ইয়াযীদ ও তার বাহিনী এখনো সমাজে বিদ্যমান ॥ আর এরাই উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ী মালানা


পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস আসলেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ উনাদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। স্মৃতিতে ভেসে উঠে পবিত্র কারবালা উনার হৃদয় বিদারক ঘটনা। এমন ঘটনা মানবজাতির ইতিহাসে দ্বিতীয় আর একটিও নেই। খিলাফতের দাবি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কূফাবাসী মুসলমানগণ উনাদের আহবানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। উনারা ছিলেন পুরুষ-মহিলা দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ মাত্র ৭২ জন। দুরাচার পাপিষ্ঠ কাফির ইয়াযীদ- সে তার ইহুদী-নাছারা উপদেষ্টাদের প্ররোচনায় ৪০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী দ্বারা পবিত্র কারবালা উনার প্রান্তরে ইমাম পরিবার উনাদের পথ রুখে দাঁড়ায়। ফুরাত নদীর পানি সংগ্রহে বাধা দেয়।
ইয়াযীদ চেয়েছিলো সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নরাধম ইয়াযীদের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করবেন, তার বশ্যতা স্বীকার করবেন। নবী দৌহিত্র; যাঁর শিরায় চলমান নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুল নাজাত মুবারক, তিনি তো নরাধম ইয়াযীদের বাইয়াত গ্রহণ করতে পারেন না। বিপদ যতো বড়ই হোক না কেনো? সকল পুরুষ সদস্যগণ বীরত্বের সাথে জিহাদ করে পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করাকেই খুশি মনে গ্রহণ করেছিলেন। পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেহ মুবারক উনার মধ্যে ৩৪টি বর্শার আঘাত, চল্লিশটি তলোয়ারের আঘাত এবং একশত একুশটি তীরের আঘাত পাওয়া যায়। শাহাদাত নিশ্চিত জেনেও নরাধম ইয়াযীদের বশ্যতা নয়, সন্ধি নয়, বাইয়াত গ্রহণ নয়, বরং যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও উনার সঙ্গীরা। এই হৃদয় বিদারক ঘটনায় অসংখ্য ইবরত-নছীহত রয়েছে মুসলমানগণ উনাদের জন্য। ‘শির দেগা- নেহি দেগা আমামা।’ এটাই ছিলো আসল শিক্ষা। ইয়াযীদ কাফির ছিলো কিন্তু তার বিশাল বাহিনী কূফার গভর্নর এরা কি ছিলো? ওরাও তো পবিত্র কালিমা ত্বইয়িবাহ ও কালিমা শাহাদাত শরীফ উনার দাবিদার ছিলো।
পবিত্র আশূরা শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সত্যের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা আজ প্রায় ১৪০০ বছর পরও চির উজ্জ্বল এবং পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মানিত করেছে। উম্মতের জন্য ইবরত-নছীহত যে, মুসলমান মিথ্যার কাছে মস্তক দিতে পারে, মাথা নত করে না। ইয়াযীদ ও তার বাহিনী এবং কূফাবাসী প্রায় ১৪০০ বছর আগে বিলীন হলেও তাদের উত্তরসূরি আজো সমাজে বিদ্যমান। এদের দ্বারাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বিদয়াত, বিশরা ও গুমরাহী প্রবেশ করছে। এরাই উলামায়ে ‘সূ’ তথা স্বার্থপর ধর্মব্যবসায়ী মালানা। এদের কবল থেকে মুসলমান উনাদের পবিত্র ঈমান ও আমল বাঁচাতে সকলকেই সজাগ ও সচেষ্ট হতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে