল আসমানী কিতাবগুলোর অস্তিত্বই নষ্ট করে ফেলেছে।
এসব কিতাব বিকৃত করার অভ্যাস কাফিরদের বহু পুরানো। নিজেদের ধর্মগ্রন্থের পাশাপাশি তারা মুসলমানদের অনেক কিতাবও তারা সুকৌশলে বিকৃত করে ফেলেছে।
আপনারা সবাই ইমামে আযম ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “ফিকহে আকবর” কিতাবের নাম শুনেছেন।
বর্তমান বিশ্বে এই ফিকহে আকবরের অনুবাদে সুকৌশলে ঢুকিয়ে দিয়েছে- ” হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি বলেন সাল্লাম উনার পিতা মাতা কাফির অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।” নাউযুবিল্লাহ !!
অথচ ফিক্বহে আকবরের মূল পান্ডুলিপিতে আছে ” কাফির অবস্থায় ইন্তেকাল করেন নাই।” কিন্তু ইসলামের শত্রুরা মানুষের আক্বীদা নষ্ট করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে “না” শব্দটা মুছে দিয়েছিলো যা পরবর্তীতে অবশ্য ধরা পড়েছে।
৬৫৬ হিজরীতে যখন হালাকু খা বাগদাদ শরীফ জ্বালিয়ে দেয় এবং ৮০ হাজার মুসলমানকে হত্যা করে তখন “ফিকহে আকবর” পান্ডুলিপি হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার শাহাদাতের রক্তমাখা স্বহস্তে লিখিত কুরআন শরীফ এবং অন্যান্য মূল্যবান কিতাব সমরখন্দে নিয়ে যায়। যখন রাশিয়ানরা সমরখন্দ দখল করে তখন কিতাবগুলো পিটার্সবার্গে স্থানান্তরিত করা হয় এবং যত্নসহকারে রক্ষিত হয়। শামসুদ্দিন শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “কামাসুল আলম” কিতাবে সমরখন্দের ইতিহাসে এ সমন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন।
এছাড়া বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাব “মুছান্নাফে আবী শায়বা” কিতাবে নতুন এডিশনে হযরত আসওয়াদ আমেরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার হাদীস শরীফে ” رفع يديه ” অর্থাৎ হাত উত্তোলন করেছেন এ অংশটা বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ পুরানো ছাপায় উক্ত অংশ স্পষ্টই রয়েছে। এভাবে বাজারে প্রকাশিত অনেক কিতাবেই সংযোজন বিয়োজনের অসংখ্য ঘটনা দৃশ্যমান হচ্ছে। সে কারনে বিখ্যাত ওলী হযরত জালালুদ্দীন রূমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি “মসনবী শরীফ” লিখেছেন কবিতার ছন্দে যাতে কেউ সহজেই কিছু কমবেশি করতে না পারে।
তদ্রুপ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক কিতাব থেকেও নূর সম্পর্কিত হাদীস শরীফও গায়েব করে দিয়েছে। তার দলীল হচ্ছে পূর্ববর্তী অসংখ্য হাদীস বিশারদ গন নিজ নিজ কিতাবে উক্ত কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে হাদীস শরীফটা বর্ননা করেছেন। অথচ বর্তমান এডিশনে তা খুজে পাওয়া যায় না।
নিজেদের সুবিধার জন্য এসকল ইহুদী খ্রিষ্টান ও তাদের তৈরী এজেন্ট ওহাবীরা ইচ্ছামত কিতাব থেকে সংযোজন, বিয়োজন, ইবারত কারচুপি করে সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্ত করছে.

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে