উলামায়ে সূ’রা বন্য প্রানীদের থেকেও অধম


একবার এক রাখাল তার বকরী চড়াচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ জঙ্গল হতে একটি বাঘ বাহির হয়ে আসল। রাখাল তার বকরী এবং বাঘের মাঝখানে ছিল। তখন বাঘটি তার লেজের উপর বসে রাখালকে বলল, তুমি কি মহান আল্লাহপাক উনাকে ভয় কর না? তুমি আমার এবং আমার রিযিকের মধ্যে অন্তরায় হয়েছ। এতে রাখাল বিস্ময়ের সাথে বলল, বাঘও কি মানুষের সাথে কথা বলে? এ যে, পরম বিস্ময়ের কথা, বাঘ বলল, উহার চেয়েও বড় বিস্ময় হলো নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হেরেম শরীফ উনার মধ্যস্থলে মানুষকে গায়েবের সংবাদসমূহ শুনাচ্ছেন। রাখাল এই কথা শুনে তার বকরীগুলিকে হাকিয়ে নিয়ে আসল। তারপর মদীনা শরীফে পৌছে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে গিয়ে বাঘের এইরূপ কথা উনার নিকট ব্যক্ত করলো। তিনি বললেন, বাঘ ঠিকই বলেছে। স্মরণ রেখো, হিংস্র প্রানীদের মানুষের সাথে কথা বলা ক্বিয়ামতের একটি নিদর্শন।সেই সত্তার কসম! যার করতলে আমার প্রাণ মুবারক। ক্বিয়ামত কায়েম হবে না,যতদিন না হিংস্র প্রাণীরা মানুষের সাথে কথা বলে। এমন কি মানুষের সাথে তার জুতার ফিতাও কথা বলবে। কেউ ঘর থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার পর তার ঘরের লোকেরা যে সকল কাজ করবে, ঐ ঘর তাকে সেই খবর জানিয়ে দিবে ।

সুবহানাল্লাহ্

বনের পশু-পাখিরা ঠিকই হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনেছে, কিন্তু আফসোস! উম্মত হয়েও কিছু নামধারী মুসলমান উনাকে চিনতে পারলো না। তারা বলে , উনি নাকি তাদের মত মানুষ।

অন্য একটি ঘটনা,

একদা হুযুর পাক ছল্ল্ল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় বনী সুলাইমের এক বেদুঈন ব্যক্তি একটি গুই সাপ নিয়ে সেখানে আসলো। লোকটি বললো, লাত ও ওযযার কসম ! আমি আপনার প্রতি তখন পর্যন্ত ঈমান আনবোনা, যে পর্যন্ত না এই গুই সাপটি আপনার উপর ঈমান আনে। তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে গুই সাপ! তুমি বলো, আমি কে? গুই সাপটি সকলের বোধগম্য আরবী ভাষায় বলে উঠলো, ‘ লাব্বাইকা ওয়া সা’দাইকা ইয়া রাসূলা রাব্বিল আলামীন’।

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কার ইবাদত করো?

গুঁই সাপটি জবাব দিলো-

‘আমি তারই ইবাদত করি, যাঁর আরশ আসমানে অবস্থিত।রাজত্ব দুনিয়ায় সুপ্রতিষ্ঠিত।পথ সমুদ্রের মাঝে।রহমত বেহেশতে এবং সাজা দোযখে বিদ্যমান।

অতঃপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বলো, আমি কে? সে বললো, আপনি মহান আল্লাহপাক উনার সর্বশেষ সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । যে আপনাকে সত্য নবীরূপে বিশ্বাস করে সে সফলতা লাভ করে। আর যে অবিশ্বাস করে সে ব্যর্থকাম হয় এরপর ঐ বেদুঈন দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলেন।

আল্লাপাক উনার যেমন সমকক্ষ কেউ নেই।তেমনি সৃষ্টিজগতের মধ্যে  খাতামুন নাবিইয়্যীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমকক্ষ কেউ নেই।

 

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বসা ছিলেন একদা। এমন সময় একটি বাঘ উপস্থিত হয়ে উনার সাথে কথা বলতে শুরু করলো। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমাদের নিকট বাঘের তরফ হতে এই প্রতিনিধি এসেছে। তোমরা ইচ্ছা করলে এদের জন্য কিছু ভাতা বাবদ নির্দিষ্ট করে দিতে পারো। সে তদপেক্ষা কিছু বেশি নিবে না। আর ইচ্ছা করলে এমনিই বিদায় দিতে পার। তবে এই অবস্থায় তোমাদের ভয়ের কারণ থাকবে। হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তিায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ! আমরা তার জন্য কোনকিছু নির্দিষ্ট করে দিতে চাই না। অতঃপর  হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনটি আঙ্গুল মুবারক দ্বারা বাঘের দিকে ইশারা করে তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে, তুমি উনাদের বকরী ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে। তখন বাঘটি ঐস্থান হতে মাথা নাড়তে নাড়তে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেল।

সুবহানাল্লাহ্

আল্লাহপাক তিনি উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত মেছালহীন বুলন্দ করেছেন। যা কোন বান্দা বান্দী কিয়ামত পর্যন্ত উপলব্ধি করতে পারবে না।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হচ্ছে ,তিনি শুধু আল্লাহপাক নন, তাছাড়া বাকি সব মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী। উনাকে নিজেদের মত মানুষ মনে করা  ঈমানহারা হয়ে জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে