উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয় মুবারকই মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক পূর্ব মনোনীত। অনুরূপভাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনিও ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েই সৃষ্টি হয়েছেন। যা অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী মুবারক করেন যে, আমার কুদরত মুবারকে সৃষ্টি করা নূর মুবারক উনার সৌন্দর্য মুবারক উনার প্রতি আমি নযর মুবারক রাখলাম। অতঃপর, সেই নূর মুবারক উনাকে আমার আযমত মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করলাম। অতঃপর সেই নূর মুবারক উনাকে তিনভাগে বিভক্ত করলাম। প্রথম ভাগ মুবারক দ্বারা ছূরতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি করলাম এবং হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সৃষ্টি করলাম। দ্বিতীয় ভাগ মুবারক দ্বারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং হযরত আছহাবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সৃষ্টি করলাম। আর তৃতীয় ভাগ মুবারক দ্বারা সত্যিকার আশিক্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সৃষ্টি করলাম। সুবহানাল্লাহ! (আল বারাহিনুল ক্বতইয়্যাহ ফী মাওলীদি খ¦ইরিল বারিয়্যাহ)
অর্থাৎ, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ মনোনীত সৃস্টি। কায়িনাত মাঝে উনারা বিশেষ খুছুছিয়ত প্রাপ্ত। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
النبى اولى بالمؤمنين من انفسهم وازواجه المها تهم
অর্থ : মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিক প্রিয়। আর উনার আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)
অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কায়িনাতবাসীর মাতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা উনাদের সীমাহীন মর্যাদা ও বুযুর্গী-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সম্পর্কে অবহিত হওয়া সকলের জন্যই অত্যাবশকীয়।
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম অন্যতমা। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মাস। তাই, এ মাসে উনার সম্পর্কে জানা, উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সম্পর্কে অবহিত হওয়া সকলের জন্যই অত্যধিক জরুরী। নি¤েœ উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হলো।
বিলাদত শরীফ:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদাত শরীফ উনার তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। সর্বাধিক বিশুদ্ধ, মশহুর, গ্রহণযোগ্য ও প্রণিধানপ্রাপ্ত মতে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের ৪র্থ বর্ষের পবিত্র শাওয়াল মাস মুতাবিক ৬১৪ ঈসায়ী সনের জুলাই মাসে অর্থাৎ হিজরত মুবারক উনার প্রায় ৯ বৎসর পূর্বে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (সিয়ারুস সাহাবিয়াত আল ইসাবা)

নসব মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নসব মুবারক কুরাইশ বংশে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বনী তাইম গোত্রের। ‘উসদুল গাবা ফী মা’রিফাতিস ছাহাবা’ নামক কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী পিতৃ উনার দিক দিয়ে ঊর্ধ্বতন ৮ম পুরুষ এবং মাতৃধারা উনার দিক দিয়ে ঊর্ধ্বতন ৯ম পুরুষ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসব মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন।
পবিত্র ইসম মুবারক:
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মূল নাম মুবারক হযরত ‘আয়িশা’ আলাইহাস সালাম। তাছাড়া উনার ছুরত মুবারক উনার প্রতি লক্ষ্য রেখে ‘হুমায়রা’ আলাইহাস সালাম হিসেবেও উনাকে স্মরণ করা হয়। যা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে লক্ষণীয়। এছাড়া পিতৃ সম্পর্ক ব্যতীতই তিনি হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম লক্বব মুবারকে ভুবন জুড়ে বিখ্যাত ও মশহুর।
কুনিয়াত মুবারক:
আরবী রীতি অনুযায়ী কুনিয়াত হলো আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক। সন্তানের নামের পূর্বে উম্মু বা আবু শব্দযুক্ত করে প্রিয় সন্তানের প্রতি নিসবত করে কুনিয়াত করা হতো। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ عَائِشَةَ عليها السلام قَالَتْ‏:‏ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، كَنَّيْتَ نِسَاءَكَ، فَاكْنِنِي، فَقَالَ‏:‏ تَكَنِّي بِابْنِ أُخْتِكِ عَبْدِ اللهِ‏.‏
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম একদা আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম! অন্যান্য হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কুনিয়াত মুবারক ধারণ করেছেন, এমতাবস্থায় আমার কুনিয়াত মুবারক কি হবে? তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আপনার কুনিয়াত মুবারক আপনার ভাগিনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক অনুযায়ী হবে। (সুনানু আবী দাউদ)
অর্থাৎ হযরত আসমা বিনতে আবী বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক অনুযায়ী হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কুনিয়াত মুবারক হলো হযরত উম্মু আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম।
হযরত ওয়ালিদাইন আলাইহিমাস সালাম:
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পিতা আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম। মাতা হযরত উম্মু রুমান বিনতে উমায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উনার পবিত্রতা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগেও অত্যধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। তাছাড়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতের ব্যাপারে হযরত উম্মু রুমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার উৎসাহ-উদ্দীপনাহ যোগানের ব্যাপারটি ছিল বেমেছাল। তাই তো তাবুক জিহাদের সময় ঘরের ঝাড়– হতে শুরু করে যাবতীয় আসবাব পত্র তিনি বস্তায় ভরে মসজিদে নববী শরীফে প্রেরণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ইসলাম উনার স্বীকৃতি:
পবিত্র ইসলাম গ্রহণের তালিকায় পুরুষদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সর্ব শীর্ষে। তাই সঙ্গতকারণেই আইয়ামে জাহিলিয়াত হতে সম্পূর্ণ পূত-পবিত্র হয়েই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যা স্বয়ং হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক যে, যখন থেকে আমি আমার হযরত ওয়ালিদাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে চিনতে পেরেছি, তখন থেকে উনাদেরকে মুসলমান এবং মু’মিনে কামিল হিসেবে পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
পবিত্র শৈশবকাল মুবারক:
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মক্ববুলায়ে মাদারযাদ। সঙ্গতকারণেই উনাদের শৈশবকাল অন্যান্য শিশুদের মত নয়। বরং উনারা এমন সব ঘটনা মুবারকের অবতারণা করেন যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনিও এই উসূল মুবারক উনার বিপরীত নন। অন্যান্য শিশুরা যখন হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠতো, তখন তিনি নীরবতা পালন করতেন। অন্যান্য শিশুরা যখন আনন্দ করে দৌড়-ঝাঁপে মেতে উঠতো তখন তিনি গাম্ভীর্যতা প্রকাশ করতেন। কোনো বিষয়ে অন্যান্য শিশুদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা যখন বোকার ন্যায় হাঁ করে থাকতো, তখন তিনি বিদ্যুৎ চমকের ন্যায় চোখের পলকে অত্যন্ত হিকমতপূর্ণ ক্বওল শরীফ দ্বারা শ্রোতাকে আশ্চার্যন্বিত করতেন। যা বিভিন্ন ঘটনা দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
শাদী মুবারক:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরোপুরিভাবে ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। উনার যাবতীয় কার্যক্রম মুবারক ওহী মুবারক দ্বারা সম্পাদিত হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সাথে শাদী মুবারকের বিষয়টিও ওহী মুবারক দ্বারা সম্পাদিত।
‘তিরমিযী’ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একদা একখানা সবুজ রেশমের একটি টুকরো মুবারক উনার মধ্যে আমার আকৃতি মুবারক জড়িয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে উপস্থাপন করে বলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি উভয় জগতেই আপনার আহলিয়া তথা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হবেন।
কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, আমুল হুযনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বপ্রকার খিদমত মুবারক উনার আনজাম প্রদান করেন। এমতাবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সঙ্গতকারণেই হুজরা শরীফ উনার আভ্যন্তরীণ খিদমতের জন্য একজন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার অতীব প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই, উনার মুহব্বতের কন্যা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে প্রদানের ব্যাপারে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু একটি বিষয় বাধাস্বরূপ দাঁড়ায়।
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে হাবীবী খিদমত মুবারকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে উনার সাথে শাদী মুবারকের ব্যাপারে হযরত যুবাইর ইবনে মুতইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে কথা হয়েছিলো। তাই একটা প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং উনার আহলিয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে আরজি করতে থাকেন। পরক্ষণে হযরত যুবাইয়ের ইবনে মুতইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরিবার তাদের কথা ফিরিয়ে নেন। ফলশ্রুতিতে হাবীবী খিদমত মুবারক উনার ব্যাপারে যাবতীয় প্রতিকূলতা বিদূরিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
পরিশেষে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে প্রস্তাব মুবারক পেশ করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের দশম বৎসরের পবিত্র শাওয়াল মাসের ২১ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ছয় বৎসর বয়স মুবারকে উনার সাথে শাদী মুবারক সম্পন্ন করেন।
অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ন্যায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মোহর মুবারক পাঁচশত দিরহাম বা একশত সোয়া একত্রিশ তোলা রৌপ্য নির্ধারণ করা হয়। যা স্বয়ং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি পরিশোধ করেন।
উল্লেখ্য যে, পাঁচশত দিরহাম মোহরের বিষয়টি মোহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম নামে সমধিক মশহুর। যা একজন ব্যতীত সকল হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে প্রদান করা হয়। বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলকেও তা প্রদান করা হয়েছে। যা বর্তমান যুগে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জারি রেখেছেন। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পাদিত প্রতিটি বিবাহে তিনি মোহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম নির্ধারণ করে থাকেন।
হিজরত মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা শরীফ-এ প্রায় আড়াই বছর অবস্থান করেন। অতঃপর পবিত্র মদীনা শরীফ-এ হিজরত মুবারক করেন। হিজরতকালে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থান করতেছিলেন। পবিত্র মদীনা শরীফ-এ যখন পবিত্র হুজরা শরীফ নির্মাণ করা হয়। অর্থাৎ হিজরত উনার প্রায় ছয় মাস পর হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আবু রাফি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উরায়কাত রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনাদেরকে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রেরণ করা হয়। উনারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পরিবারবর্গ উনাদেরকে মদীনা শরীফ নিয়ে আসেন। উনাদের সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনিও হিজরত মুবারক করেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি মদীনা শরীফ উনার বনু হারিস ইবনে খাযরায মহল্লায় আপন পরিবারের সাথে কিছুদিন অবস্থান গ্রহণ করেন।
আযীমুশ্বান উরুস মুবারক:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক আদিষ্টিত হয়ে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে হুজরা শরীফ-এ উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ মুবারক প্রকাশ করেন। মুবারক ইচ্ছা অনুযায়ী আনসারী মহিলা ছাহাবীগণ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হুজরা শরীফে একত্রিত হয়ে আযীমুশ শান বরকতময় ওয়ালিমা মুবারকের আয়োজন করেন। আর সেই মুবারক আয়োজনেই প্রথম হিজরী সনের পবিত্র শাওয়াল শরীফ মাসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম নয় (৯) বছর বয়স মুবারকে হাবীবী-নববী হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। আর সেই তারিখ মুবারকেই উনার আযীমুশ শান উরুস মুবারক সুসম্পন্ন হয়।
হুজরা শরীফ:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সাল্লাম উনার হুজরা শরীফ মসজিদে নববী শরীফ উনার সর্বাধিক নিকটবর্তী ছিল। পবিত্র মদীনা শরীফ হতে পবিত্র মক্কা শরীফ দক্ষিণ দিকে। ক্বিবলা উনার বাম দিকে ছিল উনার হুজরা শরীফ। আর উনার হুজরা শরীফ হতে মসজিদে যাওয়ার সরাসরি দরজা মুবারক ছিল। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ মাটির দেয়াল, খেজুরের পাতা-ডালের ছাদ বিশিষ্ট এবং প্রস্তে প্রায় ছয়-সাত হাত ছিলো।
বলাবাহুল্য যে, হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম, আলাইহিস সালাম তিনি সুন্নতী জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফ উনার নকশা প্রস্তুত করে ছিলেন। যার প্রতিকৃতি আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার কভারে অদ্যাবধি শোভা পাচ্ছে।
বিশেষ ঘটনাবলী:
বনী মুস্তালিক যুদ্ধের সফরকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারকে অপবাদ লেপনের অপচেষ্টা চালায়। যা ইতিহাসে ‘ইফকের ঘটনা’ নামে মশহুর। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ১১ হতে ২১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারকে উনার পবিত্রতা মুবারকের ঘোষণা করেন। ইফকের ঘটনা ছাড়াও এমন কিছু ঘটনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সম্পৃক্ত, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ইবরত-নছীহত এবং রহমত-বরকত লাভের কারণ। তন্মধ্যে ইলার ঘটনা, তাহরীমের ঘটনা ও তাখইয়িরের ঘটনা অত্যতম। তাছাড়া তায়াম্মুমের হুকুম উনাকে কেন্দ্র করেই নাযিল হয়েছে। যার সুবিধা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানুষ ভোগ করতে থাকবে। এগুলো ছাড়াও পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতু নিছফি মিন শা’বানের বিষয়টিও উনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গর্বময় মুহূর্ত:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে ১৩ দিন মারীদ্বী শান মুবারক জাহির করেন। তন্মধ্যে ৫ দিন অন্যান্য উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মাঝে আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মাঝে ৮ দিন অতিবাহিত করেন। অতঃপর ১১ হিজরী সনের মহাসম্মনিত পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম মহান রফীকে আলা উনার সুমহান দীদার মুবারকে মিশে যান। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্বয়ং ইরশাদ মুবারক করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন আমার পবিত্র হুজরা শরীফ-এ। আমার পালার দিনে এবং আমার কোল মুবারকে। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূূর্ব মুহূর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং আমার নূরুল বারাকাহ মুবারক একত্রিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
একদা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, উনার পবিত্র হুজরা শরীফ-এ এক এক করে তিনখানা সম্মানিত চাঁদ মুবারক প্রবেশ করেছেন। এ স্বপ্নের ব্যাপারে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে জানান। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফ হওয়ার পর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, ওই তিনখানা সম্মানিত চাঁদ মুবারক উনাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ চাঁদ মুবারক হলেন ইনি। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাকী দু’খানা চাঁদ মুবারক হলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম। (ইবনে কাছীর)
খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের আমলে:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর হতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রচার-প্রসারে নিবেদিত থাকেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সম্পর্কে তা’লীম-তালকীনে তিনি ছিলেন সদা ব্যস্ত। তাছাড়া জটিল বিষয়গুলোর ফায়ছালা তিনিই দিতেন। ফিক্বহী যে কোনো মাসয়ালায় সকলেই যখন অপারগ হয়ে পড়তেন তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম অনায়াসেই সে বিষয়ে ফায়ছালা মুবারক প্রদান করতেন।

জঙ্গে জামাল:
তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদত মুবারক উনাকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় হজ্জের জন্য পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থানরত অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে মুনাফিকরা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে এলোমেলো মিথ্যা প্রপাগা-া শুনায়। উনাকে তারা বিভিন্ন সমালোচনা শুনায়। এমতাবস্থায় তিনি শরঈ কায়দায় ফায়ছালা করার লক্ষ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাতের জন্য অগ্রসর হন। তখন মুনাফিকরা উনার চতুর্পাশ্বে দলভারী করতে থাকে। অপরদিকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকেও তারা বিভিন্ন সমালোচনা শুনায়। তিনিও উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাক্ষাৎ করতে অগ্রসর হন। পথিমধ্যে উনারা যখন পরস্পর নিকটবর্তী হন তখন, মুনাফিকরা হামলা চালিয়ে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বলে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার লোকেরা হামলা চালিয়েছে। আবার খলীফা উনাকে বলে যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার লোকেরা হামলা চালিয়েছে। আর এভাবেই মুনাফিকরা যুদ্ধ বাঁধায়।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ও সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা যুদ্ধ বন্ধ করার জোর প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু মুনাফিকরা যুদ্ধের ভয়াবহতা আরো ত্বরান্বিত করে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা হিকমতপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অর্থাৎ মুনাফিকদের চক্রান্ত বানচাল করার লক্ষ্যে পরিশেষে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বহনকারী উটের পা কেটে ফেলা হয়। উট বসে পড়লে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে হাওদা মুবারকসহ নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে যুদ্ধ থেমে যায়।
এদিকে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ক্রন্দনরত অবস্থায় এসে বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম! আপনি আমাদের মা। আপনার সাথে কি আমাদের যুদ্ধ হয়? সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি অশ্রুসজল অবস্থায় বললেন, আমি তো এখানে যুদ্ধ করতে আসিনি। আমি এসেছি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাত মুবারকের ব্যাপারে আপনার সাথে আলোচনা মুবারক করতে। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আম্মাজান! এ বিষয়ে ফায়ছালা মুবারক নেয়ার জন্যই তো আমি এখানে এসেছি। আমিও তো যুদ্ধ করতে আসিনি। উনাদের পারস্পরিক আলোচনার কারণে মুনাফিকরা ধরা পড়ে। তাদের চক্রান্ত বানচাল হয়। যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
পরিশেষে উনারা দু’জনই এ যুদ্ধের জন্য অত্যধিক ব্যথিত ও মর্মাহত হন। উনারা দু’জন ঘোষণা দেন যে, আমাদের মাঝে পারস্পারিক কোনো বিদ্বেষ নেই এবং কখনোই ছিলো না। যা ঘটে গেলো তা মূলত মুনাফিকদের চক্রান্ত। অতঃপর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার ভাই হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাধ্যমে সীমাহীন তা’যীমের সাথে পবিত্র মদীনা শরীফ পৌঁছিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, জঙ্গে জামালের পর হতে পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি প্রায়ই জঙ্গে জামালের জন্য আফসুস করতেন, কান্না মুবারক করতেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার জন্য নেক দোয়া মুবারক করতেন। অপরদিকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এ যুদ্ধের জন্য প্রায়ই ভারাক্রান্ত হতেন। এমনকি তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণের পূর্বেও এ জন্য তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর এ বিষয়গুলোই প্রমাণ করে যে, উনাদের মাঝে বিন্দু পরিমাণ অসন্তোষজনক অবস্থান ছিলো না।
যা ৩৬ হিজরী সনের ১০ জুমাদাল উখরায় সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উটের হাওদায় বসে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করায় তা জঙ্গে জামাল বা উষ্ট্রের যুদ্ধ নামে খ্যাত। (শাজারাতুয যাহাব)
ইসলামী শরীয়তে উনার মুবারক অবদান:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বিছানা মুবারকে ওহী মুবারক নাযিল হতো। সঙ্গতকারণেই তিনি তাফসীর বিষয়ে বেমেছাল অবদান রেখেছেন। যেমন হজ্জ ও উমরার সময়ে সাফা-মারওয়া সায়ী করার ব্যাপারটি উনার তাফসীর মুবারক দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। (বুখারী শরীফ)
অপরদিকে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পুরো জিন্দেগী মুবারকই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। তথাপি মুহাদ্দিসগণ উনার থেকে মাত্র ২২১০ খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের অবকাশ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ফিক্বাহ, ফতওয়া, পত্রসাহিত্য, কাব্য সাহিত্য, আরবী সাহিত্য, চিকিৎসা, ইতিহাস, নসবনামা, কালাম শাস্ত্রসহ বিবাদমান যাবতীয় সমস্যার সমাধানে বেমেছাল নজির স্থাপন করেছেন। যা অন্য কারো সাওয়ানেহে উমরী মুবারকে দেখা যায় না।
দানশীলতা:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতি সম্পন্ন দানশীলা ছিলেন। হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সত্তর হাজার দিরহাম এক বসাতে দান করে চাদরের কোণা ঝেড়ে ফেলেন। সুবহানাল্লাহ! (আত তাবাকাত)
একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে এক লক্ষ দিরহাম হাদিয়া করা হলে রোযা অবস্থায় তিনি সব কিছুই দান করে দেন। অতঃপর ইফতারীর সময় দেখা গেলো ইফতারীর জন্য কিছুই রাখা হয়নি। সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল হুফফায)
তাছাড়া তিনি ৬৭ জন দাস-দাসী মুক্ত করেন।
বিছাল শরীফ
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ৫৮ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ১৭ রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুল আহাদ ৬৭ বছর বয়স মুবারকে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জানাযা নামায পড়ান। রাতেই উনার দাফন মুবারক সম্পন্ন করা হয়। উনার রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী উনার মধ্যে।
ক্বায়িম-মাক্বাম ও নকশা
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। যা বিভিন্নজন স্বপ্ন, কাশফ এবং রিয়াজত-মাশাক্কাতের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে সক্ষম হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা মুবারক শুরু হবে কিন্তু শেষ করার সীমানা কারোরই জানা নেই। তথাপি উনার শান মুবারকে হুসনে যন বিশুদ্ধ করতে, উনার সম্পর্কে জানতে, উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত হাসিল করতে, সর্বপোরি উনার মুবারক ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ এবং নেক দৃষ্টি ও নিসবত মুবারক হাসিলে বর্তমান সময়ে মহিলাদের জন্য উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম উম্মাকে এ ব্যাপারে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে