উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থেই পর্দার পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়


উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার দিন পর্দার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়। অর্থাৎ ৫ম হিজরী শরীফ উনার ৮ই যিলক্বদ শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ পর্দার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হন তথা পর্দা ফরয করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَزَلَتْ آيَةُ الحِجَابِ فِي اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ السَّابِعَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ زَيْنَبَ بنت جحش عَلَيْهَا السَّلَامُ) وَأَطْعَمَ عَلَيْهَا يَوْمَئِذٍ خُبْزًا وَلَحْمًا وَكَانَتْ تَفْخَرُ عَلَى نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تَقُولُ إِنَّ اللَّهَ أَنْكَحَنِي فِي السَّمَاءِ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়াল ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীম শরীফ উনার দিন পর্দার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়াল ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ওলীমা মুবারক উপলক্ষে সেদিন রুটি ও গোশত মুবারক খাওয়ান। সুবহানাল্লাহ! তিনি অন্যান্য সকল উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উপর ফখর করে বলতেন, আমাকে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমানে (উনার মহাসম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার উপর) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ সম্পন্ন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, ইবনে সা’দ)
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ اَنْ تُؤْذُوْا رَسُوْلَ اللهِ وَلَاۤ اَنْ تَنْكِحُوْاۤ اَزْوَاجَهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖۤ اَبَدًا اِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللهِ عَظِيْمًا.
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আপনারা আমার মহাববূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করবেন না। আপনাদেরকে যখন খাবারের জন্য ডাকা হবে খাদ্য প্রস্তুত হওয়ার পূর্বে, অপেক্ষা না করে আমার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ প্রবেশ করবেন না। বরং যখন আপনাদেরকে ডাকা হবে, তখনই আপনারা প্রবেশ করবেন। তারপর যখন আপনাদের খাদ্য খাওয়া শেষ হয়ে যাবে, আপনারা চলে আসবেন অর্থাৎ সেখান থেকে বের হয়ে পড়বেন। আপনারা সেখানে কথা-বার্তায়, আলোচনায় মশগুল থাকবেন না। নিশ্চয়ই আপনাদের এই সমস্ত আচরণ আমার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়। তিনি উনার সেই কষ্টের কথা আপনাদের কাছে বলতে সংকোচ বোধ করেন। অর্থাৎ বলেন না, আপনাদের কষ্ট হয় কিনা সেজন্য। আর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সত্য বলতে কখনও লজ্জিত হননা বা সংকোচ বোধ করেন না। আপনারা যখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কাছ থেকে কিছু চাবেন, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাবেন। এটা আপনাদের অন্তরের জন্য পবিত্রতার কারণ হবে। এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য এটা শরাফত ও মর্যাদা উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া জায়িয নেই এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার মহাসম্মানিতা আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কস্মিনকালেও জায়িয নেই। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এটা অনেক বড় অপরাধ।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৩)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শানে নুযূল সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন, তখন সম্মানিত ওলীমা মুাবরক করেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَوْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ بَنَى بِاُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ السَّابِعَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَطْوَلُ يَدًا عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ زَيْنَبَ بنت جحش عَلَيْهَا السَّلَامُ) فَأَشْبَعَ الْمُسْلِمِينَ خُبْزًا وَلَحْمًا.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়াল ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সময় যখন সম্মানিত ওলীমা মুবারক করেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে তৃপ্তি সহকারে রুটি ও গোশত মুবারক খাওয়ান।” সুবহানাল্লাহ!
যখন সেই ওলীমার দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো, সকলেই এসেছিলেন ও দাওয়াত খেয়েছিলেন। দাওয়াত খাওয়ার পর অনেকে চলে গেলেন আর কেউ কেউ বসে রইলেন। হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, কিছু লোক চলে গেলেও সে আলোচনা চলতে লাগলো। উনাদের মধ্যে হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা তিনিও একজন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সকলেই চলে গেলেন। তিনজন রয়ে গেলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ অবস্থা দেখে অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাক্ষাতে গেলেন, সালাম-কালাম বিনিময় করলেন, সকলেই নতুন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে জানতে চাইলেন অর্থাৎ আলোচনা করলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সমস্ত দেখা-সাক্ষাত করে আলোচনা শেষ করে এসেও দেখতে পেলেন তখনও তিনজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বসে রয়েছেন। উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি সবাইকে পিছন দিয়ে ভিতরের দিকে মুখ করে বসেছিলেন। এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ প্রবেশ করেন। এরপর পর্দা ফরয করে উপরোক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে