উম্মাতের শ্রেষ্ঠতম কোনো ব্যক্তির বড় থেকে বড় কোনো নেক আমলও সর্বনিম্ন সাহাবীর ছোট হতে ছোট কোনো আমলের সমতুল্য হতে পারে না


সুলতান মাহমূদ গজনবী উনার আয়াজ নামে প্রিয় এক গোলাম ছিল, আয়াজের ছেলের নাম ছিল মুহম্মদ।তাকে তিনি নাম ধরেই ডাকতেন। একদিন হাম্মামখানায় ‘হে আয়াজের ছেলে পানি নিয়ে এসো’ বলে ডাক দিলেন।এতে আয়াজ আরজ করলেন , হযুর কি গোস্তাখি হলো যে ছেলের নাম নিলেন না? তিনি জানালেন, ওই সময়টা আমি ওজুহীন ছিলাম আর ওজুহীন অবস্থায় আমি মুহম্মদ নাম মুবারক উচ্চারণ করি না।

উনারা, উনাদের, পাক, মুবারক, শরীফ ইত্যাদি শব্দগুলো পোস্টে উল্লেখ দেখে একজন জিজ্ঞেস করলো, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে কি সাহাবায়ে কিরামগণ এভাবে সম্বোধন করতেন কিনা!

আমি শুনেছি, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে কোন মজলিসে সাহাবায়ে কিরামগণ আদবের সহিত এমনভাবে মাথা ঝুকিয়ে বসে কথা মুবারক শুনতেন যে, দেখা যেত পাখি উড়ে এসে মাথার উপর বসে থাকতো কিন্তু উনারা টের পেতেন না।সুলতান মাহমূদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আদব নিশ্চয়ই সাহায়ে কিরাম উনাদের থেকে বেশি ছিল না।

হজ্বের সময় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যখন চুল মুবারক কাটা হত, তখন সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গণ কর্তিত চুল মুবারক ভাগে পাওয়ার জন্য হাত পেতে থাকতেন এবং যারা ভাগে পেতেন না উনারা আফসোস ই আফসোস করতেন।
মূলত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সাহাবায়ে কিরামগণের আদব আমাদের উপলব্ধির বাইরে। উনাদের আদবের সাথে আমাদের আদব মিলানোটা চরম বেয়াদবী।

রাজারবাগীরাই শুধু পোস্টে এসব শব্দ ব্যবহার করেন/ শব্দগুলোর কারণে পোস্ট পড়তে ও বুঝতে সমস্যা হয়/ পোস্টকে অতিরঞ্জিত করে ফেলছেন ইত্যাদি ইত্যাদি অনেকে বলে থাকে।

কয়েকটা কিতাব কিনেছিলাম কিছুদিন আগে। কিতাবগুলোতে লক্ষ্য করলাম, প্রথমদিকে যতটুকু আদব সহকারে লিখেছে অর্থ্যাৎ পাক, শরীফ, পূর্ণ  দূরুদ শরীফ লিখা কিন্তু কিছুদূর গিয়ে আর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে নি।
বর্তমান বাজারে যেসব কিতাব পাওয়া কিতাবগুলোর বেশিরভাগ লেখক ও প্রকাশক নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তাদের মত মানুষ মনে করে। ফলে তাদের কিতাবগুলোতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সব কিছুকে তেমনভাবেই প্রকাশ করেছে। এসব কিতাব পড়ে অন্তরে ঈমানী কুওওয়াত বড়বে তো দূর উলটো নেফাকী সৃষ্টি হবে।

অতএব এসব কিতাব পড়ে যদি আমাদের কোন পোস্ট পড়া হয় তাহলে না বুঝাটা অস্বাভাবিক না।

হাক্বীকত হচ্ছে, নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর যথাযথ আদব প্রদর্শন কোন উম্মতের পক্ষে সম্ভব না। এমনকি হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের সমপর্যায়ের আদব প্রদর্শন করাটাও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বলা হয়, উম্মাতের শ্রেষ্ঠতম কোনো ব্যক্তির বড় থেকে বড় কোনো নেক আমলও সর্বনিম্ন সাহাবীর ছোট হতে ছোট কোনো আমলের সমতুল্য হতে পারে না।

Views All Time
4
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে