‘উলামায়ে ছু’ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে ।


কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয় যে, এক লোকের শরীরে একটি বাগী বা ফোঁড়া হয়, সে চিকিৎসার জন্যে গ্রাম্য এক ডাক্তারের নিকট যায়। ডাক্তার চিকিৎসা হেতু লোহা গরম করে উক্ত বাগী বা ফোঁড়াতে দাগা দিয়ে দেয়। রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে চলে যায়, কিন্তু রোগীর অবস্থা ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ অবস্থা দেখে রোগীর আত্মীয়-স্বজন ডাক্তারের নিকট এসে বলে- হে ডাক্তার সাহেব! আপনি রোগীর কেমন চিকিৎসা করলেন যে, রোগী মরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আর আমরা এমন চিকিৎসাও কখনো দেখিনি যে, বাগী হলে লোহা গরম করে দাগা দিতে হয়। একখা শুনে ডাক্তার সাহেব রাগাম্বিত হয়ে বলে উঠে- কেন, আমি কি বই না পড়ে চিকিৎসা করেছি? কাজেই আমার চিকিৎসা ঠিকই আছে। তখন রোগীর লোকজন বললো- দেখিতো আপনি কোন্ ডাক্তারী বই দেখে চিকিৎসা করেছেন? ডাক্তার সাহেব বইখানা বের করে তাদেরকে দেখিয়ে বলে- দেখো এখানে লেখা আছে, “বাগী বা ফোঁড়া হলে লোহা গরম করে দাগা দিবে,” এখানে এসে পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যায়। আর উক্ত লেখার পরে কমা রয়েছে বিধায় লোকেরা বললো- পৃষ্ঠা উল্টাতে, কেননা এখানে কমা দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু হাতুরে ডাক্তার পৃষ্ঠা উল্টাতে নারাজ, তার মতে এটাই মূল বক্তব্য। অনেক অনুরোধের পর যখন ডাক্তার সাহেব পৃষ্ঠা উল্টালো তখন দেখলো, সেখানে লেখা রয়েছে- “রোগী যদি গরু হয়।” অর্থাৎ গরুর যদি বাগী বা ফোঁড়া হয়, তবে লোহা গরম করে দাগা দিবে।

অতএব, অর্ধেক পড়ে চিকিৎসা করা যেমন বিপদজনক তদ্রুপ দু’চারটা চটি রেসালা পড়ে ফতওয়া দেয়াও বিপদজনক। কাজেই কোন কথা বলতে হলে বা কোন ফতওয়া দিতে হলে তা ভালরূপে তাহ্ক্বীক্ব করে দিতে হবে, নচেৎ ভুল হওয়া এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আর এজন্যে ফার্সী ভাষায় একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে যে,
نيم حكيم خطر جان- نيم ملا خطر ايمان.

“আধা ডাক্তার জীবনের জন্যে হুমকী স্বরূপ। আর আধা মাওলানা ঈমানের জন্যে হুমকি স্বরূপ।”

সুতরাং সাবধান!

যার তার কাছ থেকে ফতওয়া নিয়ে আমল করা ঠিক হবে না ।
অর্থাৎ ‘উলামায়ে ছু’ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে