ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিকদের সর্বপ্রকার ষড়যন্ত্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আহলে কিতাব অর্থাৎ বিধর্মীরা চায় তোমরা পবিত্র ঈমান আনার পর তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে দিতে।’ নাউযুবিল্লাহ!
ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিকরা সূক্ষ্মভাবে মুসলমানদের দ্বারা হারামকে হালাল, হালালকে হারাম বানিয়ে, ছোঁয়াচে বিশ্বাস করিয়ে এবং হারাম কাজে খুশি প্রকাশ করিয়ে মুসলমানদেরকে কাফির ও মুশরিকে পরিণত করতে চাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! যাতে মুসলমানদের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়, স্ত্রী তালাক হয়ে যায়, সন্তান বৈধতা হারিয়ে ফেলে। নাঊযুবিল্লাহ!
তাই প্রত্যেক মুসলমানকে এ বিষয়টি ভালোভাবে ফিকির করতে হবে। পাশাপাশি ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিকদের সর্বপ্রকার ষড়যন্ত্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার অসংখ্য স্থানে ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদেরকে মুসলমানদের চরম শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে প্রথমত ইহুদীদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে।” এককথায় সমস্ত কাফিররাই মুসলমানদের শত্রু। শত্রু হওয়ার কারণেই তারা চব্বিশ ঘণ্টা অর্থাৎ দায়িমীভাবে কোশেশ করে কি করে মুসলমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করা যায়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আহলে কিতাব বা কাফিররা চায় তোমরা (মুসলমানরা) পবিত্র ঈমান আনার পর কি করে তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে দেয়া যায়।” নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিকরা সূক্ষ্মভাবে মুসলমানদের দ্বারা হারামকে হালাল, হালালকে হারাম বানিয়ে ছোঁয়াচে বিশ্বাস করিয়ে এবং হারাম কাজে খুশি প্রকাশ করিয়ে মুসলমানদেরকে কাফির পরিণত করতে চাচ্ছে। যাতে মুসলমানদের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়, স্ত্রী তালাক হয়ে যায়, সন্তান বৈধতা হারিয়ে ফেলে। নাঊযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেমন পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে গান-বাজনা, ছবি ও খেলাধুলা সম্পূর্ণ হারাম। গান-বাজনা প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “গান শোনা গুনাহের কাজ; গানের মজলিসে বসা ফাসিকী কাজ আর গানের স্বাদ গ্রহণ করা কুফরী।” নাউযুবিল্লাহ!
ছবি প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক ছবি তুলনেওয়ালা ও তোলানেওয়ালা জাহান্নামী।” অর্থাৎ ছবি তোলা ও তোলানো উভয়টাই হারাম। নাউযুবিল্লাহ!
খেলাধুলা প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক খেলাই হারাম”। নাউযুবিল্লাহ! অর্থাৎ গান-বাজনা, টিভি চ্যানেল, সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম, খেলাধুলা ইত্যাদি পবিত্র ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণই হারাম ও নাজায়িয।
ছোঁয়াচে প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ছোঁয়াচে বলতে কোনো রোগ নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষন বা অশুভ বলতে কিছু নেই; ছফর মাসে কোনো খারাবী নেই।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আক্বাইদ উনার কিতাবে উল্লেখ আছে, হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম বলা, হারাম বা গুনাহের কাজে খুশি প্রকাশ করা, হারাম বা গুনাহের কাজকে ভালো লেগেছে, ভালো বলে স¦াদ গ্রহণ করা বা তৃপ্তিবোধ করা এবং প্রশংসা করা, কোনো রোগকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করা প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী, শিরকির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি কোনো হারাম কাজকে হালাল এবং হালাল কাজকে হারাম বলে বা মনে করে হারাম কাজের স¦াদ গ্রহণ করে বা তৃপ্তি বোধ করে হারাম কাজের প্রশংসা করে, কোনো রোগকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস করা তবে সে মুরতাদ তথা কাফির হয়ে যাবে। আর পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক কোনো মুসলমান যখন কুফরী, শিরকি করে, তখন সে মুরতাদে পরিণত হয়ে যায়; ফলে তার পূর্ববর্তী জীবনের সকল নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়, হজ্জ করে থাকলে হজ্জ বাতিল হয়ে যায়। ওয়ারিছস¦ত্বও বাতিল হয়ে যায়। বিবাহ করে থাকলে স্ত্রী তালাক হয়ে যায়, এমতাবস্থায় স্ত্রীর সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও অবস্থান করা অবৈধ ও কবীরা গুনাহ বলে গণ্য হবে, সন্তান হলে বৈধ বলে গণ্য হবে না। নাঊযুবিল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত তওবা করে বিবাহ না দোহরাবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুসলমানদের শত্রু কাফির, ইহুদী-মুশরিক অর্থাৎ সমস্ত বিধর্মীগুলো মূলত একাজটাই সূক্ষ্মভাবে করে যাচ্ছে। তাই মুসলমানদের উচিত কাফির, ইহুদী-মুশরিক অর্থাৎ সমস্ত বিধর্মীদের এসব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। অর্থাৎ সর্বদা হারামকে হারাম ও হালালকে হালাল জানা, হারাম কাজে স¦াদ গ্রহণ বা তৃপ্তিবোধ ও খুশি প্রকাশ না করা। রোগকে ছোঁয়াচে বলে বিশ্বাস না করা এমতাবস্থায় কেউ হারাম কাজ করলেও তার ঈমান নষ্ট হবে না; তবে সে অবশ্যই ফাসিক বা গুনাহগার হবে। অতএব, প্রত্যেক মুসলমানকে এ বিষয়টি ভালোভাবে ফিকির করতে হবে। পাশাপাশি ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিক অর্থাৎ সমস্ত বিধর্মীদের সর্বপ্রকার ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে