ইয়াযিদ চরম স্তরের নিকৃষ্ট কাফির- এটাই বিশুদ্ধ আক্বীদা।


১০ই মুর্হরম পবিত্র আশূরার দিনে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আলে রসূলিল্লাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনিসহ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহান সদস্য ও সঙ্গীগণ কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন; আর এর জন্য দায়ী হলো চরম লা’নতপ্রাপ্ত কাট্টা কাফির ইয়াযিদ।
আশ্চর্য একটি ঘটনা পৃথিবী দেখলো! কি দুঃসাহস কমবখ্ত ইয়াযিদের! সে কিভাবে পারলো মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, কলিজার টুকরা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার হুকুম দিতে? নাউুযুবিল্লাহ

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার চরম বিদ্বেষী ইয়াযিদ যে কোন শ্রেণীর কাট্টা কাফির সেটা মুসলমানদের বুঝতে হবে।
কেননা কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ও হাদীছ শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদেরকে মুহব্বত করতে, সম্মান করতে বলেছেন। কুরআন শরীফ-এ রয়েছে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী) আমি তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাই না; তবে আমার আত্মীয়-স্বজন (আওলাদগণ) উনাদের সাথে তোমার সদাচরণ করবে।”
আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়- মহান আল্লাহ পাক তিনি চাচ্ছেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সবাই তা’যীম-তাকরীম করুক।
হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করি। হে মহান আল্লাহ পাক! আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন।’ সুবহানাল্লাহ!
এছাড়া হাদীছ শরীফ-এ আরো আছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা আঁকড়ে ধরো তবে গুমরাহ হবে না। প্রথমটি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও দ্বিতীয়টি আমার আহলে বাইত শরীফ।’
তাহলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাদেরকে মুহব্বত করেন, তা’যীম-তাকরীম করতে বললেন, যারা হিদায়েতের মূল, উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে তারা কত বড় গুমরাহ ও কোন শ্রেণীর কাফির। মুসলমানদের তা ভেবে দেখা উচিত।
সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি তো যুদ্ধ করতে যাননি। কূফাবাসীর আমন্ত্রণে তিনি তাদের হিদায়েতের জন্য তাশরীফ নিয়েছিলেন। উনার সাথে উনার মুবারক পরিবারবর্গ ছিলেন, উনাদের ছফর সঙ্গীগণ উনাদের মধ্যে অনেক মহিলা ও দুগ্ধপোষ্য শিশুও ছিলেন এবং উনারা ৭২ থেকে ৮২ জন ছিলেন। তবে কেন গুমরাহ ইয়াযিদ কারবালার প্রান্তরে লক্ষ লক্ষ সৈন্য পাঠালো? এর উদ্দেশ্য কি? ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দেয়া- এটাও কি চরম কুফরী নয়?
হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করা ঈমান ও উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী? তাহলে উনাকে যারা কষ্ট দিলো, শহীদ করলো- তারা মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া উনার শত্রু। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের ঘটনায় যারা জড়িত থাকবে তাদের কেউ আমার সুপারিশ পাবে না। তাহলে তারা তো নিশ্চিত জাহান্নামী। সুতরাং ইয়াযিদ যে চরম গুমরাহ, লা’নতগ্রস্ত ও বড় কাট্টা কাফির এটাইতো সঠিক।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+