‘উলুধ্বনি’কেও মূর্খরা হালাল বলতে চায়!!!


কিছু মূর্খ আছে বলে থাকে “শব্দের সঙ্গে ধর্মের কি সম্পর্ক? শব্দ একটি ভাষা আর ভাষা হলো সাহিত্য। এসব জাহিলরা আরও বলে- কা’বা শরীফে গিয়েও তো উলুধ্বনি দেয়া হয়।” নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
ভুলে গেলে চলবে না- ‘শব্দ’ অবশ্যই দ্বীন/ধর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ‘উলুধ্বনি’ শব্দও কেবল হিন্দুধর্মেরই শব্দ; যা মুসলমান ব্যবহার করতে পারেন না।
ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার সময় উলুধ্বনি দেয়। বিয়ে, পূজা-পার্বণ ছাড়াও প্রায় প্রতিটা আনুষ্ঠানিকতায় উলুধ্বনি দিয়ে মঙ্গল প্রার্থনা করে। এশিয়ার এ অঞ্চলের হিন্দু মহিলারা জিহ্বা কম্পায়নের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই শব্দটি মুখ থেকে বের করে থাকে, যাকে মানুষরা ‘উলুধ্বনি’ বলে জানে। একে ইংরেজিতে বলে টষঁষধঃরড়হ।
উলুধ্বনি কি?
‘উলুধ্বনি’ হলো হিন্দুদের ‘ওঁ’-কার ধ্বনি। ‘অ’-তে সৃষ্টি, ‘উ’-তে স্থিতি, ‘ম’-তে লয়। এই নাদ ধ্বনি ব্রহ্মতরঙ্গ অ,উ,ম-কে স্বরল হরিতে উচ্চারণ করেই উলুধ্বনি করা হয়। এই উলুধ্বনি হলো হিন্দুদের ‘মহাচৈতন্য’ শক্তির জাগরণ জয়ধ্বনি। তাই হিন্দুধর্মে এই ‘ওঁ’-কার জয়ধ্বনি উলুধ্বনি রূপে মাঙ্গলিক কাজে উচ্চারণ করা হয়।
এই ‘ওঁ’ শব্দ-এর কি ব্যাখ্যা?
হিন্দুধর্মের ব্যাখ্যা মতে-
(১). ‘ওঁ’ শব্দটি সংস্কৃত ‘অব’ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যা একাধারে ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রযোজ্য। এই ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ‘ওঁ’-কার এমন এক শক্তি; যা সর্বজ্ঞ, সমগ্র ব্রহ্মা-ের শাসনকর্তা, অমঙ্গল থেকে রক্ষাকর্তা, ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণকারী, অজ্ঞাননাশক ও জ্ঞানপ্রদাতা। [Hindu Symbols, Swami Harshananda, Ramakrishna Math, Bangalore, 2000, p.8]
ওঁ-কারকে ত্র্যক্ষরও বলা হয়, কারণ ওঁ তিনটি মাত্রাযুক্ত ‘অ-কার’, ‘উ-কার’ ও ‘ম-কার’। ‘অ-কার’ ‘আপ্তি’ বা ‘আদিমত্ত্ব’ অর্থাৎ প্রারম্ভের প্রতীক। ‘উ-কার’ ‘উৎকর্ষ’ বা ‘অভেদত্ব’-এর প্রতীক। ‘ম-কার’ ‘মিতি’ বা ‘অপীতি’ অর্থাৎ লয়ের প্রতীক। [মা-ুক্য উপনিষদ, ৮-১১ সংখ্যক শ্লোক]
হিন্দুদের অন্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় সংঘটনকারী ঈশ্বরের প্রতীক। [Hindu Symbols, Swami Harshananda, Ramakrishna Math, Bangalore, 2000, p.8]
(২). ওঁ বা ওম আসলে অ + উ + ম-এর একটি সংমিশ্রণ। এখন এই অ, উ, আর ম-এর প্রতিনিধিত্বকারী দেবতা কারা?
ব্যাখ্যা-১: হিন্দুধর্ম মতে, অ:- ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), উ:- বিষ্ণু (রক্ষাকর্তা), ম:- শিব (ধ্বংসকর্তা)। [তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, ২০০৩ সংস্করণ, বাংলা একাডেমী; ভুক্তি: ওঁ,ওম,ওঙ্কার; পৃষ্ঠা ১৯৬।]
ব্যাখ্যা-২: হিন্দুধর্মের আরেক মতে, অ:- বিষ্ণু, উ:- শিব, ম:- ব্রহ্মা। [তথূস্যত্র: যার যা ধর্ম (ধর্মতাত্ত্বিক অভিধানকোষ), মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সংস্করণ, ঐতিহ্য; ভুক্তি: ওঙ্কার,ওম,ওঁ; পৃষ্ঠা ১২০।]
মুসলমানরা হজ্জে গিয়ে “লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারীকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়া নি’মাতা, লাকা ওয়াল মূলক, লা শারীকা লাকা…’ এ গগনবিদারী আওয়াজ ধ্বনিতে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে উপস্থিতি জানান, উলুধ্বনি নয়। আর কোনো জাহেল ব্যক্তি পবিত্র কা’বা শরীফে গিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলামের খিলাফ কিছু করলে তা কি ইসলামের বিধান হয়ে যাবে?

Views All Time
1
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে