ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন নিয়ে ওহাবীদের চুরি ধরা পড়েছে..


ইমাম আবু নুয়াইম আসবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘দালায়েলুন নবুওওয়াত’ থেকে “নিয়ামত” শব্দ বাদ দিয়ে ভয়ানক তাহরীফ করলো ওহাবীরা।

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বিষয়টা গোড়া থেকে আবার পড়ুন। আপনাদের সুবিধার্থে আবার আলোচনা করছি-
কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّـهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّـهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ, ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।” (সূরা আল ইমরান ১৭১)
উপরোক্ত এ অর্থ বিদয়াতীদের মুরুব্বী পাকিস্তানের মুফতী শফী ও বাংলাদেশের মাহিউদ্দীন খানের করা। এ আয়াত থেকে বোঝা যায় নিয়ামত পাওয়ার কারনে আনন্দ প্রকাশ করতে হবে।
অনেকে বলতে পারেন এ আয়াত দ্বারা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশি হওয়ার কি আছে? উপরোক্ত আয়াত শরীফ একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে “নিয়ামত”। এই নিয়ামত বিষয়ে হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,
إنما بعثت نعمة
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি। (দালায়েলুন নবুওওয়াত লি আবু নুয়াইম ১ম খন্ড ৪০ পৃষ্ঠা, হাদীছ নং ২)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ সমন্বয় করে এটা বলা যায় আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত অর্থাৎ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে আনন্দ প্রকাশ করতে হবে বা ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে হবে। ওহাবীরা পয়েন্টটা ধরতে পেরেছে আগেই তাই তারা তাদের প্রকাশনা থেকে কৌশলে “নিয়ামত” বাদ দিয়ে রহমত করে দিয়েছে।

প্রমান দেখুন,
ঈদে মীলাদুন্নবী পালন

ঈদে মীলাদুন্নবী
(ছবি ১) লেবাননের প্রকাশনা দারুন নাফিস থেকে প্রকাশিত দালায়েলুন নবুওওয়াত কিতাবে ৪০ পৃষ্ঠায় إنما بعثت نعمة বা (নিশ্চয়ই আমি নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি) এই হাদীছ শরীফ আছে।

(ছবি ২) মাকতাবাতুল ফায়েজ (কোন দেশ সেটা উল্লেখ নাই) এখান থেকে প্রকাশিত দালায়েলুন নবুওওয়াত কিতাবে ৪৬ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদীছ শরীফে সনদ ঠিক রেখেই ইবারতের ‘নিয়ামত’ বাদ দিয়ে রহমত ঢুকিয়ে দিয়েছে।

(ছবি ৩) আজ থেকে ১২০ বছর আগে ছাপা পুরানো একটা দালয়েলুন নবুওওয়াত কিতাবে ছবি দেখুন এবার। সেখানে ৫ পৃষ্ঠায় إنما بعثت نعمة বা (নিশ্চয়ই আমি নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি) এই হাদীছ শরীফ আছে। স্পষ্ট “নিয়ামত” শব্দটা ইবারতে রয়েছে।
3
স্পষ্টই প্রমাণ হলো ওহবীরা কত ভয়ানক কারচুপীকারী। তারা কিতাব নিয়ে কি ভয়ানক তাহরীফ করছে। তাদের কুফরী মতবাদের বিরোধী হলেই সেটা কিতাব থেকে তারা বাদ দিয়ে দিচ্ছে, নিজেদের মনমত ইবারত ঢুকাচ্ছে। আল্লাহ পাক এসকল দাজ্জাল থেকে আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+