ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি দিন…


সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি নবী খান্দানের অন্যতম সদস্য।তিনি হলেন সর্বসম্মতিক্রমে বালক উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবুলকারী।তিনি খায়বরী বীর।তিনি “আশারায়ে মুবাশশিরার” অন্তর্ভুক্ত।তিনি আসাদুল্লাহ।তিনি খলীফা,তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জামাতা।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হায়দার লক্বব মুবারক এবং যুলফিকার তরবারী মুবারক হাদিয়া করেন।উনার “হায়দার” লক্বব মুবারক স্মরণ করলেও সাধারণ মানুষ শক্তি,জোশ এবং বীরত্ব লাভ করে।সুবহানাল্লাহ
এখন পর্যন্তও সশস্ত্র বাহিনীতে উনার “হায়দার” লক্বব মুবারক স্মরণ করা হয়।সম্মানিত তাবুক অভিযান ছাড়া সমস্ত জিহাদেই তিনি অংশগ্রহণ করেন।সম্মানিত বদর জিহাদে সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন।
উনার শক্তিমত্তা বলার অপেক্ষা রাখে না।খায়বর দূর্গের প্রধান ফটক যা তিনি ঢাল হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন তা পরবর্তীতে ৮০জন পালওয়ানের পক্ষে তোলা সম্ভব হয় নি।সুবহানাল্লাহ।
উনার ফাযায়িল-ফযীলত বুযুর্গী সম্মান ধারণাতীত।যখন পবিত্র মদীনা শরীফের লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেন তখন সমস্ত মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলার জন্য হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।তিনি মুহাজির ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে আনসার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেন।শুধু বাকি রয়ে গিয়েছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি।
এসময় তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন,ইয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করলেন,অথচ আমাকে কারো সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করলেন না।তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন,আমার সাথে আপনার বন্ধন।দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই আপনি আমার ভাই।সুবহানাল্লাহ।
কাজেই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানের খিলাফ কোনো কথা বা আক্বীদা স্পষ্টতই ঈমানহানীর কারণ তথা কুফরী।আজকের এই দিবসটিও উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সুমহান খিলাফত মুবারক গ্রহণকে কেন্দ্র করে কতিপয় বাতিল ফিরকার উদ্ভব হয়েছে যারা মূলত কাফির।এদের একটি হচ্ছে –শিয়া,অপরটি রাফেজী।
শিয়ারা উপরে ভাব দেখায় কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে অধিক মুহব্বত করে।মূলত তারা দ্বীন ইসলামকে অবমাননাকারী।তারা বিশ্বাস করে একমাত্র কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনিই সম্মানিত খিলাফত উনার জন্য উপযুক্ত,প্রথম তিনজন খলীফা নন!নাঊযুবিল্লাহ।
আর খারেজীরা উনার মুবারক খিলাফত উনাকে মেনে নেয়নি।এরাই উনাকে শহীদ করেছিলো।নাঊযুবিল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম এবং বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার যে জিহাদ তথা ‘জংগে জামাল’ এবং ‘সিফফিনের জিহাদ’ সংঘটিত হয়েছিলো তা মুনাফিকদের দ্বারা সৃষ্ট।
আজও এরা এই যুদ্ধদ্বয় দ্বারা মানুষের মাঝে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার শান মুবারকের খিলাফ আক্বীদা প্রবেশ করাতে চায়।সেপ্রেক্ষিতে বাজারে তারা এবিষয়ে অসংখ্য বই-পত্র ছড়িয়ে রেখেছে।নাঊযুবিল্লাহ!
তাই মুসলমান মাত্রই উচিত হবে উনার সুমহান জীবানী মুবারক ভালোভাবে জেনে,উনার বেমেছাল তাক্বওয়া,ন্যায়বিচার,ইলম সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত হয়ে,সর্বোপরি উনার মর্যাদা মুবারক সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সে অনুসারেই আক্বীদা পোষণ করা।অন্যথায় কাফির হয়ে জাহান্নামী হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
মহান আল্লাহ পাক এ সম্মানিত দিন মুবারক উনার সম্মানার্থে আমাদের কবুল করুন,সহীহ আক্বীদা পোষণ করার তৌফিক দান করুন।আমীন।25jilhajj shorif
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে