উন্নয়নের নামে মন্দির ভাঙ্গবেন না, তবে মসজিদ ভাঙ্গবেন! এটা কোন ধরণের জুলুম?


ইদানিং কথিত সৌন্দর্য বর্ধন ও উন্নয়নের নামে ঢাকার চারপাশে নদীকেন্দ্রীক ৭৭টি মহাসম্মানিত মসজিদসহ সারা দেশে বহু মসজিদ-মাদরাসা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল।

তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকার সম্পূর্ণ নিরব তো বটেই; খোদ নৌসচিব প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে মসজিদগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য! নাউযুবিল্লাহ!

বলাবাহুল্য, ৯৮% মুসলমানের দেশে সৌন্দর্য বর্ধন তথা উন্নয়নের নাম দিয়ে মসজিদ ভাঙ্গার পরিকল্পনা করলেও বাকী মাত্র ২% সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ী, মন্দির ইত্যাদি রক্ষায় সরকারকে বেশ তৎপরই মনে হচ্ছে। সরকারের এমন বৈষম্যমূলক আচরণ সম্পূর্ণই অসাংবিধানিক তথা বেআইনি।

উল্লেখ্য, মসজিদ হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রতীক। আর সরকার সৌন্দর্যের নাম দিয়েই মসজিদগুলো ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে; যা কিনা চরম হাস্যকর বিষয়!

অন্যদিকে, সংখ্যালঘুদের বাড়ী-ঘর, মন্দির ইত্যাদির জন্য যুগের পর যুগ উন্নয়নের কাজ বন্ধ থাকলেও সেদিকে যেন সরকারের কোন মনোযোগই নেই। যেমন- ১) ২০১৭ সালে মিরপুর-২ এর ২২/১৯ বড়বাগ ঠিকানার ‘নাজারাথ নভিসিয়েট ও এসএল লুইজেন সিস্টারস’ নামক একটি গির্জা না ভেঙ্গে ৩ রাস্তার মোড় করে সংযুক্ত করা হয়েছে।

২) হাতিরঝিল রাস্তা বানাতে ‘গৌরাঙ্গ মন্দির’ না ভেঙ্গে রাস্তা বানানো হয়েছে।

৩) হিন্দু বাউলদের বাড়ি-ঘর বাঁচাতে নরসিংদীর শহর রক্ষা বাধের কাজ ৯ বছর আটকে রাখা হয়েছে।

৪) চট্টগ্রামের পটিয়ার ইদ্রপুর মহাসড়কের নির্মাণকালে ১টি মন্দির ও শশ্মান এবং হিন্দুদের কয়েকটি ঘর সরানোর প্রয়োজন থাকলেও সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর আশ্বাসে উক্ত স্থাপনাসমূহ অক্ষত রেখে রাস্তা ঘুরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

এগুলোসহ এমন হাজার উদাহরণ রয়েছে।

এখন, গির্জা, মন্দির এমনকি হিন্দুদের ঘরবাড়ি অক্ষত রাখলেও সরকারিভাবে মসজিদ ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কেন? শত শত ড্রেন-নর্দমা দিয়ে নগরবাসীর পয়:বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো বিষাক্ত বর্জ্য এবং হাজারীবাগের ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা নদী চরমভাবে দূষিত হলেও তা নিয়ে সরকারের মাথা ব্যথা নেই কেন?

৯৮% মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য করাই কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ???

সুতরাং, কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না” এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান সরকারকে অবশ্যই মহাসম্মানিত মসজিদ-মাদরাসা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত হতে সরে আসতেই হবে। নচেৎ এর পরিনাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে