সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

ইহুদী-খ্রিস্টান ও বিধর্মীদের সাদৃশ্যপূর্ণ আমল কবুলযোগ্য নয়


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের তোমাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পবিত্র আশূরা শরীফ দিবস রোযা রাখো এবং এতে ইহুদীদের বিপরীত করো। পবিত্র আশূরা শরীফ উনার পূর্বে ১ দিন অথবা পরে ১ দিন মিলিয়ে রোযা রাখো।” (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)

চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় হলো, ইহুদীরা পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনকে পবিত্র দিন হিসেবে সম্মান করে থাকে এজন্য তারা এদিনে ১টি রোযা রেখে থাকে। মুসলমান যেহেতু ইহুদী-নাছারা বিধর্মীদেরকে অনুকরণ করতে পারে না, এজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পূর্বে অথবা পরে ১টি করে মিলিয়ে দুটি রোযা রাখার হুকুম দিলেন। এতে উম্মতদেরকে শিক্ষা দেয়া হলো- দ্বীনি কোনো আমলেই বিধর্মীদের সাদৃশ্য হারাম আর স্থান বিশেষে কুফরী।

তিরমিযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।”
মুসলিম শরীফ, শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী ও মিশকাত শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখতে মুবারক নির্দেশ দিলেন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তিনি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ দিনকে ইহুদী ও নাছারারা সম্মান করে থাকে। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি আমি আগামী বছর পর্যন্ত যমীনে থাকি, তবে অবশ্যই ৯ম তারিখেও রোযা রাখবো।” সুবহানাল্লাহ!

উল্লিখিত আলোচনা থেকে এই শিক্ষাই পাওয়া যায় যে, কোনো বিষয়েই ইহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, যাবতীয় বিধর্মীদেরকে অনুসরণ করা যাবে না এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনও করা যাবে না। কারণ বিধর্মীদের অনুসরণ হারাম ও কুফরী। এ জন্যই পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা একটি নয়, বরং ২টি যা ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রাখতে হয়। তবে ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখা আফযল বা উত্তম।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় সকলকে তা আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে