উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিব্যবসা বাণিজ্যে অদ্বিতীয়া এবং বিপুল ধন সম্পদের অধিকারীনী ছিলেন


পৃথিবীর ইতিহাসে তৎকালীন সময়ে সমগ্র আরব জাহানে যত বড় ব্যবসায়ী ও বণিক ছিল, তার মূল কেন্দ্র বিন্দু ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতাজান এবং টাকা পয়সায়, ধন-সম্পদে একমাত্র খ্যাতিসম্পন্ন, সুপরিচিত, এবং সম্মানিত একক ব্যক্তিত্ব। আর এই সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের একমাত্র খ্যাতিসম্পন্না, পুত-পবিত্রা কন্যা ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। উনার জ্ঞান-গরিমা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, সৌন্দর্যতা, বুদ্ধিমতিতা, ঐশর্য্যমণ্ডিতা, অপরূপ লাবণ্যতা, পুত-পবিত্রতা, অনুপম মুবারক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে লক্ষ্য করে সারা আরব জাহানের সবচেয়ে সম্পদওয়ালা ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুযোগ্য ব্যক্তিগণ স্বীয় পুত্রবধু হিসেবে উনাকে পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতার দ্বারে অপেক্ষমান ছিলেন।

সার্বিক দিক বিবেচনায় সুযোগ্য মনে করে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতাজান আবু হালা বিন নাববাশ-এর সঙ্গে উনাকে পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ করে দেন। কিছুদিন অতিবাহিত না হতেই আবু হালা মারা যান। পরে অপর এক সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত গোত্রের সুযোগ্য সন্তান আতিক বিন আবিদ উনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অতপর ফুজ্জার যুদ্ধে আতিক বিন আবিদ এবং উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা বিছাল শরীফ লাভ করেন। ফলে পিতার বিরাট এই ব্যবসা-বাণিজ্যের এবং সমস্ত ধন-সম্পদের সব কিছুই দেখা শুনা ও তদারকী নিজেকেই করতে হতো। কিন্তু ধন-সম্পদ এবং ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধি এতই ব্যাপক ছিল যে, তার যথাযথ তদারকী করা উনার একার পক্ষে খুবই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে গেল। তদুপরি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্যদ্রব্যসমূহ নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা পারিশ্রমিক দিয়ে বাণিজ্যের জন্যে সিরিয়ায় পাঠাতেন। আর এ রকম মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়ে আরো অন্যান্য ব্যবসায়ী ও বনিকগণ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পণ্য সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করতো। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাজান আবু তালিবও উনার পণ্যদ্রব্য নিয়ে সিরিয়ায় ব্যবসা করার জন্য যেতেন।
Islamic image
একদা আবু তালিব উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পণ্যদ্রব্য নিয়ে সিরিয়ায় যাওয়ার প্রাক্কালে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আমার প্রাণ প্রতীম ভাতিজাজান! আমাদের খান্দানের অনেকে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসার পণ্যদ্রব্য সিরিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানে ব্যবসা করে তারা অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছে এবং বিরাট লাভবান হচ্ছে। তাই আমারও ইচ্ছা যে আপনাকে অনেক সম্পদশালী রূপে গড়ে তুলতে। আর এ মুহূর্তে এ রকম কোনো ধন-সম্পদও আমার নেই যে, আপনাকে টাকা-পয়সা দিয়ে একটি উন্নত ব্যবসার ব্যবস্থা করবো। কাজেই যদি আপনি মনে কিছু না করেন তাহলে আমার সঙ্গে পণ্য নিয়ে সিরিয়ায় গেলে অনেক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আবেদন ও প্রস্তাব মুতাবিক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাই করলেন। আর অপর পক্ষে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পূর্বই থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ন্যায়-পরায়ণতা, উদারতা চরম ও পরম সাধুতা, সততা, সহিঞ্চুতা, নমনীয়তা, বিশ্বস্ততা এবং চারিত্রিক অনুপম বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর স্নিগ্ধতা যে, সারাবিশ্বকে বিমোহিত ও স্নিগ্ধ করে তুলে ছিলেন তা তিনি খুব ভালভাবেই জানতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোহবত পাওয়ার জন্য অধিক আগ্রহে দিন গণনা করছিলেন। এমনি মূহুর্তে ব্যবসায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কাছে পেয়ে বিমুগ্ধ হয়ে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং ব্যবসার পণ্য দিয়ে ঘোষণা করলেন যে, অন্যান্যদেরকে যা মুনাফা দেয়া হয় তার চেয়ে আপনাকে দ্বিগুণ মুনাফা দেয়া হবে।

শুধু তাই নয়, উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার একান্ত বিশ্বস্ত গোলাম হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে দিয়ে দিলেন। আর কোনো প্রকার যেন বেয়াদবীপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ আচরণ না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে ধন-সম্পদে সমগ্র আরব তথা গোটা জগতে ছিলেন অদ্বিতীয়া। তাই এই বিপুল ধন সম্পদের যথাযথ হিফাযতের ও সংরক্ষণের জন্য একজন যথার্থ উপযুক্ত রক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব উনাকে অন্তর মুবারকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলেন। এমনি যুগসন্ধিক্ষণে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল. নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ন্যায়পরায়ণতা, বিচক্ষণতা, সততা, দায়িত্বশীলতা, সৌন্দর্যতা, দয়াদ্রতা, পরোপকারিতা, পরম পুত-পবিত্রতা পরম বিশ্বস্ততা এবং জীবনের সার্বিক অনুপম গুণাবলীর স্নিগ্ধতা শুধু আরব জাহানেই নয় গোটা কুল-কায়িনাতকে বিমুগ্ধ ও বিমোহিত করে তোলে এবং অতি অল্প সময়ে আরবদের অন্তরের গভীর কোঠা থেকে ভক্তিপূর্ণ শ্রদ্ধাপূর্ণ “কণ্ঠস্বর” নূরে ‍মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আল্ আমীন তথা চরম ও পরম বিশ্বাসী মুবারক লক্ববে ভূষিত করেন। এই খোদায়ী মেহমান, আশিকে ইলাহী, মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাবতীয় অনুপম মুবারক চরিত্রও ঐশ্বর্যমণ্ডিত গুণাবলীতে বিমুগ্ধ হয়ে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিস্বীয় ব্যবসার যাবতীয় বিষয়ের রক্ষণাবেক্ষণের মুবারক দায়িত্ব পালনের জন্য পয়গাম মারফত সবিনয় আবেদন করেন এবং প্রস্তাব দেন যে, অন্যান্যদেরকে যে মুনাফা দেয়া হয় তার দ্বিগুণ মুনাফা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেয়া হবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতে মুবারক সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন, হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার একান্ত বিশ্বস্ত গোলাম হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সাথে দিয়ে দিলেন এবং বিশেষ খিদমতে থাকার জন্য মুবারক নির্দেশ দিলেন। তবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন নিপুনতা ও সুদক্ষতার সহিত সমস্ত পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করলেন, কিন্তু দেখা গেল যে, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বহুগুণে বেশি মুনাফা অর্জিত হল। যা আরব ব্যবসায়িক ইতিহাসে অদ্বিতীয়।

ইতোমধ্যেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্যতায় হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন। পথিমধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক অনেক অলৌকিক ঘটনা চাক্ষুস দেখতে পান। যা মানুষের জন্য অস্বাভাবিক ও অসাধারণ। তাছাড়া সিরিয়া যাওয়ার পথে একগাছের নিচে মুবারক বিশ্রামের সময় সেখানে এক রাহিব হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কে? জবাবে তিনি বলেন, তিনি হচ্ছেন মক্কা মুয়ায্যামার সুসম্মানিত অধিবাসী সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের একজন সম্ভ্রান্ত যুবক। ‘আল আমীন’ বলে সকলের নিকট তিনি সুপরিচিত। হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জবাব শুনে রাহিব বলে উঠলো তিনি অবশ্যই ভবিষ্যতে আখিরী নবী হবেন এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। উনার এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করার মূল রহস্য হলো, অতীতে আসমানী কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী সমস্ত মুবারক আলামতসমূহ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী চেহারা মুবারকে চমকাচ্ছিল বলেই।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে