উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার মামাতো ভাই হযরত অাবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে !


 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা উনার মামাতো ভাই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।ইসলামের একেবারে সূচনার দিনগুলোতে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশী নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে খুব বেশি তৎপর হয়ে উপরে ছিলেন। সে প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতায় কুরাইশী বেশকিছু নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছিলেন, তাদের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছিলেন। আশা ছিল তারা তারা হয়তো উনার ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলাম কবুল করবেন কমপক্ষে সাহাবীদের প্রতি নির্যাতন থেকে বিরত থাকবে।

এমন সময় সেখানে হাজির হলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহ।এসেই তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আকুতি জানিয়ে বললেন,
‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আল্লাহপাক আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে দয়া করে আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন’.।
এতে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক বিরক্তিতে মলিন হয়ে গেলেন।উনাকে উপেক্ষা করে তিনি কুরাইশ নেতাদের প্রতি মনোযোগ দিলেন।কারন, এই নেতারা ইসলাম গ্রহণ করলে দ্বীনের কাজ সহজ হবে।
নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার শেষ করার পরপরই উনার উপর ওহী নাজিলের আলামত ফুটে উঠল। কিছুক্ষণের মধ্যেই উনার উপর অবতীর্ণ হলেন সূরা আবাসা শরীফের ১৬ টি আয়াত।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার সম্পর্কে উক্ত ১৬ টি আয়াত শরীফ নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর নাজিল হয়।

সেই মুহূর্ত থেকে আজও পর্যন্ত আজ আয়াত শরীফ গুলো তেলাওয়াত চলছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত চলতেই থাকবে। সেদিন থেকে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বিশেষভাবে অভ্যর্থনা জানাতেন এবং উনাকে নিজের কাছে নিয়ে বসাতেন যখনই তিনি কোন মজলিসে হাজির হতেন।নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মদীনা শরীফ হিজরত করলেন, তখন তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম এবং হযরত বিলাল ইবনে রাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুয়াজ্জিন হিসেবে ঘোষণা করলেন। হযরত বেলাল রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যদি আযান দিতেন তাহলে ইবনে ইবনে উম্মে মাকতুম রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু একামত দিতেন। আবার কখনো ইবনে উম্মে মাকতুম আযান দিতেন আর বেলাল রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইকামতে দিতেন।

*হযরত ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম তিনি এবং হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-ই হলেন সর্বপ্রথম মদীনা শরীফ হিজরতকারী সাহাবী।
*হযরত ইবনে উম্মে মাকতূম এবং হযরত বেলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসলিমজাতির সর্বপ্রথম মুয়াজ্জিন হিসেবে ঘোষনা করেছিলেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে